যেটা চাইনি সেটা নিয়ে এত কথা কেন?

যেটা চাইনি সেটা নিয়ে এত কথা কেন?

ফন্ট সাইজ:

বিএনপি’র সমর্থক হওয়া মানেই আমি রাজনীতিবিদ, নির্বাচন করতে চাই কিংবা সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্ন দেখি- এমনটা কেন ধরে নেয়া হয়, বুঝি না। আমি কখনো সংসদ সদস্য হতে চাইনি, সংরক্ষিত আসনেও আমার কোনো আগ্রহ ছিল না। কাউকে কখনো এমন ইচ্ছার কথাও বলিনি- এমন কথাই গতকাল ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্‌সি। তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কেউ কেউ বলতে শুরু করলেন, বিএনপি ন্যান্‌সিকে মূল্যায়ন করলো না, সংরক্ষিত আসনে ডাকলো না। আমাকে ভালোবেসে তারা কথাগুলো বলছেন, সেটা বুঝি। কিন্তু আমি যা কখনো হতে চাইনি সেটা আমাকে না দেয়ার অভিযোগ দলের প্রতি কেন? এ বিষয়টি নিয়ে হঠাৎ কেন পোস্ট?- এ বিষয়ে জানতে চাইতে গতকাল মুঠোফোনে ন্যান্‌সি মানবজমিনকে বলেন, আমি বুঝি না, যেটা চাইনি সেটা নিয়ে এত কথা কেন? কখনো কোনো পদের জন্য দলের সমর্থন করিনি।

কোনো পদে আমাকে যদি যোগ্য মনে করা হয়, আমি অবশ্যই সেখানে কাজ করতে চাইবো। কিন্তু সেটা কোনো তদবিরে নয়। তিনি বলেন, আমাকে মানুষ শিল্পী ন্যান্‌সি হিসেবে চেনে, ভালোবাসে- এটাই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। অন্য কোনো প্রাপ্তি নিয়ে ভাবিনি কখনো। ন্যান্‌সি নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, চার মাস আগে এসএসএফের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যাই। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আমার সম্মানী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। আমি দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলাম। ভেবেছিলাম সম্মানীর কথা বলবো না। কিন্তু দ্বিতীয়বার আবার আমাকে কল করে সম্মানীর কথা জানতে চাওয়া হয়। তখন আমি জাস্ট একটা টেক্সটে জানাই। আমার প্রাপ্য পুরো সম্মানী অনুষ্ঠানের ক’দিন আগেই আমার বাসায় পৌঁছে দেয়া হয়। অথচ গত সরকারের আমলে ফজলে নূর তাপস ও সাবেক মেয়র আনিসুল হকের অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রাপ্ত সম্মানী না পাওয়ার অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে।

যাই হোক, এসএসএফের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সামনে বালাম ভাই ও আমি গান করি। অনুষ্ঠানে বালাম ভাই প্রধানমন্ত্রীকে স্টেজে আসার আহ্বান জানালে সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মঞ্চে আসেন। আমার গান শেষ হলে তিনি স্টেজে আসেন। কথা বলেছেন আমার গাওয়া গান নিয়ে ও নিজের স্মৃতির কথা বলেছেন। সংস্কৃতি অঙ্গনের কিছু সমস্যা ও পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আমার কথা শুনেছেন। অভিজ্ঞতাটি আমার কাছে বিশেষ ছিল। অথচ সেই ছবিগুলো আমি ফেসবুকে প্রকাশ করিনি। প্রকাশ করলেই বলা হবে, এখন তো ন্যান্‌সির সময়, এখন তো সে সব পেয়ে যাবে! আমার রাজনৈতিক ভালোবাসা বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সবাইকে দেখিয়ে প্রমাণ করার প্রয়োজন আমি অনুভব করিনি।