৫ মাস ধরে বন্ধ অস্ত্রোপচার ৩৯ ডাক্তারের মধ্যে কর্মরত ১৪ জন

চিতলমারী স্বাস্থ কেন্দ্র

৫ মাস ধরে বন্ধ অস্ত্রোপচার ৩৯ ডাক্তারের মধ্যে কর্মরত ১৪ জন

ফন্ট সাইজ:

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক ও জনবল সংকটে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ৫ মাস বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ানসহ অস্ত্রোপচার। ৫০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসকের ৩৯টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছে মাত্র ১৪ জন চিকিৎসক। উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। সরজমিন হাসপাতালে দেখা যায়, টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিভাগে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। বহির্বিভাগে চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে দীর্ঘ লাইন দিয়ে রোগীরা দাঁড়িয়ে একজন চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিতে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। জরুরি বিভাগে সেবা নেন আরও ৬০ থেকে ৭০ জন।

শয্যা না পেয়ে অতিরিক্ত রোগীদের বারান্দার মেঝেতে রেখেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। হাসপাতালে এক্স-রে মেশিনসহ আধুনিক প্যাথলজিক্যাল ল্যাবও রয়েছে। জরুরি এক্স-রেসহ অধিকাংশ পরীক্ষা হাসপাতালেই করা যাচ্ছে। তবে পর্যাপ্ত টেকনিশিয়ান না থাকায় ল্যাবের একজন টেকনিশিয়ানকে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে। হাসপাতালটিতে আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ অপারেশন থিয়েটার থাকলেও বর্তমানে সেখানে অস্ত্রোপচার বা অপারেশন বন্ধ রয়েছে। হাসপাতলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বর্তমানে সার্জিক্যাল চিকিৎসক, অ্যানেস্থেসিয়া ও গাইনি চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন থিয়েটার চালু করা যাচ্ছে না। ফলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন এমন রোগীদের জেলা সদর হাসপাতাল বা খুলনা পাঠাতে হচ্ছে। হাসিব মল্লিক নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, হাসপাতালে রোগীর অনেক চাপ। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকা এবং চিকিৎসক কম থাকায় একজন চিকিৎসককে অনেক রোগী দেখতে হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শর্মী রায় জানান, অ্যানেস্থেসিয়া, গাইনি ও গাইনি কনসালটেন্ট না থাকায় বর্তমানে অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরিবিভাগে মাইনর অপারেশন, ড্রেসিং, কাটা ছেঁড়ার সেলাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, জনবল সংকটের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।