কক্সবাজারের উখিয়ার ছোট ইনানীতে ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসের আগুন নেভেনি। আগুনের উৎস, গ্যাসের প্রকৃতি ও সম্ভাব্য মজুত জানতে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স) বিশেষজ্ঞ দল। গ্যাসের প্রবাহ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন জ্বলতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের ধারণা, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এক সপ্তাহ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে ঠিক কতোদিন আগুন জ্বলবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বুধবার দুপুরেও ঘটনাস্থলে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। আগুন নেভানোর প্রচলিত পদ্ধতি প্রয়োগের বদলে গ্যাসের প্রবাহ, চাপ ও বিস্তৃতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম জানান, প্রথমদিকে গ্যাসের নির্গমন নলকূপের বোরিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে কী করা যায়, সে বিষয়ে তাদের কাছে কয়েকটি বিকল্প রয়েছে। বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি। বাপেক্সের বিশেষজ্ঞরা গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করেছেন।
পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণের পর গ্যাসের প্রকৃতি ও উপাদান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে ভূগর্ভে কী পরিমাণ গ্যাস রয়েছে, এর উৎস কোথায় এবং গ্যাসের প্রবাহ কতোদিন অব্যাহত থাকবে- তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনের শিখা ও ধোঁয়া পর্যবেক্ষণ করে গ্যাসে তুলনামূলক ভারী হাইড্রোকার্বন থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পরীক্ষার ফল পাওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। গত মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে ছোট ইনানী এলাকার মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় নলকূপ স্থাপনের জন্য মাটি খননের সময় ভূগর্ভ থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে। একপর্যায়ে সেই গ্যাসে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে যুক্ত হন। তবে ভূগর্ভ থেকে অব্যাহতভাবে গ্যাস বের হওয়ায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, গ্যাসের চাপ বেশি থাকায় আগুন নেভানোর চেষ্টা বিপজ্জনক হতে পারে। আগুন নিভিয়ে দিলে গ্যাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি ভূগর্ভের অন্য কোনো দুর্বল স্থান দিয়ে বেরিয়ে এসে নতুন করে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই বাপেক্সের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে গ্যাসের প্রবাহ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে হবে। এদিকে, দুর্ঘটনা এড়াতে আগুনের উৎসস্থলের আশপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ঘটনাস্থলের চারপাশে প্রায় ২০০ মিটার এলাকা জুড়ে সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানান, গ্যাস কোন দিক দিয়ে বের হতে পারে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। গ্যাসের সঙ্গে আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের নিরাপদ দূরত্বে রাখা জরুরি।
