ক্রিকেট বিশ্বে নতুন এক ইতিহাস রচনা করলেন আফগানিস্তান লেগ স্পিনার রশিদ খান। শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বিশ্ব ক্রিকেটের প্রথম বোলার হিসেবে এ সংস্করণে ২০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁলেন আফগান ম্যাজিশিয়ান। এ কীর্তি গড়তে রশিদ খেললেন স্রেফ ১২০ ম্যাচ। জিম্বাবুয়ের ইনিংসের শুরুতে ব্যাটার তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে আউট করে অনন্য এই চূড়ায় পৌঁছান তিনি।
রশিদের বোলিং গড় ১৪.৬ ও ইকোনমি রেট ৬.১৪। অর্থাৎ প্রতি ১৩.৭টি ডেলিভারি পরপর একটি করে উইকেট নিয়েছেন তিনি। এ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইংল্যান্ডের আদিল রশিদের ঝুলিতে রয়েছে ১৫৩ ম্যাচে ১৭১ উইকেট। ২৩.৪২ গড়ে তার ইকোনমি রেট ৭.৫৬। প্রতি ১৬.৫টি ডেলিভারি পরপর একটি করে উইকেট নিয়েছেন আদিল রশিদ। তবে এই ঐতিহাসিক রাতটি কেবল রশিদ খানের রেকর্ডেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি ছিল এক অভাবনীয় রূপকথার প্রত্যাবর্তন।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে আফগানিস্তান। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই মাত্র ৫ রানে টপ অর্ডারের চার ব্যাটার প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। দলের এমন ধ্বংসস্তূপের মুখে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন আজমাতউল্লাহ ওমরজাই এবং আইজাজ আহমেদজাই।
ষষ্ঠ উইকেটে স্রেফ ৫৯ বলে ১৪২ রানের অবিস্মরণীয় এক জুটি গড়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তারা। ওমরজাই মাত্র ৫০ বলে ১২টি ছক্কা ও ৫টি চারের সাহায্যে ১১৬ রানের এক বিধ্বংসী ও ইতিহাস গড়া সেঞ্চুরি উপহার দেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে ২০ রানের মধ্যে প্রথম চার উইকেট হারিয়েও কোনো দলের ২০০ বা তার চেয়ে বেশি রান করার এটিই প্রথম রেকর্ড। নির্ধারিত ২০ ওভারে আফগানিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২২১ রান। শেষের দিকে রশিদ খানের ৬ বলে অপরাজিত ২৫ রানের ঝড়ো ইনিংস রানের খাতা আরও বড় করে।
২২২ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ে লড়াইয়ের চেষ্টা চালালেও শেষরক্ষা হয়নি। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে জিম্বাবুয়েকে জয়ের বন্দরের খুব কাছাকাছি নিয়ে যান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১৯ রানে ম্যাচ হেরে যায় তারা। এ জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের করে নিলো আফগানিস্তান। আগামী ১লা নভেম্বর শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুদল।
