ইসরাইলের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরোধী দলগুলো স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এরপরও নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিরোধীদের আসন সংখ্যার অভাব নয়, বরং আরব আইনপ্রণেতাদের বৈধ রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে মানতে অনীহাই এর প্রধান কারণ। এই নির্বাচনে আরব ভোটারদের ঐতিহাসিক উপস্থিতির কারণে ইসরাইলের আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দলগুলো পরবর্তী সরকার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছে। খবর টাইমস অব ইসরাইল।
ফলাফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে এবং গাদি আইজেনকোটের বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। এছাড়া দুটি আরব দল সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেয়েছে। এর মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছে ১২টি আসন এবং রা’ম ৭টি আসন। এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। বিদায়ী নেসেটে এই দুটি দলের ৫টি করে আসন ছিল। এর আগে ২০২০ সালে তারা সর্বোচ্চ ১৫টি আসন পেয়েছিল। নেতানিয়াহুর দল সবচেয়ে বড় হলেও, তার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ৬১ আসন পাওয়া কঠিন। অন্যদিকে বিরোধী এবং আরব দলগুলো মিলে নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে ৬৭টি আসন পেয়েছে। আরব ভোটারদের নেতানিয়াহুর সরকার এবং তার কট্টরপন্থি মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের কারণেই আরব দলগুলো এতগুলো আসন পেয়েছে।
আরব দলগুলো সরকার পরিবর্তনে সাহায্য করতে প্রস্তুত, তবে আইজেনকোট এবং তার মিত্রদের আরব আইনপ্রণেতাদের সমর্থন না নেয়ার প্রতিশ্রুতি ভাঙতে হবে। এই সমর্থন ছাড়া জায়নবাদী বিরোধীরা সরকার গঠন করতে পারবে না। তাই নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা না থাকার বিষয়টি আইজেনকোট, নাফতালি বেনেট এবং আভিগডোর লিবারম্যানের ওপর নির্ভর করছে। বছরের পর বছর ধরে নেতানিয়াহু আরব আইনপ্রণেতাদের অবৈধ রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এখন দেখার বিষয় এই কলঙ্ক বিরোধীদের নেতানিয়াহুর সরকার পরিবর্তনে বাধা দেয় কি না। যদি বিরোধীরা আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করে, তবে আবারও নির্বাচন বা নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের বিকল্প থাকবে। তবে এই দুটি পথই নেতানিয়াহুকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখবে।
রাম দলের প্রধান মনসুর আব্বাস আইজেনকোটের জোটে যোগ দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্টের প্রধান ইউসেফ জাবারিন বাইরে থেকে একটি বিকল্প সরকারকে সমর্থন দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তারা নেতানিয়াহু, বেন গভির এবং স্মোট্রিচকে সরকার থেকে সরানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। বিরোধীরা যদি আরব দলগুলোর সমর্থন নেয়, তবে রাম দল জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে পদ চাইতে পারে। এছাড়া তারা আরব সম্প্রদায়ের সমস্যাগুলো, যেমন সংগঠিত অপরাধ, আবাসন সংকট এবং বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতিও চাইতে পারে।
ডেমোক্রেট নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানান। তবে আইজেনকোট যদি আরব দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেন, তবে তার দলের ডানপন্থি এবং ধর্মীয় আইনপ্রণেতাদের বাধার মুখে পড়তে হতে পারে। এর আগে ২০২১-২০২২ সালে বেনেটের জোট ডানপন্থি আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতার কারণেই ভেঙে গিয়েছিল। আরেকটি বিকল্প হলো, আইজেনকোট রাম দলের অংশগ্রহণ এবং জয়েন্ট লিস্টের বাইরের সমর্থন নিয়ে একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে পারেন। ইসরাইলের ইতিহাসে এমন উদাহরণ রয়েছে। বিরোধীদের জন্য অন্য যেকোনো বিকল্পই বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
