পুলিশের পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই ৮৮ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার ৪

পুলিশের পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই ৮৮ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার ৪

ফন্ট সাইজ:

বগুড়ার শিবগঞ্জে পুলিশ পরিচয়ে বাস থামিয়ে ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। বুধবার দুপুরে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র আতোয়ার রহমান এসব তথ্য জানান। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলো- দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর গ্রামের সাদিকুল ইসলাম ও আলমগীর হোসেন এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম ও বালিঘাটা বাজার এলাকার আসাদুজ্জামান শাহিদ।

পুলিশ জানায়, আসামিদের মধ্যে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত তিনটি মামলা আদালতে বিচারাধীন। পুলিশ জানায়, গত ৫ই অক্টোবর বগুড়া শহরের গালাপট্টি এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম তার খালাতো ভাই বাপ্পি হোসেনের মাধ্যমে ২৪ ক্যারেটের ১০টি স্বর্ণের বার জয়পুরহাটে পাঠান। স্বর্ণগুলোর মোট ওজন ছিল ১০২ ভরি ১২ আনা। বাপ্পি হোসেন বাসে করে জয়পুরহাটে যাওয়ার পথে বেলা ১২টা ৫ মিনিটের দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কের উথলি এলাকায় পৌঁছান। এ সময় তিন থেকে চারজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসটি থামান। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তিরা বাপ্পি হোসেনকে জোর করে বাস থেকে নামিয়ে মারধর করেন এবং তার কাছে থাকা স্বর্ণের বার ও একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেন। এরপর তাকে শিবগঞ্জের বালা রোডের গুজিয়া হাট মণ্ডলপাড়ার একটি ফাঁকা জমিতে আহত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান তারা। এ ঘটনায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলামের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৭শে অক্টোবর শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ১৭০ ও ৩৯৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান জানান, ঘটনার পর পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

প্রথমে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার তরিনয়হাট এলাকা থেকে সাদিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার মহিলা কলেজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আলমগীর হোসেনকে। আলমগীরের বসতবাড়ি তল্লাশি করে স্বর্ণ বিক্রির ২৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তার দু’জনের তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর এলাকা থেকে রবিউল ইসলাম ও আসাদুজ্জামান শাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় দিনাজপুরে সাদিকুলের বাড়ি থেকে আরও ১৮ লাখ এবং পাঁচবিবির বড়মানিক গ্রামে শাহিদের গরুর খামারের কার্যালয় থেকে ৪১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। সবমিলিয়ে মোট ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।