আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘বিশেষ পাসপোর্ট পাচ্ছে ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবে থাকা ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা (জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক) বিশেষ পাসপোর্ট পাচ্ছেন। ইতিমধ্যে ২৪ হাজার ৩০০ জনের পাসপোর্ট সৌদি আরবে রোহিঙ্গাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাঁদের কাছে পাসপোর্ট পাঠানো হয়েছে। বাকিদের পাসপোর্ট চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ বৈঠক করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে বাকি পাসপোর্ট দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বহিরাগমন অনুবিভাগ) জিয়াউদ্দিন আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ইতিমধ্যে ২৪ হাজারের বেশি পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে। বাকি পাসপোর্ট দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
জিয়াউদ্দিন আরও বলেন, এসব ব্যক্তি বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিক হিসেবে পাসপোর্ট পাচ্ছেন না; তাঁদের দেওয়া হচ্ছে একধরনের বিশেষ পাসপোর্ট। এই পাসপোর্ট তাঁদের পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করবে। তবে এটি দিয়ে তাঁরা বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না, আবার সৌদি আরবের নাগরিকও হবেন না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেকটি সূত্র জানায়, অতীতে বাংলাদেশের হাতে লেখা পাসপোর্ট নিয়ে বহু রোহিঙ্গা সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। সময়ের সঙ্গে তাঁদের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এখন সৌদি সরকার সেসব পাসপোর্ট নবায়নের জন্য চাপ দিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিষয়টি সামনে এলে পাসপোর্ট দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দেশের একাধিক স্বার্থ জড়িত থাকে। সরকার শুরুতে পাসপোর্ট দেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে সৌদি আরবের শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
বিএনপি সরকার গঠনের পর গত এপ্রিলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ। ওই সাক্ষাতে সৌদি আরবে থাকা ৬৯ হাজার মিয়ানমারের নাগরিকের বিশেষ পাসপোর্ট ইস্যুর বিষয়টি তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। তিনি এ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন জানান, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে ২২ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে। বাকিদের পাসপোর্ট দেওয়ার কাজ দ্রুত করতে বাংলাদেশ থেকে একটি বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র রয়েছে বা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেছেন—এমন ব্যক্তিদের দ্রুত পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোহিঙ্গাদের দেওয়া বিশেষ পাসপোর্টে বিশেষ সিরিয়াল নম্বর রাখা হচ্ছে। তাঁদের আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিশ, মুখমণ্ডলের ছবিসহ বায়োমেট্রিক তথ্য জাতীয় তথ্যভান্ডারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এতে বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে তাঁদের সহজে শনাক্ত করা যাবে। ভবিষ্যতে তাঁরা যাতে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিতে না পারেন, সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাসপোর্টে জাতীয়তার ঘরে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ থাকছে।
অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়ে কাজ করা আসিফ মুনীর আজকের পত্রিকাকে বলেন, এসব ব্যক্তিকে পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একধরনের বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়েছে। তাঁরা বহু বছর আগে যেভাবেই হোক বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। এখন সেসব পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়েছে। সে কারণে নতুন করে পাসপোর্ট দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে তাঁদের অনেকে নানা অবৈধ উপায়ে আগের পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ শুরুতে সেসব পাসপোর্ট নবায়ন করতে চায়নি।
আসিফ মুনীর আরও বলেন, সৌদি আরবও তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব ব্যক্তিকে শনাক্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করে। তাঁরা যাতে সেখানে কোনো অপকর্মে জড়াতে না পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ পরিচয়সংক্রান্ত নথিপত্রের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশেরও সৌদি আরবের সঙ্গে বড় শ্রমবাজার রয়েছে। তবে বিশেষ পাসপোর্ট পেলেও এসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ফিরে আসবেন না; তাঁরা সৌদি আরবেই অবস্থান করবেন বলে ধারণা, এই অভিবাসন বিশেষজ্ঞের।
প্রথম আলো
‘সাগরে গ্যাস অনুসন্ধানে সাড়া নেই, নতুন উদ্যোগ’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্রে তেমন সাড়া নেই। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শেষ হওয়া দরপত্রে অংশ নেয়নি কোনো কোম্পানি। একই পরিণতি এড়াতে চায় বর্তমান সরকার। তাই সমুদ্রে বিদেশি কোম্পানির বিনিয়োগ আনতে তৎপর জ্বালানি বিভাগ। বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করে মতামত নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে দরপত্র জমার সময় চার মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র বলছে, গত ২৯, ৩০ সেপ্টেম্বর এবং ১ অক্টোবর মোট ১০টি বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক হয়েছে লন্ডনে। চলমান দরপত্র ও উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি (পিএসসি) নিয়ে কথা হয় তাদের সঙ্গে। নতুন পিএসসি নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। বিনিয়োগের ঝুঁকি ও গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করে দরপত্রে অংশ নিতে চায় তারা।
জ্বালানি বিভাগের দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল লন্ডনের বৈঠকগুলোয় অংশ নেয়। সিঙ্গাপুরেও ছয়টি কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বহুজাতিক কোম্পানির মতামত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নিয়েছে সরকার। তাই সমুদ্রে গ্যাসের সম্ভাবনা নিয়ে যত রকমের তথ্য আছে, তা বহুজাতিক কোম্পানির জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে এসব তথ্য যাচাই–বাছাই করে বিনিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বহুজাতিক কোম্পানি। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবাই বিনিয়োগের ব্যাপারে বাড়তি সতর্ক এখন। এ কারণে দরপত্রের সময় বাড়ানো হয়েছে।
পেট্রোবাংলার দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, সমুদ্রে বিভিন্ন কোম্পানি অনুসন্ধান কাজের অংশ হিসেবে জরিপ করে তথ্য দিয়েছে। এমন ছয়টি আলাদা জরিপ তথ্য আছে। এর প্রতিটির দাম ২০২৪ সালের দরপত্রে ১০ লাখ ডলার ধরা হয়েছিল। এবারের চলমান দরপত্রে দাম ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার ডলার। এখন চারটি বিনা পয়সায় উন্মুক্ত করা হয়েছে। আর বাকি ছয়টির দাম কমিয়ে প্রতিটির জন্য ৫ হাজার ডলার ধরা হয়েছে। এতে বহুজাতিক কোম্পানির আগ্রহ বাড়বে। তারা তথ্য বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
