নেত্রকোণায় সংযোগ সড়ক না থাকায় সাড়ে ৩ বছরেও চালু হয়নি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন

ফন্ট সাইজ:

নেত্রকোণার খালিয়াজুড়ীতে সংযোগ সড়ক না থাকায় নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার সাড়ে ৩ বছরেও চালু হয়নি খালিয়াজুড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন। হাওর অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এ স্থাপনাটি চালু না হওয়ার কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা। মূল সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় দিনের বেলা ধান-বন শুকানো ও গবাদিপশুর খোঁয়াড় ও রাতে মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার কারণে স্টেশনটির স্যানিটারি ফিটিংস, ইলেকট্রিক্যাল জিনিসপত্রও চুরি হয়ে গেছে। ২০২২ সালে গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে খালিয়াজুড়ী উপজেলা সদরে ৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ফায়ার স্টেশনটির অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালে শেষ হয়।

শেষ হওয়ার পর থেকে ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী সড়ক না থাকার কারণে স্টেশনটির কার্যক্রম চালু হয়নি। এতে প্রকল্প উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। জানা যায়, হাওরবেষ্টিত খালিয়াজুড়ীর রাস্তাঘাট বছরের ৬ মাস পানির নিচে থাকে, যার কারণে বর্ষায় যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হয় নৌকা। অনেক এলাকা দুর্গম হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্ঘটনা ঘটলে সেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ফায়ার সার্ভিস তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থলে ও জলে উভয় পথেই ফায়ার সার্ভিস তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে তার জন্যই প্রকল্পটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের প্রায় তিন বছর পার হলেও ভারী যান চলাচলের রাস্তা না থাকায় স্টেশনটি বুঝে নেয়নি ফায়ার সার্ভিস। কিন্তু ২০২৩ সালেই স্টেশনটির জন্য ২টি গাড়ি, ২টি স্পিডবোট ও জনবল নিয়োগ দেয়া হয়। বর্তমানে স্টেশনে নিয়োগকৃতরা অনেকটা বসে বসেই বেতন পাচ্ছেন। ২০২৩ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ফায়ার স্টেশন থেকে মূল সড়ক পর্যন্ত মাটি ফেলে কাঁচা সড়ক নির্মাণ হয় কিন্তু ওই বছর বর্ষায় পানির স্রোতে সড়কটি ভেঙে যায়। এ বিষয়ে নেত্রকোণা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, ফায়ার স্টেশনটি চালুর ব্যাপারে আমার কোনো দায়িত্ব নেই। তবে স্টেশনটি নিয়ে আমাদের মহাপরিচালক জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ বিষয়ে একটি সমন্বয় সভাও হয়েছে। তিনি চার সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করে দিয়েছেন। নভেম্বরে গঠিত কমিটির পরিদর্শন ও রিপোর্টের পরই স্টেশনটি চালুর ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে আশা করছি। প্রকল্পটির বিষয়ে নেত্রকোণা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফারজান আনোয়ার বলেন, খালিয়াজুড়ী ফায়ার স্টেশনটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ স্টেশনটি বুঝে নেয়নি।

সংযোগ সড়কের ব্যাপারে তিনি বলেন, স্টেশনের সংযোগ সড়ক ও ঘাট নির্মাণের জন্য পৃথক আরেকটি প্রস্তাবনা পাঠালেও ওই সময় তা পাস হয়নি। খালিয়াজুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অলিদুজ্জামান বলেন, অবকাঠামো নির্মাণ হওয়ার পরেও ফায়ার স্টেশন চালু না হওয়ায় মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত। বিষয়টি জেলা উন্নয়ন কমিটির সভায় একাধিকবার উপস্থাপন করেছি। সর্বশেষ জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে কমিটির সদস্যরা এলাকা পরিদর্শন করবেন। পরিদর্শনের পর পরবর্তী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।