ময়মনসিংহের ভালুকায় কাকে ভোট দিলাম বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা সেই নারী দুই দিন জেল খাটার পর জামিন পেয়েছেন। তবে, পুলিশ বলছে, ওই নারীর ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও পর্যালোচনা করে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য বা সরকারের সমালোচনামূলক কিছু পাওয়া যায়নি। যে কারণে তাকে ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছিল। সাথী ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে ‘সাথী বিউটি পার্লার’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলীর মেয়ে। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুনানি শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলামের আদালত তাকে জামিন দেন। ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক পিএসএম মোস্তাছিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাথীকে আদালতে হাজির করার ধার্য তারিখ ছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। তার পক্ষে আইনজীবী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ শুনানিতে অংশ নেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে ৫০০ টাকার মুচলেকায় জামিন দেন।
দুপুরেই তাকে আদালতের হাজতখানা থেকে মুক্তি দেয়া হয়। এর আগে গত সোমবার বিকালে সাথীকে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আতালতে পাঠানো হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজেদুল ইসলাম তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ভালুকা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ওই নারীর ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও পর্যালোচনা করে। সেখানে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুরো ভিডিও না দেখে গুজব থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। ওসি বলেন, ভিডিওটি প্রচারের পর মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী কথা বলতে গেলে তাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন ওই নারী। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ কারণে ওই নারীকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। গত রোববার বেলা ২টার দিকে ‘সাথী মেকওভার’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে দু’টি লাইভ করেন সাথী। ভিডিও দু’টিতে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে ওইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
