মিয়ানমারে আসিয়ানের বিশেষ দূতের সফরের মধ্যেও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে দেশটির সামরিক জান্তা। গত চার দিনে অন্তত ৯টি বিমান হামলায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫১ জন। নিহতদের মধ্যে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। খবর দ্য ইরাবতীর।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে আসিয়ানের বিশেষ দূত মারিয়া তেরেসা লাজারো মানবিক সহায়তা মিশনে মিয়ানমার সফর করেন। ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শান রাজ্যের রাজধানী তাউংগিতে অবস্থানকালে তিনি জান্তা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
তবে তার সফরের মধ্যেই জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
ইরাবতীর তথ্য অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত জান্তা বাহিনী অন্তত ৯টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে ১৬ জন নিহত ও ৫১ জন আহত হয়েছেন। এসব হামলার অর্ধেকেরও বেশি হয়েছে রাখাইন রাজ্যে। রাজ্যটির প্রায় পুরো অঞ্চলই বর্তমানে জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির (এএ) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রাখাইনের ম্রাউক-ইউ শহরে ক্লাস্টার বোমার আঘাতে একটি অস্থায়ী মাতৃসদন বিধ্বস্ত হলে এক শিশুসহ পাঁচজন নিহত হন। আহত হন আরও নয়জন। গত ১০ ডিসেম্বর জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় ম্রাউক-ইউ জেলা হাসপাতাল ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর ওই অস্থায়ী মাতৃসদনটি চালু করা হয়েছিল।
আরাকান আর্মির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রোববার রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় মোট ১২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে কারেন্নি রাজ্যের লইকাও শহরে একটি স্কুলে বিমান হামলায় তিন শিশু নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও আটজন। রোববার ওয়ানগাউত গ্রামের স্কুলটিতে ছুটির দিনের খাবার পরিবেশনের সময় দুটি জান্তা যুদ্ধবিমান ও একটি ওয়াই-১২ উড়োজাহাজ থেকে বোমা ফেলা হয়।
