কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের শারীরিক ভিন্নতা, জন্মদাগ এবং চিকিৎসার কারণে হওয়া পরিবর্তনগুলো মুছে দিচ্ছে। এই ধরনের সফটওয়্যার মানুষের চেহারা পরিবর্তন করে তাদের ‘স্বাভাবিক’ করার চেষ্টা করছে। তবে ভুক্তভোগীরা বিষয়টিকে অত্যন্ত অপমানজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলছেন, এআই মানুষের চেহারা থেকে দাগ মুছে দিয়ে তাদের অতীত সংগ্রামকে ছোট করছে। বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
বিবিসি ওয়েলসের এক অনুসন্ধানে দেখা যায় গুগল জেমিনি, ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি এবং গ্রকের মতো এআই টুলগুলো মানুষের শারীরিক দাগ কিংবা ক্ষত মুছে দেয়। কোনো ব্যক্তিকে ‘স্বাভাবিক’ করার নির্দেশ দিলেই সফটওয়্যারগুলো এই কাজ করে। তবে তারা ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড, পোশাক বা চুলের কোনো পরিবর্তন করে না। বৃটেনের দাতব্য সংস্থা চেঞ্জিং ফেসেস জানায়, দেশটিতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ কোনো না কোনো শারীরিক ভিন্নতা বা ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন। তাদের মতে, এআইয়ের মাধ্যমে মানুষের এমন ভিন্নতা মুছে ফেলা বা নির্দিষ্ট সৌন্দর্যের মানদণ্ডে সবাইকে মেপে দেখা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।
ব্রিজেন্ডের বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী রিয়ানন মরগান জানান, তার কাজের একটি নিউজলেটারে ব্যবহৃত ছবি এআই দিয়ে সম্পাদনা করা হয়েছিল। তিনি এপিডার্মোলাইটিক ইকথাইয়োসিস নামের একটি বিরল জেনেটিক রোগে ভুগছেন, যার কারণে তার ত্বকে ফোসকা পড়ে। তিনি দেখেন, এআই তার হাতের ত্বক মসৃণ করে দিয়েছে এবং স্বাভাবিক গোলাপি ভাব মুছে ফেলেছে। তিনি বলেন, এআই সেকেন্ডের মধ্যে তার সারা জীবনের কষ্ট এবং বুলিংয়ের শিকার হওয়ার ইতিহাস মুছে ফেলেছে। ক্যানভা কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জানায় যে তারা বিষয়টি তদন্ত করছে।
এর আগে কেটি পাইপার নামে এক টিভি উপস্থাপকের ছবি নিয়েও এমন ঘটনা ঘটেছিল। ২০০৮ সালে এক অ্যাসিড হামলায় তার চেহারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর এক ব্যক্তি তার ছবি আপলোড করে গ্রক-কে তা ‘ঠিক’ করতে বলেন। পাইপার প্রশ্ন তোলেন, ‘স্বাভাবিক’ দেখতে কেমন হবে তা ঠিক করার অধিকার এআইকে কে দিয়েছে? বিবিসি ওয়েলস পাঁচটি এআই টুল দিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছে, জেমিনি, গ্রক এবং চ্যাটজিপিটি শারীরিক দাগ মুছে দেয়। তবে অ্যানথ্রোপিকের ক্লড ওপাস ৫.৫ এবং মেটা এআই সম্মতি ছাড়া মানুষের চেহারার দাগ মুছতে অস্বীকৃতি জানায়।
মায়েস্টেগের বাসিন্দা কার্স্টি হিল ফ্রেজার সিনড্রোম নিয়ে জন্মেছেন। তিনি অন্ধ এবং বধির হওয়া সত্ত্বেও সামাজিক মাধ্যমে ফ্যাশন ভিডিও পোস্ট করেন। তিনি এআইয়ের এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে কোম্পানিগুলোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়ার আহ্বান জানান। ট্রেচার কলিন্স সিনড্রোমে আক্রান্ত জোনো ল্যাঙ্কাস্টারও জানান, এক অপরিচিত ব্যক্তি এআই ব্যবহার করে তার চেহারা পরিবর্তন করে ছবি পাঠিয়েছিল। তিনি এটিকে অত্যন্ত অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন। চেঞ্জিং ফেসেসের প্রধান নির্বাহী লুইস রাইট জানিয়েছেন, তারা সমাজে শারীরিক ভিন্নতাসম্পন্ন মানুষের অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে কাজ করছেন।
