প্রধানমন্ত্রীর আগমনে খুলনায় উৎসবের আমেজ

প্রধানমন্ত্রীর আগমনে খুলনায় উৎসবের আমেজ

ফন্ট সাইজ:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফরকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীসহ পুরো খুলনাবাসীর মাঝে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। তবে, বরাবরের মতো তোরণ, ব্যানার কিংবা প্ল্যাকার্ড দিয়ে শহর ঢেকে ফেলার প্রথা ভেঙে এবার এক ভিন্নধর্মী দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চলেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। আজ বৃহস্পতিবার নেতাকে বরণ করে নিতে জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জার বদলে পুরো শহরকে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দিনরাত কাজ করে চলেছেন তারা।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে মহানগর ও জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো গ্রহণ করেছে ব্যাপক প্রস্তুতি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিদিনই চলছে দফায় দফায় মিটিং, বর্ধিত সভা ও মতবিনিময়। নেতাদের মূল লক্ষ্য অপ্রয়োজনীয় ব্যানার- ফেস্টুন ও তোরণ নির্মাণ না করে পুরো পথজুড়ে ডিসিপ্লিন বা শৃঙ্খলার এক অনুপম দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা। দেয়ালে দেয়ালে শোভা পাচ্ছে নানা রঙের চিত্রাঙ্কন। রয়েছে কবি নজরুল ইসলাম, শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়ার ছবি। সঙ্গে রয়েছে সুন্দরবনের বাঘ-হরিণ সহ নানা জীববৈচিত্র্যের আঁকা ছবি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি যৌথভাবে সর্বকালের সর্ববৃহৎ ও স্মরণকালের সেরা সংবর্ধনা দেয়ার সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। রূপসার কুদির বটতলা থেকে শুরু করে রূপসা বাইপাস সড়ক হয়ে শেরে বাংলা রোড দিয়ে পাওয়ার হাউজ মোড় ঘুরে জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সুদীর্ঘ সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে, অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও মার্জিত পরিবেশে অবস্থান নেবেন খুলনাঞ্চলের লাখো নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। প্রিয় নেতাকে রাজকীয় বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন খুলনাবাসী।

খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবি’র পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, কুদির বটতলা থেকে শুরু করে রূপসা বাইপাস হয়ে জেলা স্টেডিয়ামমুখী পুরো পথজুড়ে খুলনাবাসীর যে পুষ্পবৃষ্টি ও অভিনন্দনের জোয়ার বইবে, তা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শৃঙ্খলা রক্ষা ও যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে সব ধরনের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তোরণ-ব্যানার দিয়ে শহর না ঢেকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব খুলনা গড়ার বার্তা নেতাকর্মীরা দিয়েছেন, তা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে। বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি রোববার রাত থেকে বিরামহীন নেতাকর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় মতবিনিময় সভা করে যাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ও উদ্বোধন প্রসঙ্গে তিনি জানান, খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হবে। দ্বিতীয় আসরে অংশগ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে দেশের প্রায় ১৬ লাখ ২৩ হাজার তরুণ-তরুণী রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন (প্রথম আসরে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার)। নিবন্ধিত প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে ৪,৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১৪ লাখ ক্রীড়াবিদ এই বিশাল ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন।

এদিকে বুধবার দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেসব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বলেন, নতুন কুঁড়ির আয়োজনের মাধ্যমে আগামীতে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তরুণদের সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারলে তারা বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে তুলে ধরতে পারবে। নতুন কুঁড়ির উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর এই প্রথম খুলনা সফরকে কেন্দ্র করে খুলনার মানুষের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আশা করা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে সারা দেশের মতো উন্নয়নের জোয়ার খুলনায়ও শুরু হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে আমাদের বন্ধ মিলগুলো খুলে দিয়ে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। খুলনাঞ্চলে শিল্পায়ন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সেক্টরের উন্নয়নেও তিনি ব্যবস্থা নিয়েছেন। মোংলা বন্দরের উন্নয়নের সঙ্গে খুলনার উন্নয়ন জড়িত এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্দরটির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছেন। অতীতে খুলনা ‘স্পোর্টস সিটি’- হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই ঐতিহ্য আমাদের আবার ফিরিয়ে আনতে হবে।

প্রেসব্রিফিংয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান জানান, ‘নতুন কুঁড়ি’র দ্বিতীয় আসরে অংশ নেয়ার জন্য ইতিমধ্যে প্রায় ১৬ লাখ ২৩ হাজার অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে প্রথম আসরে রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যা ছিল মাত্র ১ লাখ ৬৮ হাজার। এবারের আসরে মোট ১০টি ইভেন্ট থাকছে।

এর আগে সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খুলনা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, কেডিএ’র চেয়ারম্যানসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, কেডিএ’র চেয়ারম্যান এসএম শফিকুল আলম, মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন প্রমুখ।