গ্যাসের উৎপাদন কমতে থাকায় কয়েক বছর ধরে দেশে জ্বালানিসংকট বাড়ছে। সমুদ্রসীমা জয়ের প্রায় দেড় দশক পরও গ্যাস আবিষ্কার করা যায়নি। ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে ও ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। মাঝে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এক যুগে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করেনি। ২০২৪ সালের মার্চে দরপত্র আহ্বান করলেও আগস্টে ওই সরকারের পতন হয়। অন্তর্বর্তী সরকার এসে দরপত্র জমার সময় তিন মাস বাড়িয়ে দেয়। তবে সাতটি কোম্পানি দরপত্রের নথি কিনলেও জমা দেয়নি।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়ে দেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিয়েছে। গত মে মাসে সমুদ্রের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র আহ্বান করে। এর মধ্যে গভীর সমুদ্রে ১৫টি ও অগভীর সমুদ্রে ১১টি ব্লক আছে। ১ জুন থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয় দরপত্র জমা দিতে। এখন এটি বাড়িয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দরপত্র নথি কিনেছে তিনটি কোম্পানি। এদের একটি তুরস্কের টার্কিশ পেট্রোলিয়াম ওভারসিজ কোম্পানি কিনেছে গত ২৩ জুলাই। আরেকটি চীনের সিনুক ইন্টারন্যাশনাল কিনেছে ১৭ আগস্ট। সর্বশেষ গত মাসে কিনেছে চীনের আরেক কোম্পানি সিনোপ্যাক। এর আগে তারা কেউ বঙ্গোপসাগরের তেল–গ্যাস অনুসন্ধানে অংশ নেয়নি।
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, লন্ডনে যাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে, তারা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তেল-গ্যাস কোম্পানি। গত ২৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মার্ফি অয়েল, ব্রাজিলের পেট্রোব্রাস, কুয়েতের কেইউএফপিইসি, অস্ট্রেলিয়ার জিও এক্সপ্লোরেশন, সিঙ্গাপুরের ইউনিয়ন এনার্জি গ্রুপ, কানাডার ভেলিউরা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বৈঠক হয় ইতালির ইএনআই, মার্কিন কোম্পানি এক্সনমবিল, যুক্তরাজ্যের বিপির সঙ্গে। আর সর্বশেষ ১ অক্টোবর বৈঠক হয় আরেক শীর্ষ কোম্পানি যুক্তরাজ্যের শেলের সঙ্গে। এসব কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা সমুদ্রের বিভিন্ন জরিপের তথ্য উন্মুক্ত করার পরামর্শ দেন। এ ছাড়া তথ্য বিশ্লেষণে আরও সময় চেয়েছে। সিঙ্গাপুরে এশিয়ার ছয়টি কোম্পানিও বৈঠকে একই রকম মতামত দিয়েছেন। আগামী বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে দেশটির শীর্ষ কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রথম আলোকে বলেন, বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে তাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি দেশের জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। এসব দেশও বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে বিনিয়োগ করে। বাজারের চাহিদা বুঝেই সময় বাড়ানো হয়েছে। তাদের দাবি অনুসারে তথ্য উন্মুক্ত করে সহজলভ্য করা হয়েছে। এখন দরপত্রে ভালো সাড়া পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সমুদ্রে প্রথম দরপত্র ’৭৪ সালে
জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, ১৯৭৩ সালে সমুদ্রসীমা আইন জারি করে তৎকালীন মুজিব সরকার। এরপর ১৯৭৩ সালে সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে প্রথম দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ছয়টি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে পিএসসি সই হয়। এর মধ্যে কুতুবদিয়ায় গ্যাস পাওয়ার কথা জানায় তৎকালীন ইউনিয়ন গ্যাস কোম্পানি (পরে ইউনোকল নামকরণ)। তবে খন্দকার মোশতাক সরকার ক্ষমতায় আসার পর সব কোম্পানি দেশ ছেড়ে চলে যায়। এরপর ১৯৮৮ সালে দরপত্র ডাকা হলেও কেউ অংশ নেয়নি। পিএসসি-১৯৯৪–এর আওতায় ব্রিটিশ কোম্পানি কেয়ার্ন এনার্জির সঙ্গে চুক্তি হয়। তারা সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে উৎপাদন শুরু করে ১৯৯৮ সালে। এরপর ২০১৩ পর্যন্ত এখান থেকে গ্যাস উৎপাদন করা হয়। বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য মজুত অবশিষ্ট না থাকায় এরপর এটি বন্ধ হয়ে যায়। যদিও মাঝে ২০০৭ সালে কেয়ার্ন থেকে শেয়ার কিনে নিয়ে পরিচালনার দায়িত্বে আসে অস্ট্রেলিয়ার সান্তোস।
