কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী সৈকতের পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের তিন সদস্যের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়। বুধবার বাদ জোহর ফতুল্লার পোস্ট অফিস সংলগ্ন শাহজাহান রোলিং মিলের পাশে বায়তুন নাজাত জামে মসজিদে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দাপা ইদ্রাকপুর কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। নিহতরা হলেন- ফারিহা কবির (৩৩), তার ছোট ভাই নাফিস তেহামি (২৬) এবং ফারিহার সাড়ে ছয় বছর বয়সী ছেলে ফাইজান নূর। একসঙ্গে পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ স্বজনেরা।
নাফিস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাস্টার্স ইন চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার’ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী ছিলেন। ফারিহা স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় বসবাস করতেন। তার ছেলে ফাইজান নূর চুয়াডাঙ্গার প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের কেজি-টু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ফারিহার স্বামী নূর আলম ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডে কর্মরত। তাদের বাবা জিহাদুল কবির একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। নিহত ফারিহার চাচাতো বোন সাদিয়া বিনতে হাবিব জানান, তাদের দাদা রেলওয়েতে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে ফারিহা ও নাফিসসহ পরিবারের সদস্যরা ফতুল্লা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের রেলওয়ে কলোনিতে বসবাস করতেন। সেখানেই তাদের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। ফতুল্লায় তাদের নিজস্ব বাড়িও রয়েছে। সাদিয়া জানান, ২০১৯ সালে ফারিহার বিয়ে হয়। স্বামী ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করায় তারা চুয়াডাঙ্গায় থাকতেন। চলতি মাসের ১৪ই অক্টোবর ফারিহা ও তার এক খালাতো বোনসহ পরিবারের ১০ সদস্য কক্সবাজারে বেড়াতে যান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৭ই অক্টোবর সকাল ১০টার বাসে তাদের ঢাকায় ফেরার কথা ছিল।
সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বাস তাদের রিসোর্ট থেকে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। রিসোর্টের একটি কক্ষে তিনজন এবং অন্য একটি কক্ষে ছয়জন অবস্থান করছিলেন। সাদিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিসোর্টে আগুন লাগে। এ সময় তিনজন জানালার থাই গ্লাস ভেঙে বের হতে সক্ষম হন। সকাল পৌনে ৮টার দিকে তার চাচা ফোন করে অগ্নিকাণ্ডের খবর জানান। পরে তারা স্বজনদের মৃত্যুর সংবাদ পান। তিনি আরও জানান, ফারিহার স্বামী জরুরি কাজে আগের রাতেই রিসোর্ট থেকে চলে আসায় প্রাণে বেঁচে যান। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের দাদা ও নানার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দাদার কবরের পাশেই তাদের সমাহিত করা হয়েছে।
