প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন রাজপথের একজন খাঁটি যোদ্ধা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ‘খোকা ছিলেন রাজপথের একজন খাঁটি যোদ্ধা। তিনি কম হাসতেন, কিন্তু তার কথা-বার্তা ও আন্তরিকতা মানুষকে সহজেই কাছে টেনে নিতেন। তিনি অত্যন্ত সহজ-সরল ও বড় মনের মানুষ ছিলেন।’
বুধবার রাজধানীর গোপীবাগে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। সভা শেষে প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন বক্তব্য দেন।
নিজেদের শৈশব, কৈশোর ও রাজনৈতিক জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি শাহজাহানপুরের এবং খোকা গোপীবাগের বাসিন্দা ছিলেন। পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দা থেকে কখন যে তারা একে অপরের সঙ্গী ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হয়ে উঠেছেন, তা বুঝতে পারেননি। মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা সবখানেই তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন।
তিনি বলেন, খোকা এবং আমার জীবনের নানা ঘটনা নিয়ে যদি লিখতে বসি, তবে আস্ত একটি বই হয়ে যাবে। রাজনীতিতে আমাদের মতপার্থক্য কিংবা ঝগড়াও হতো, কিন্তু দিনশেষে আমরা বিএনপির আদর্শ ও মানুষের জন্য একসঙ্গে কাজ করেছি।
আবদুস সালাম বলেন, সাদেক হোসেন খোকা শুধু ঢাকা মহানগরী নয়, সারা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন। তিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের মধ্য দিয়ে পাওয়া স্বাধীন দেশে ঢাকার অন্যতম মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন খোকা।
ইশরাক হোসেন বলেন, তার বাবা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা রেখেছিলেন। তার সন্তান হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অতীতেও আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। ভবিষ্যতেও তার নির্দেশনা ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাজ করে যাবেন।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত হওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইশরাক বলেন, তার বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে সবাই উপস্থিত হয়ে দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে তাকে স্মরণ করেছেন। এ জন্য তিনি ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নবীউল্লাহ নবী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহীন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।
