আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘের দ্বারস্থ শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘের দ্বারস্থ শেখ হাসিনা

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ারদের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখায় গুরুতর উদ্বেগ জানিয়ে তিনি এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শেখ হাসিনার পক্ষে এই আবেদন জমা দিয়েছেন আইনজীবী স্টিভেন পাওয়েলস কেসি (কিংস কাউন্সেল)। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রশাসন প্রথমে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা শুধু বহালই রাখেনি, বরং আনুষ্ঠানিক রূপও দিয়েছে।

আবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে দেয়া হয়নি। দলটির অংশগ্রহণের পক্ষে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও তাদের নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়। ফলে ওই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও সর্বজনীন অংশগ্রহণমূলক ছিল না। এতে নির্বাচনের ফলাফলের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোকে আইনগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রেখে বাংলাদেশে নির্বাচন আয়োজন এবং গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা সুসংহত করার চেষ্টা সাংবিধানিকভাবে অসংগত। ফলে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ কার্যত রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের পক্ষে বাংলাদেশের আদালতে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানোও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং এর সমর্থকদের ওপর চলমান হামলার কারণে আইনজীবী নিয়োগ ও আইনি অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির কয়েকটি ধারার লঙ্ঘন। এর মধ্যে রয়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার-সংক্রান্ত ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ, সংগঠন করার স্বাধীনতা-সংক্রান্ত ২২ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিতকারী ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ।

আবেদনে আরও যুক্তি দেয়া হয়েছে, নিষেধাজ্ঞাটি যথাযথ আইনি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকারের আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞার কোনো বৈধ উদ্দেশ্য নেই বলেও এতে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সদস্য ও দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চলমান হামলার অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞাটিকে বর্ণনা করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাটি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত এবং এর অপব্যবহার ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থাও নেই।

শেখ হাসিনার পক্ষে করা আবেদনে জাতিসংঘের তিনজন বিশেষজ্ঞের জরুরি হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। তারা হলেন- সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে মানবাধিকার সুরক্ষা ও প্রসারবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠন করার স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার এবং গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রসারবিষয়ক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ।

আবেদনে তাদের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেয়া এবং বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে প্রকাশ্য বিবৃতি দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।