পিএসসি-২০০৮–এর আওতায় চুক্তি করে ২০১০ সালে গভীর সমুদ্রে কাজ শুরু করে মার্কিন কোম্পানি কনোকো ফিলিপস। গ্যাসের দাম বাড়ানোর দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০১৫ সালে তারা চলে যায়।
পিএসসি-২০১২–এর অধীন অগভীর সমুদ্রের দুটি ব্লকে অস্ট্রেলীয় কোম্পানি সান্তোস এবং আরও দুটি ব্লকে ভারতের ওএনজিসি আসে ২০১৪ সালে। এরপর ২০২০ সালে এ অঞ্চলে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার কথা বলে চলে যায় সান্তোস। ২০১৭ সালে বিশেষ পিএসসির আওতায় আসে কোরীয় কোম্পানি পস্কো দাইয়ু। পস্কোও চলে যায় গ্যাসের দাম বাড়ানোর দাবি তুলে। সর্বশেষ ওএনজিসি চলে যায় গত বছর। তারা সমুদ্রে একটি কূপ খন করলেও গ্যাস পায়নি। এর আগে ২০১৯ সালে পিএসসির খসড়া চূড়ান্ত করা হলেও বিদেশি কোম্পানির তেমন আগ্রহ না থাকায় দরপত্র আহ্বান করা হয়নি।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মুজিব সরকারের সময় বিদেশি কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট না রাখার বিধান ছিল। তবে পরে কোনো দরপত্রের সময়ই এমন কোনো নির্দেশনা ছিল না। বিভিন্ন সময় বিদেশি কোম্পানির হয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের কেউ কেউ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।
বিইআরসির সাবেক সদস্য (গ্যাস) মকবুল ইলাহী চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর সময়ে ৪৬টি বিদেশি কোম্পানি অংশ নিয়েছিল। তখন সব তথ্য বিনা পয়সায় উন্মুক্ত করা হয়। ১৯৯৪ সালেও ১৭টি কোম্পানি এসেছিল। এরপর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বেড়েছে। তিন দিনের কাজ তিন মাসে হয় না। এতে আগ্রহ কমে যায়।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘প্রশ্নবিদ্ধ বাংলাদেশিদের গ্রহণযোগ্যতা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, একসময় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উঁচু ভবন হিসাবে পরিচিত ছিল শিকাগো শহরের সিয়ার্স টাওয়ার। ভবনটির স্থপতি এফআর খান ছিলেন বাংলাদেশি। সুউচ্চ ভবনটির নাম উচ্চারিত হলে বাংলাদেশিরা গর্ব অনুভব করতেন। অথচ কিছু মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে এই বাংলাদেশিদের গ্রহণযোগ্যতা এখন প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
যদিও বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিরা উন্নত বিশ্বের আধুনিক সমাজে নিজেদের অবস্থানও তৈরি করেছেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে নানা কর্মকাণ্ডের জেরে বিদেশে বাংলাদেশিদের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশির ভাগ বিশ্লেষকই এজন্য কিছু বাংলাদেশির কর্মকাণ্ডকেই দায়ী করছেন। তারা বলছেন, বিভিন্ন দেশের ভিসা আবেদনে জাল নথি, ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট, মিথ্যা তথ্য প্রদান, ভুয়া সার্টিফিকেট জমা দেওয়া এর অন্যতম কারণ। গত কয়েক বছর ধরে ক্রমাগতভাবে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় শুধুই পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। যেসব দেশে আগে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসা ছিল, তাদের অনেকেই এখন সহজে বাংলাদেশিদের ভিসা দিচ্ছে না। গত কয়েক বছরে সাইবেরিয়া হয়ে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পাড়ি জমানোর চেষ্টার শীর্ষেও বাংলাদেশিরা। এমনকি ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রবেশের চেষ্টার কারণেও দেশটি বাংলাদেশিদের ভিসা ইস্যুতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে। বিদেশের মাটিতে গিয়ে রাজনৈতিক দলাদলি, আইন না মানা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিদের দুর্নাম রয়েছে। ট্যুরিস্ট ভিসায় বিদেশে গিয়ে দেশে না ফিরে আশ্রয়ের আবেদন এবং সেক্ষেত্রেও নানা প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে বিশ্বের ছোট-বড় নানা দেশে বাংলাদেশিদের গ্রহণযোগ্যতা আগের চেয়ে কমে গেছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে বলেন, বাইরের পৃথিবীতে