হতাশ বাংলাদেশ ক্যারিবীয়দের নিয়ন্ত্রণে সিলেট টেস্ট

হতাশ বাংলাদেশ ক্যারিবীয়দের নিয়ন্ত্রণে সিলেট টেস্ট

ফন্ট সাইজ:

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নতুন বল হাতে নিয়ে বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতে ক্যারিবীয়দের ওপর চাপ তৈরি করেন। ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের পাঁচ নম্বর ওভারে দলীয় ১৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় সফরকারীরা। পেসার তাসকিন আহমেদ ব্র্যান্ডন কিংকে ৯ রানে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান। পরের ওভারে হাসান মাহমুদ কেভেম হজকে এক রানে বোল্ড করেন। এরপর নয় নম্বর ওভারের চার নম্বর বলে জশুয়া ডা সিলভাকে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন তাসকিন। ডা সিলভা ১২ রান করে আউট হন। মাত্র ২৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল চাপে পড়ে। তবে দিনের শুরুর মতো শেষটি থাকেনি। সিলেট টেস্টের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় ক্যারিবীয়ান ব্যাটাররা। চার নম্বর উইকেটে তারা ঘুরে দাঁড়ায়। আমির জাঙ্গু ও কেভিন উইকহ্যাম মিলে ১৩১ রানের জুটি গড়েন। দিনের তিন নম্বর সেশনে আলোকস্বল্পতার কারণে আম্পায়াররা বিকাল চারটা আট মিনিটে খেলা বন্ধ করেন। পরে আর খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি। আম্পায়াররা প্রথম দিনের খেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭০ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ২৩৫ রান সংগ্রহ করে। ম্যাচের প্রথম দিনে ২০ ওভার খেলা কম হয়।

ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে পরিবর্তন আসে। জন ক্যাম্পবেল ও তেজনারাইন চন্দরপল জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দলের বাইরে চলে যান। এর ফলে জশুয়া ডা সিলভা টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ওপেনিংয়ে নামেন। ইনিংসের শুরুতে মাত্র ২৭ রানে তিনটি উইকেট পতনের পর উইকহ্যাম ও জাঙ্গু দলের হাল ধরেন। উইকহ্যাম মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর থেকে দ্রুত রান তুলতে থাকেন। তিনি উইকেটে থিতু হয়ে ১২৩ বল খেলে নিজের ৫০ রান স্পর্শ করেন। অন্যদিকে জাঙ্গুও সমান তালে রান তুলতে থাকেন। দলীয় ১৫৮ রানে উইকহ্যাম আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান। ইনিংসের ৫১ নম্বর ওভারের প্রথম বলে তাকে বোল্ড করেন হাসান মাহমুদ। উইকহ্যাম ১৪৫ বল খেলে ৬১ রান করেন। তার ইনিংসে পাঁচটি চারের মার ছিল। উইকহ্যামের বিদায়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল তাদের চার নম্বর উইকেট হারায়। এই উইকেট পতনের পর জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রেভস জুটি বাঁধেন। তারা দুজন মিলে পাঁচ নম্বর উইকেটে অবিচ্ছিন্ন থেকে ৭৭ রান যোগ করেন। প্রথম দিনের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত এই জুটি ক্রিজে অপরাজিত। ব্যাট করতে নেমে দলের প্রথম ধাক্কা সামলাতে জাঙ্গু এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাটিং চালিয়ে যান। তিনি দিনের তিন নম্বর সেশনে নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এটি ছিল তার টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। দিন শেষে জাঙ্গু ১৭১ বল মোকাবেলা করে ১১১ রান নিয়ে উইকেটে অপরাজিত আছেন। তার এই ইনিংসে ১১টি চার ও দুটি ছক্কার মার ছিল। তিনি দিনের দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে তাসকিনের বলে পুল শট খেলেন। এরপর নাঈমের বলে মিডউইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান। এই ছক্কার মাধ্যমে তিনি তিন অঙ্কের রান স্পর্শ করেন। সঙ্গী উইকহ্যাম আউট হওয়ার পর জাঙ্গু ও গ্রেভস দলের হাল ধরেন। অন্য প্রান্তে গ্রেভস ৬২ বল খেলে ৩৫ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। জাঙ্গু ও গ্রেভসের জুটির ওপর ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল
২০০ রানের গণ্ডি পার হয়। তারা ইনিংসের ৬০ ওভার শেষে দলীয় ২০০ রান স্পর্শ করে। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৬ ওভারে তিনটি উইকেট হারিয়ে ৮৬ রান তুলেছিল।

চা পানের বিরতির সময় ক্যারিবীয় দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় চার উইকেটে ১৮০ রান। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে প্রথম দিনে শুধু পেসাররা উইকেট পেয়েছেন। দলের স্পিনাররা বল হাতে একটিও উইকেট পাননি। তাসকিন ১৪ ওভার বল করে ৬১ রান দেন এবং গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট নেন। দলের আরেক পেসার হাসান মাহমুদ ১৪ ওভার বল করে ৫৮ রান খরচ করেন। তিনি একটি ওভার মেইডেন নেন এবং তার শিকার দুটি উইকেট। স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ১৮ ওভার বল করে ৪২ রান দেন। তিনি দিন শেষে কোনো উইকেট পাননি। বাংলাদেশ দলের বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ১৬ ওভার বল করেন। তিনি দুটি ওভার মেইডেন দিলেও দিন শেষে খরচ করেছেন ৪৫ রান। দলের আরেক স্পিনার নাঈম হাসান আট ওভার বল করে ২৭ রান খরচ করেন। দিন শেষে তিনিও কোনো উইকেট পাননি। পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পর স্পিনাররা কোনো উইকেট তুলে নিতে ব্যর্থ হন।