২৩ বছরের খরা কাটানোর মিশন বাংলাদেশের

২৩ বছরের খরা কাটানোর মিশন বাংলাদেশের

ফন্ট সাইজ:

২০০৩ সালে সর্বশেষ দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০০৫ সালে ফাইনালে উঠলেও ট্রফি ছোঁয়া হয়নি। দীর্ঘ ২৩ বছরের শিরোপা খরা। ঘরের মাঠে আট বছর পর সাফ। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে এবার শিরোপা জয়ের বড় সুযোগ। সেই আক্ষেপ ঘোচাতে এবার আত্মবিশ্বাসী স্বাগতিকরা। কোচ থমাস ডুলি ও নতুন অধিনায়ক তপু বর্মণের বিশ্বাস, দলীয় সমন্বয়, আত্মবিশ্বাস আর শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ের মানসিকতা থাকলে এবার ট্রফি জেতা সম্ভব। আজ জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে সাফের ১৫তম আসর। রাত ৮টায় দিনের দ্বিতীয় ম্যাচেই মাঠে নামবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ভুটান। যদিও প্রথম ম্যাচে হামজা চৌধুরীকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। ১১ই নভেম্বর একই সময়ে গ্রুপপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের দল। ওই ম্যাচের আগেই দলের সঙ্গে যোগ দেবেন ইংলিশ ক্লাব লেস্টার সিটির এই ফুটবলার। হামজা ছাড়াই জয়ের জন্য মুখিয়ে আছে বাংলাদেশ।

২৩ বছর। সময়টা কম নয়। বাংলাদেশের ফুটবলে এই সময়ের মধ্যে কত পরিবর্তন এসেছে। কত খেলোয়াড় এসেছেন, গেছেন। বদলেছে কোচ, বদলেছে অধিনায়ক। কিন্তু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফিটা আর ছুঁয়ে দেখা হয়নি বাংলাদেশের। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটানোর স্বপ্ন এবার ঘরের মাঠে। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই সেই স্বপ্নের কথা শুনিয়েছেন জাতীয় ফুটবল দলের কোচ টমাস ডুলি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে শিরোপা জয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করে ডুলি বলেন, ‘জীবনের সব লক্ষ্যই বাস্তবসম্মত হতে হবে। টুর্নামেন্টে আমাদের জয় পাওয়াটা বাস্তবসম্মত। গত ২৩ বছরের চাপ আসলে বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। এখন আমাদের ভালো করার মতো আত্মবিশ্বাস আছে। কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়াইয়ের মাধ্যমেই এটা সম্ভব। আমরা এ বছর ট্রফিটা জিততে চাই এবং মাঠে তা প্রমাণ করতে চাই।’ সাফের আগে সর্বশেষ ফিফা উইন্ডোতে কোনো প্রীতি ম্যাচ খেলেনি বাংলাদেশ। দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের চোটের কারণে ঝুঁকি নিতে চাননি ডুলি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘টুর্নামেন্টের আগে পর্যাপ্ত প্রীতি ম্যাচ না পাওয়ার পেছনে আমাদের কিছু ইনজুরি সমস্যা ছিল। তপুসহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় পুরোপুরি ফিট না থাকায় আমরা ঝুঁকি নিতে চাইনি। তবে খেলোয়াড়দের ওপর আমার শতভাগ বিশ্বাস আছে। মাঠে নিজেদের সেরাটা দিয়ে ১১ জন মিলে লড়তে পারলে জেতার বাস্তবসম্মত সুযোগ রয়েছে।’ ফিফা উইন্ডো শুরু হবে ৯ নভেম্বর। তাই ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন না বাংলাদেশের তারকা মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। তার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা, মাঠে সতীর্থদের দিকনির্দেশনা এবং অনুপ্রেরণা জোগানোর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটি জানেন ডিফেন্ডার তপু বর্মণও। হামজাকে মিস করবেন, তবে জয় দিয়ে তাকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় নতুন অধিনায়ক। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘হামজাকে অনেক মিস করবো। তার মতো নেতৃত্ব আমাদের দলে খুবই প্রয়োজন। সে যেভাবে আমাদের গাইড করে, সেটা বিশেষ কিছু। তবে আমরা আগে থেকেই জানি, সূচির কারণে প্রথম ম্যাচে তাকে পাবো না।

