রোববার লন্ডনে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশি ক্যাটারিং ও কারি শিল্পের বৃহৎ সংগঠন ''বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন (বিসিএ) -এর ১৯ তম আ্যওয়ার্ড অনুষ্ঠান ২০২৬ ও নৈশভোজ । লন্ডনের একটি বিলাসবহুল হলে আয়োজিত এ আ্যওয়ার্ড অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন বৃটিশ এমপি, হাইকমিশনার সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রেস্টুরেন্ট ও হসপিটালিটি পেশাজীবী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী নেতা, কমিউনিটি প্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট অতিথি এবং শুভানুধ্যায়ীরা। টানা ১৯ বছর ধরে বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস বৃটিশ বাংলাদেশি ক্যাটারিং ও হসপিটালিটি শিল্পের সাফল্য ও অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি মর্যাদাপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে আসছে। প্রায় ১২ হাজার ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টের প্রতিনিধিত্বকারী এ সংগঠন সেরা রেস্টুরেন্ট, সেরা সেফ সহ নানা ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে। ''বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন (বিসিএ) -এর দাবি ১৯তম বছরে পদার্পণ বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই অ্যাওয়ার্ডস শুধু ব্যক্তিগত অর্জনকে স্বীকৃতি দেয় না; বরং এমন একটি শিল্পের দীর্ঘ যাত্রাকেও তুলে ধরে, যা ব্রিটেনের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ও হসপিটালিটি ব্যবসাগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, স্থানীয় কমিউনিটিকে সহযোগিতা করেছে, বিভিন্ন শহরের বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোকে প্রাণবন্ত রাখতে ভূমিকা রেখেছে এবং যুক্তরাজ্যের কোটি কোটি মানুষের কাছে দক্ষিণ এশিয়ার সমৃদ্ধ খাবার ও সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরেছে। ২০২৬ সালের বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস এসব অর্জনকে তুলে ধরার পাশাপাশি শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দিকেও আলোকপাত করবে।
তবে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বিভিন্ন সময় আয়োজিত অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান নিয়ে মন্তব্য করেছেন বৃটেনের অন্যতম স্যাটেলাইট টেলিভিশন ''চ্যানেল এস'-এর সত্ত্বাধিকারী ও কমিউনিটি ব্যাক্তিত্ব মাহি জলিল। তাঁর মন্তব্যের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেখা যায়। অ্যাওয়ার্ড অনুঠানে আগত সাংবাদিক ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান নিয়ে মাহি জলিল বলেন , ''৯৯.৯% সাংবাদিকদের দাওয়াত না দিলে তারা গিয়ে কাভার করবে না (অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের নিউজ করবে না ) এর জন্য সবগুলো এসে ফ্রী খাওয়া দাওয়া করেন। কেউ কেউ বউ -বাচ্চাও নিয়ে আসেন কারণ এদের বাড়িতে ভাত নেই। এসময় অ্যাওয়ার্ড অনুঠান নিয়ে তিনি বলেন, এসব অনুষ্ঠানে আমরা এসে দেখি, এদের কারবার হলো এরা টকা দিয়ে অ্যাওয়ার্ড কিনে, এগোলো এই ইন্ডাস্ট্রীকে নষ্ট করা ছাড়া আর কিছু না। সবার উদ্দেশ্যে মাহি জলল আরো বলেন , আপনাদের আমার কথা ভালো লাগে না এর কারণ হলো আপনারা বাস্তবতা মেনে নিতে পারেন না।
আবারো সাংবাদিকদের উদেশ্যে তিনি বলেন, আমরা যে সেঞ্চুরিতে বড় হয়েছিসে সময় রাস্তায় কেউ আহত হলে আমরা ধরে তাঁদের আগে চিকিৎসা করতাম আর এখন আপনারা রাস্তায় কেউ অসুস্থ হলে ক্যামেরা বের করে আগে ভিডিও করেন, চিন্তা করেন কিভাবে ভাইরাল হওয়া যায়।
মাহি জলিলের এমন বক্তব্যের বিষয়ে বিসিএ নেতাদের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে মানবজমিন-এর পক্ষ থেকে বিসিএ প্রেসিডেন্ট অলি খাঁন এমবিই-এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পরিচয় জানতে পেরে পরে ফোন করছি বলে লাইন কেটে দেন।
তবে আরো বিস্তারিত জানতে মাহি জলিলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গতকাল অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান ও সাংবাদিকদের নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছি তা আমার ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে নয়, কমিউনিটির স্বার্থে বলেছি। যে কারণে বিসিএ গঠন করা হয়েছে তাঁর কিছুই হচ্ছে না। বিসিএ- তে অনেক অনিয়ম হচ্ছে যা বাংলাদেশি কমিউনিটি ও কারী ইন্ডাস্ট্রির জন্য উদ্বেগজনক। অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান এখন শুধু ছবি তোলার জন্যে, 'বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন (বিসিএ) শুধু অর্থের বিনিময়ে অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান করার জন্যে নয়, এই সংগঠনের কাজ হচ্ছে কারী ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচানো। প্রতিনিয়ত রেস্টুরেন্ট বন্ধ হচ্ছে, প্রতিনিয়ত দক্ষ শেফ সহ স্টাফ সংকট তৈরী হচ্ছে। ''বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন (বিসিএ) এর মূল দায়িত্ব হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রি রক্ষা করা ধ্বংস করা নয়। এই কারী ইন্ডাস্ট্রি বাঁচাতে হলে নিয়মিত ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে দক্ষ শেফ ও অন্যান্য স্টাফ তৈরী করতে হবে , রেস্টুরেন্ট বন্ধের হাত থেকে বাচাঁতে হবে।
সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্যের বিষয়ে জলিল মানবজমিনকে বলেন , একজন সাংবাদিকের কাজ হচ্ছে সত্য তুলে ধরে সংবাদ প্রচার করা, কারো তাবেদারী করা নয়। আমি যা বলেছি একেবারে সব সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য নয়।
