এমা ক্লাইনের নতুন উপন্যাস ‘সুইটজি’ ২০২৬ সালের অন্যতম সফল একটি বই। এটি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত এক ব্যক্তির স্বেচ্ছামৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিয়ে লেখা। এমন কঠিন বিষয়বস্তু থাকা সত্ত্বেও বইটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু বুকার পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে এটি বাদ পড়ায় পাঠক ও সমালোচকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন।
মার্কিন লেখিকা এমা ক্লাইনের আগের দুটি উপন্যাসও ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল। ২০১৬ সালে তার প্রথম বই ‘দ্য গার্লস’ প্রকাশের সময় তিনি প্রায় ২৪ কোটি ৭৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা (২ মিলিয়ন ডলার) অগ্রিম পেয়েছিলেন। তার নতুন উপন্যাস ‘সুইটজি’ গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হয়। বুকার পুরস্কারের দীর্ঘ তালিকায় থাকা ১৩টি বইয়ের মধ্যে এটি অন্যতম ছিল। কিন্তু সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা না পাওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে পাঠকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বুকার বিজয়ী সামান্থা হার্ভে বইটিকে উপন্যাসের এক ‘অলৌকিক নিদর্শন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
কী আছে বইটিতে? উপন্যাসের মূল চরিত্র ডেভিড হেস্টিংস একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী। তিনি অ্যালঝেইমার্সে আক্রান্ত। আগামী দিনের ভয়ানক পরিণতি থেকে বাঁচতে তিনি সুইজারল্যান্ডের একটি ক্লিনিকে স্বেচ্ছামৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেন। জীবনের শেষ দিনগুলো কাটানোর জন্য তিনি প্রাইভেট জেটে করে জুরিখে যান। তার সহকারী কোডি তাকে ওষুধ ও অন্যান্য কাজে সাহায্য করেন। মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে ডেভিডের মনে অতীতের নানা ছোটখাটো স্মৃতি ভেসে ওঠে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ও নিউ ইয়র্কারকে লেখিকা ক্লাইন জানান, মানুষ যখন জানে যে এটাই তার জীবনের শেষ সময়, তখন সে কীভাবে দিন কাটায়, তা নিয়েই তিনি কাজ করতে চেয়েছেন।
বইটির বিষয়বস্তু বেশ ভারী হলেও ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত একজন মানুষের মানসিক অবস্থার অবনতি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন ক্লাইন। বৃটেনে সম্প্রতি স্বেচ্ছামৃত্যুকে বৈধতা দেয়ার প্রস্তাব স্বল্প ব্যাবধানে প্রত্যাখ্যান হয়েছে। তবে লেখিকা এই বইয়ে কোনো নৈতিক অবস্থান নেননি। দ্য সানডে টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান এবং দ্য আটলান্টিকের মতো সংবাদমাধ্যমগুলো বইটির ব্যাপক প্রশংসা করেছে। তবে লস অ্যাঞ্জেলেস রিভিউ অব বুকস-এর মতো কিছু সমালোচক বলেছেন, একজন অপ্রীতিকর ধনী ব্যক্তির শেষ দিনগুলোর গল্পের সঙ্গে সাধারণ মানুষ কতটা একাত্ম হতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