আমাদের কাজ হবে পথটা তার জন্য সহজ করে দেয়া, অর্থাৎ ভুটানের বিপক্ষে জেতা। সে যেন জয়ী দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারে, আমরা সেটাই চাই।’ জামাল ভূঁইয়ার বদলে তপুকে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নও উঠেছে। ডুলির ব্যাখ্যা, রক্ষণভাগের একজন খেলোয়াড় অধিনায়ক হলে পেছন থেকে পুরো দলকে সংগঠিত করা সহজ হয়। সেন্টারব্যাক হিসেবে তপুর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের ওপরও আস্থা আছে তার। তবে অধিনায়কের আর্মব্যান্ডকেই নেতৃত্বের একমাত্র মাপকাঠি মনে করেন না ডুলি। তার মতে, দলে একাধিক নেতা থাকা জরুরি। হামজাও নেতৃত্ব দিতে পারেন। কেউ চোটে পড়লে অন্য কেউ দায়িত্ব নেবেন, এটাই চান কোচ। তপুকে দলে ফিরে পেয়ে স্বস্তিতে ডুলি। এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে তাকে মিস করেছেন বলে জানিয়েছেন কোচ। এবার অনুশীলনে পুরোপুরি প্রস্তুত তপু। ভুটান ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে। অধিনায়ক তপু বর্মণের কণ্ঠেও শিরোপা জয়ের আত্মবিশ্বাস। ঘরের মাঠে দর্শকদের প্রত্যাশা ও বাড়তি চাপকে প্রেরণা হিসেবে নিতে চান এই ডিফেন্ডার। তার মতে, ২০০৩ সালের পর এবারই শিরোপা জয়ের সবচেয়ে ভালো সুযোগ বাংলাদেশের। তপু বলেন, ‘অবশ্যই নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করবো।

বিশেষ করে রক্ষণভাগ থেকে পুরো দল ও গোলরক্ষককে সহযোগিতা করতে চাই। আমার মনে হয়, ঘরের মাঠে সাফ খেলার এর চেয়ে ভালো সময় আমরা আর পাবো না। ২০০৫ সালে দলের সঙ্গে বর্তমান দলের অনেক পার্থক্য রয়েছে। সেই বিবেচনায় আমাদের সম্ভাবনাও বেশি। সবাই সম্মিলিতভাবে ভালো খেলতে পারলে এবং দলীয় সমন্বয় ধরে রাখতে পারলে ভালো কিছু সম্ভব।’ গ্যালারিভর্তি দর্শকের প্রত্যাশা যে দলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে, সেটি স্বীকার করেন তপু। তবে সেই চাপ সামলে ইতিবাচক ফল বের করে আনতে চান তিনি। তপু বলেন, ‘অবশ্যই চাপ আছে। তবে আমার মনে হয়, যেখানে চাপ থাকবে, সেখান থেকেই ভালো ফল বেরিয়ে আসবে। ফুটবলপ্রেমীরা আমাদের কাছে কী চান, সেটা বুঝতে হবে। তাঁদের প্রত্যাশা আসলে ম্যাচ জেতা এবং ট্রফি জয় করা।’ এদিকে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ১১ ধাপ পিছিয়ে থাকলেও ভুটানকে সহজ প্রতিপক্ষ ভাবার সুযোগ নেই।

দলটি সম্প্রতি ব্রুনেইকে ২-১ গোলে হারিয়েছে। যদিও কম্বোডিয়ার কাছে ৪-০ গোলে হারের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাদের। অধিনায়ক চেনচো গিয়েলৎসেনের অভিজ্ঞতা ভুটানের জন্য বড় সম্পদ। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণকে পরীক্ষায় ফেলতে চাইবে তারা। সব মিলিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর মঞ্চ প্রস্তুত। নিজেদের মাঠ, চেনা দর্শক আর শিরোপা জয়ের প্রত্যাশা- সবই আছে বাংলাদেশের। এখন সেই প্রত্যাশাকে মাঠের পারফরম্যান্সে রূপ দিতে পারলেই ২৩ বছরের আক্ষেপ ঘুচবে।