ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তর, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল ১১টায় জাতীয় সদরদপ্তরে আয়োজিত অভিযানে অংশ নেন সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আবদুস সালাম।
এসময় ব্যারিস্টার মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের আহ্বানের পর থেকেই বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি দেশব্যাপী বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
চলমান এ কার্যক্রমে যুব স্বেচ্ছাসেবকদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি কার্যক্রমের মূল শক্তি যুব স্বেচ্ছাসেবকরা। তাদের নিরলস প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের ফলেই মাঠপর্যায়ে এসব কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে। এ সময় ডেঙ্গু ও হামসহ বিভিন্ন জরুরি মানবিক সাড়াদান কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য আইএফআরসি এবং পার্টনার ন্যাশনাল সোসাইটিগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চলমান মানবিক কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ে যুব স্বেচ্ছাসেবকদের নিরলস পরিশ্রম গণমাধ্যমে তুলে ধরতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সোসাইটির চলমান Dengue Response Operation ২০২৬-এর আওতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে আরো অংশ নেন আইএফআরসি’র হেড অব ডেলিগেট, সোসাইটির বিভিন্ন বিভাগের পরিচালকবৃন্দ, পার্টনার ন্যাশনাল সোসাইটির প্রতিনিধিগণ এবং সোসাইটির সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকরা।
উল্লেখ্য,বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ দেশের ১৫টি জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটে ইতোমধ্যে ৭১৩টি পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ১৭৯টি মাইকিং এবং বাড়ি ও স্কুলভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এসব কার্যক্রমে প্রতিদিন ৪শ’-এর বেশি যুব স্বেচ্ছাসেবক সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।
এছাড়া সোসাইটির পক্ষ থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ৫০ হাজার ঘঝ১ পরীক্ষার কিট, ৭০ হাজার ব্যাগ নরমাল স্যালাইন এবং ১৫ হাজার ব্যাগ বেবি স্যালাইন সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ২ হাজার ৫০০ জন রোগীর পরিবারকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
