সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বন্যাতলা এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনে প্রায় ৩০০ ফুট বেড়িবাঁধ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ঝড়ের কারণে উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে পাউবো-২ এর আওতাধীন ৭/১ পোল্ডারের বাঁধে এ ভাঙন দেখা দেয়। এতে বন্যাতলা গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী প্রতাপনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে উপকূলের বাসিন্দারা। ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মসজিদের মাইকে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়। বসতভিটা ও জনপদ রক্ষায় রাতেই বাঁধের কাছে ছুটে যান বন্যাতলা ও পার্শ্ববর্তী প্রতাপনগরের সহস্রাধিক মানুষ।
তারা স্বেচ্ছাশ্রমে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা শুরু করেন। বুধবার দুপুর পর্যন্ত ভাঙন প্রতিরোধে জিওব্যাগ ফেলার কাজ অব্যাহত ছিল। পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাতে ঝড়ো হাওয়া ও খোলপেটুয়া নদীর প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে ভাঙন দেখা দেয়। এতে প্রায় ৩০০ ফুট বাঁধ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। কোনো কোনো স্থানে বাঁধের মাত্র এক থেকে দেড় ফুট অংশ অবশিষ্ট রয়েছে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আগে থেকে প্রস্তুত রাখা বালুভর্তি জিওব্যাগ দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু হয়। ভাঙনস্থলের কিছু অংশে ইতিমধ্যে জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে, বাকি অংশেও জিওব্যাগ ফেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ৭/১ পোল্ডারের বন্যতলা এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ। বাঁধ সংস্কারের জন্য আগেই খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বাবুল এন্টারপ্রাইজকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবহারের জন্য বালুভর্তি হাজার হাজার জিওব্যাগও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তবে সেগুলো সময়মতো ঝুঁকিপূর্ণ অংশে ফেলা হয়নি। আগে থেকেই জিওব্যাগ ফেলা হলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো বলে মনে করছেন তারা।
সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, ভাঙনের খবর পাওয়ার পর রাতেই সেখানে লোক পাঠানো হয়। আগে থেকে প্রস্তুত রাখা বালুভর্তি জিওব্যাগ স্থানীয়দের সহযোগিতায় ভাঙনস্থলে ফেলা হচ্ছে। এতে ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। জিওব্যাগ ফেলতে দেরির বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, বন্যতলার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য আগেই ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিওব্যাগে বালু ভরে সেগুলো প্রস্তুতও রেখেছিল। তবে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ব্যাগ গণনা ও চিহ্নিত করার পর সেগুলো ভাঙনস্থলে ফেলার নিয়ম রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে জিওব্যাগ ফেলতে কিছুটা দেরি হয়েছে।
এদিকে, খোলপেটুয়া নদীর ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো বাঁধ রক্ষা করা না গেলে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হতে পারে। এতে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও মৎস্যঘেরের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবিকাও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
