বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মোটরসাইকেল তার মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোস্তফা কামাল।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় হেফাজতে থাকা তার বন্ধুস্থানীয় ‘ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেছেন, ঘটনার দিন তারা দু’জন ঘটনাস্থলে বসে কথা বলছিলেন। এ সময় কয়েকজন তাদের ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। আর দীপ সেখান থেকে পালিয়ে যান।
অবশ্য দীপের দেয়া বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা। পিবিআই প্রধান মোস্তফা কামাল বলেন, দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই সেসব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।
তবে পিবিআই সদর দপ্তরের আরেক পুলিশ সুপার মো. ইউসুফ বলেন, “মোটরসাইকেলটি কার, তা যাচাই করা হচ্ছে। মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থল থেকে ৫০ গজ দূরে মাজারবস্তি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।”
পিবিআই কর্মকর্তারা বলছেন, রাজবাড়ী ঘাট এলাকাটি মাদকের স্পট হিসেবে পরিচিত। মাদক কারবারীদের ধাওয়া খেয়ে তাহসিফ নদীতে পড়ে ডুবে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটি রাজধানীর উত্তরখান থানায় নেওয়া হয়েছে।
এর আগে তাহসিফ উত্তরার দিয়াবাড়ির বাসা থেকে নিজের বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন। তার লাশ উদ্ধারের সময় নৌপুলিশ হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ পেলেও তখন বাইকটির সন্ধান মেলেনি।
এদিকে রেজা দীপ বৃহস্পতিবার বিকালে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফের বাইক মেরামতের করতে তারা গ্যারেজে যান। সেখান থেকে উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান। সেখান থেকে বেরিয়ে দু’জন নিজ নিজ বাইকে ফিরছিলেন। উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকা পর্যন্ত একসঙ্গেই ছিলেন। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে দু’জন আলাদা হয়ে যান। এরপর দীপ নিজে বাসায় ফিরলেও তাহসিফের বিষয়ে ‘আর কিছু জানেন না’ এমনটা দাবি করেছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি। এর আগের দিন সন্ধ্যায় বাসা থেকে বন্ধুস্থানীয় ‘ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে বেরিয়েছিলেন বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। এরপর আর বাসায় ফেরেননি তাহসিফ।
