রাজধানীর মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সদস্য এমনটাই দাবি পুলিশের।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে সংঘর্ষের সময় মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের আশপাশ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা পোশাকশ্রমিক কি-না জানতে চাইলে আন্দোলনরতশ্রমিকরা জানান, পোশাকশ্রমিকরা কোনো সংঘর্ষে জড়ায় নাই। অন্য কোনো পক্ষ আমাদের ভেতরে ঢুকে তারপর এই সংঘর্ষ সৃষ্টি করেছে। আমরা পুলিশের উপর কোনো হামলা করিনি। অন্য কোনো পক্ষ আমাদের ভেতরে ঢুকে তারাই মূলত পুলিশের উপর হামলা করেছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছি।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আমরা পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তারা পুলিশের উপর হামলারত অবস্থায় ছিল। তারা কোনো পোশাকশ্রমিক না। তারা আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের সদস্য বলে আমরা প্রথমে আইডেন্টিফাই করেছি। তাদেরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের আমরা প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছি। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। সেই সঙ্গে যান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে এ বিষয়ে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (পিওএম-দক্ষিণ) মোহাম্মদ তৌহিদুল আরিফ বলেন, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে দুষ্কৃতকারীরা অনুপ্রবেশ করেছে। শ্রমিকনেতারা গতকাল বলেছেন, শ্রমিকেরা এ আন্দোলন থেকে সরে আসবেন। এরপরও যারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন, তারা কোনোভাবেই শ্রমিক নন, বরং দুষ্কৃতকারী। সুতরাং যারা এখন আন্দোলনে নামবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রমিকরা মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তাদের সরিয়ে দিতে চাইলে বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছোড়ে। দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এ সময় শ্রমিকেরা সড়কে বেঞ্চসহ কাঠ জড়ো করে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে।
