একটি ঘড়ি কেনার আগে ক্রেতা এখন কী জানতে চান? নকশা আর দাম তো আছেই। এর সঙ্গে ঘড়িটি আসল কি না, ওয়ারেন্টি কত দিনের, আর পরে কোনো সমস্যা হলে কোথায় যেতে হবে, এসব প্রশ্নও অনেক ক্রেতার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্তত এমনটাই দেখছে ঢাকার ঘড়ি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াচ শপ বিডি (Watch Shop BD), যারা চলতি বছরের ১ নভেম্বর ব্যবসার ১২ বছর পূর্ণ করছে।
২০১৪ সালের ১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা ওয়াচ শপ বিডি অনলাইন স্টোরের পাশাপাশি রাজধানীর শ্যামলী, ধানমন্ডি ও গুলশান-১ এলাকায় তিনটি শোরুমে ঘড়ি বিক্রি করে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসার পরিকল্পনা শুরু হয় ২০১০ সালে, আর শুরুতে তাদের হাতে ছিল অল্প কিছু সুইস ঘড়ি। এখন সেইকো, সিটিজেন, ক্যাসিও, রাডো ও লঙ্গিনের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের নিত্যব্যবহার্য ঘড়ি যেমন আছে, তেমনি আছে তুলনামূলক দামি ঘড়িও। যাঁরা কেনার আগে সর্বশেষ যাচাইকৃত watch price in bangladesh তুলনা করে দেখতে চান, তাঁরা সব বাজেটের জন্যই বিস্তৃত সংগ্রহ পাবেন।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, শুরুর দিকে দেশে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ঘড়ি নিয়ে ক্রেতাদের ধারণা ছিল সীমিত। তখন বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আসল পণ্য সংগ্রহ করা এবং ক্রেতার আস্থা অর্জন। ওয়াচ শপ বিডির মতে, এক যুগ পরে এসে এই চ্যালেঞ্জ বদলায়নি, তবে ক্রেতারা এখন অনেক বেশি খোঁজখবর নিয়ে কেনাকাটা করেন।
তাদের অভিজ্ঞতায়, অনেকে প্রথমে ফেসবুক বা অন্য কোনো অনলাইন মাধ্যমে একটি ঘড়ি দেখেন। এরপর ওয়েবসাইটে গিয়ে মডেল নম্বর, দাম ও ঘড়ির খুঁটিনাটি তথ্য মিলিয়ে নেন। আবার অনেকে কেনার আগে শোরুমে এসে দেখে নিতে চান ডায়াল কতটা বড়, রং ও গড়ন কেমন, কবজিতে কেমন মানায়। প্রতিষ্ঠানটির মতে, অনলাইনে তথ্য দেখা আর শোরুমে সরাসরি যাচাইয়ের এই সুযোগ ক্রেতাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন থাকে ঘড়িটি আসল কি না, তা নিয়ে। অনলাইনে অর্ডার করলে ছবির ঘড়িটিই হাতে আসবে কি না, সেই দুশ্চিন্তাও থাকে অনেকের। কেউ জানতে চান ঘড়িটি ব্যাটারিতে চলে, নাকি হাতের নড়াচড়ায় দম পেয়ে চলে। কেউ আবার জানতে চান হাত ধোয়ার সময় বা বৃষ্টিতে পানি লাগলে ঘড়ির ক্ষতি হবে কি না।
এসব প্রশ্নের জবাবে ওয়াচ শপ বিডি নিজেদের কয়েকটি যাচাই-ধাপের কথা জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পণ্য আনা হয় সরাসরি আমদানি, নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অফিশিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে। প্রয়োজনে পণ্যের উৎস মিলিয়ে দেখার জন্য কেনাকাটার কাগজপত্র সংরক্ষণ করা হয়।
বিক্রির আগে ঘড়ির মডেল নম্বর, ডায়াল ও কেসের সঙ্গে বাক্স, পুস্তিকা ও ওয়ারেন্টি কার্ডের তথ্য মিলিয়ে দেখা হয় বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। শোরুমে এসে ক্রেতা নিজেও কেনার আগে ঘড়িটি হাতে নিয়ে এসব কাগজপত্র দেখে নিতে পারেন।
ওয়ারেন্টি নিয়ে বিভ্রান্তি এড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছে তারা। ব্র্যান্ড ও মডেলভেদে ওয়ারেন্টি আলাদা হয়। কোনো ঘড়িতে থাকে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক ওয়ারেন্টি, কোনোটিতে ওয়াচ শপ বিডির নিজস্ব ওয়ারেন্টি। কোনটি প্রযোজ্য, তা কেনার সময়ই ক্রেতাকে জানিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির নীতিমালা অনুযায়ী, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ঘড়ির ভেতরের চালিকা যন্ত্রাংশে সাধারণত এক থেকে পাঁচ বছর এবং যোগ্য পণ্যের ব্যাটারিতে ছয় মাসের ওয়ারেন্টি দেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে "Watch Shop BD 2026 Anniversary" নামে মাসব্যাপী এই আয়োজন চলবে ১ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত, অনলাইন ও তিনটি শোরুমে। নির্বাচিত কিছু ঘড়িতে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় থাকবে। তবে এই হার পুরো সংগ্রহে প্রযোজ্য নয়। মডেল ও নিয়মিত দামভেদে ছাড় আলাদা হবে, আর প্রতিটি ঘড়ির চূড়ান্ত দাম পণ্যের পাতায় দেওয়া থাকবে।
এ সময় WATCH12 ভাউচার কোডও চালু থাকবে। কেনাকাটার অঙ্ক অনুযায়ী এই কোডে ১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় মিলবে, যা শুরু হবে ৫ হাজার টাকার কেনাকাটা থেকে। একজন ক্রেতা ভাউচারটি একবার ব্যবহার করতে পারবেন। ভাউচার ও অন্য ছাড় একসঙ্গে প্রযোজ্য হবে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট অফারের শর্তের ওপর। চূড়ান্ত দাম অর্ডার নিশ্চিত করার আগেই জানা যাবে, আর সব অফার স্টক থাকা সাপেক্ষে।
ওয়াচ শপ বিডি জানিয়েছে, এ আয়োজনের উদ্দেশ্য পুরোনো ক্রেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো এবং নতুন ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানো। তবে প্রতিষ্ঠানটির কাছে এক যুগের হিসাব শুধু বিক্রির অঙ্কে নয়। তাদের মতে, একজন ক্রেতা প্রথমবার কেনার পর আবার ফিরে আসছেন কি না, অন্যদের কাছে প্রতিষ্ঠানটির কথা বলছেন কি না, সেটিই ব্যবসার আসল মাপকাঠি।
সামনে ওয়েবসাইট ও অর্ডার ট্র্যাকিং আরও সহজ করা, বিভিন্ন বাজেটের ঘড়ির সংগ্রহ বাড়ানো এবং দেশের অন্যান্য বড় শহরে শোরুম খোলার সম্ভাবনা যাচাইয়ের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে তারা। অফারের বিস্তারিত শর্তাবলি পাওয়া যাবে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে।
