হাজার কোটি টাকার লেনদেন!

সাবেক এসবি প্রধান ও পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের দুই মামলা

ফন্ট সাইজ:

পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সাবেক প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম, তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দু’টি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির অনুসন্ধানে মনিরুল ইসলামের শ্যালক রেজাউল আলম শাহীনের নামে ২৩ কোটি টাকার বেশি নিট সম্পদ এবং ৪০টি ব্যাংক হিসাবে এক হাজার ৪৭ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, তার শ্যালকের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার নামেও ১২ কোটি টাকার বেশি জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদের সন্ধান মিলেছে। সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির উপপরিচালক মো. মোজাম্মিল হোসেন।

দুদক জানিয়েছে, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দু’টি পৃথক মামলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রথম মামলায় মনিরুল ইসলাম, তার স্ত্রী ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব সায়লা ফারজানা এবং শ্যালক রেজাউল আলম শাহীনকে আসামি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দ্বিতীয় মামলায় তাদের পাশাপাশি রেজাউল আলম শাহীনের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পাকেও আসামি করা হবে।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেজাউল আলম শাহীনের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৬ টাকার নিট সম্পদ রয়েছে। তার বৈধ আয়ের সঙ্গে এই সম্পদের সামঞ্জস্য নেই বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শাহীনের নামে থাকা ৪০টি ব্যাংক হিসাবে ৫২৯ কোটি ৯২ লাখ ৮৮ হাজার ৬২৮ টাকা জমা এবং ৫১৭ কোটি ৩৫ লাখ ৪১ হাজার ৯১০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৭ কোটি ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৫৩৮ টাকা। এসব অর্থের গ্রহণযোগ্য বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি তিনি বলে জানিয়েছে দুদক।

দুদকের অভিযোগ, মনিরুল ইসলাম পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে শ্যালকের নামে সম্পদ গড়েছেন এবং ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করেছেন। এ অভিযোগে মনিরুল ইসলাম, তার স্ত্রী সায়লা ফারজানা ও রেজাউল আলম শাহীনকে আসামি করে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শ্যালকের ৪০ ব্যাংক হিসাবে হাজার কোটি টাকার লেনদেন
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেজাউল আলম শাহীনের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৬ টাকার নিট সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তার বৈধ আয়ের সঙ্গে এই সম্পদের সামঞ্জস্য নেই বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। এ ছাড়া ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তার নামে থাকা ৪০টি ব্যাংক হিসাবে ৫২৯ কোটি ৯২ লাখ ৮৮ হাজার ৬২৮ টাকা জমা এবং ৫১৭ কোটি ৩৫ লাখ ৪১ হাজার ৯১০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। দুই দিকের লেনদেন মিলিয়ে এসব হিসাবে মোট ১ হাজার ৪৭ কোটি ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৫৩৮ টাকার লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুদক।

দুদকের দাবি, এসব সম্পদ ও লেনদেনের সঙ্গে মনিরুল ইসলামের কথিত অবৈধ উপার্জনের যোগসূত্র রয়েছে। অর্থের উৎস আড়াল করতে আত্মীয়ের নামে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মনিরুল ইসলাম, তার স্ত্রী সায়লা ফারজানা, শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন ও শ্যালকের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পাকে আসামি করে পৃথক মামলা করা হবে।
শ্যালকের স্ত্রীর ১২ কোটি টাকার বেশি সম্পদের উৎস অজানা
দুদকের অনুসন্ধানে রেজাউল আলম শাহীনের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার নামে ১২ কোটি ৯৭ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৩ টাকার নিট সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে তার বৈধ আয়ের উৎস থেকে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ৬৭ লাখ ১০ হাজার ৭৬১ টাকা বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। দুদকের হিসাবে, তার নামে থাকা অবশিষ্ট ১২ কোটি ৩০ লাখ ৪৯ হাজার ২ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সানজিদা খানম টুম্পার নামে থাকা ২৭টি ব্যাংক হিসাবে ৩৩ কোটি ১০ লাখ ৫৫ হাজার ৭৮৮ টাকা জমা এবং ২৫ কোটি ৫১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৫৫ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হিসাবে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৫৮ কোটি ৬২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৪৩ টাকা। দুদকের অভিযোগ, এসব সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে মনিরুল ইসলামের কথিত অবৈধ আয়ের যোগসূত্র রয়েছে। আত্মীয়স্বজনের নামে সম্পদ অর্জন ও অর্থের প্রকৃত উৎস আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে বলেও মনে করছে সংস্থাটি।

দুদক জানিয়েছে, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-১৯৪৭, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর প্রযোজ্য ধারায় মামলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে দায় নির্ধারিত হবে।