বাংলাদেশিদের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে একটা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। তার প্রধান কারণ আমাদের অভ্যন্তরীণ সুশাসনের ঘাটতি। বাইরের পৃথিবী বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছে, আমাদের দেশের কাঠামোর মধ্যে নানা ধরনের জটিলতা আছে, সক্ষমতার সমস্যা আছে। একটা প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে যাদের জন্য আমরা কোনো সুনির্দিষ্ট ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারছি না। এখানে কোনো ‘রেগুলেটরি মেকানিজম’ কাজ করছে না, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আছে। এই বিষয়গুলোর কারণেই বাইরের বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তি এবং একই সঙ্গে গ্রহণযোগ্যতার জায়গায় প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার ঘাটতি, জনশাসন, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক পর্যায়ের ঘাটতিগুলো নিয়ে আমরা দেশে যেভাবে কাজ করে থাকি, বিদেশেও সেভাবে আচরণ করি। দেশের রাজনৈতিক বিভাজন রাজনৈতিক দলগুলোরই নানা প্ররোচনায় বাইরের পৃথিবীতে সংক্রমিত হয়েছে। যে কারণে বাইরের পৃথিবীতে বাংলাদেশের নাগরিকদের বিভিন্ন দলের প্রতিনিধি হিসাবে বিভক্ত হয়ে রাস্তায় নানা জটিলতা তৈরি করতে দেখা যায়। এসব ঘটনা স্থানীয় মানুষদের কাছে আমাদের অবস্থান তুলে ধরে। তিনি বলেন, সরকার এবং জনগণের মধ্যে যদি বিশ্বাসের জায়গা শক্তিশালী করা যায়, সামাজিক শৃঙ্খলা বৃদ্ধি করা যায়, অর্থনীতি সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সংরক্ষণ করবে-এমন জায়গায় যদি নিয়ে যাওয়া যায় তাহলে এই অবস্থা থেকে উত্তরণের সুযোগ আসবে।
পাসপোর্টে শুধুই পিছিয়ে পড়া: বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় ক্রমাগতভাবে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রকাশিত হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৭। অথচ বছরের শুরুর দিকে বাংলাদেশের পাসপোর্টের এই সূচক ছিল ৯৫তম স্থানে। সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে ভিসামুক্ত সুবিধায় বিশ্বের ৩৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারছে। অথচ ২০২৫ এবং জানুয়ারি ২০২৬ সালের সূচকে এ সংখ্যা ছিল ৩৭টি দেশ। সেদিক থেকে মাত্র ৬ মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশ দুটি ভিসামুক্ত সুবিধার দেশ হারিয়েছে। সূচক অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট মালদ্বীপের অবস্থান ৫২তম।
ভিসা আবেদনে জাল নথি ও ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিসা আবেদনের জন্য জাল নথি ও ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট ব্যবহার করার কারণে বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি খারাপ হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে পশ্চিমা বিশ্বের ১৩টি দেশ ভিসার আবেদনে ভুয়া নথি, লাইসেন্সবিহীন এজেন্ট এবং অননুমোদিত অর্থ লেনদেন না করতে বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়েছে। দেশগুলো হলো-অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, হাঙ্গেরি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্য। দেশগুলোর বাংলাদেশে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট হাইকমিশন ও দূতাবাসগুলোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌথ এই বার্তা প্রকাশ করা হয়। ভুয়া নথি ব্যবহার করলে ভিসা প্রক্রিয়ায় দেরি, আর্থিক ক্ষতি, প্রবেশে বাধা কিংবা গুরুতর আইনি শাস্তির মতো পরিণতির কথা এতে উল্লেখ করে সতর্ক করা হয়। কিন্তু এসব বার্তার পরেও থামেনি ভিসার আবেদনে ভুয়া নথি ও ব্যাংক স্টেটমেন্টের ব্যবহার।
কালের কণ্ঠ
আর্থিক খাতে ‘নাজুক’ সাইবার নিরাপত্তা, ব্যয় মাত্র ৫ শতাংশ-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক খাতে সাইবার হামলার ঝুঁকিও বাড়ছে। অথচ এই ঝুঁকি মোকাবেলায় যথেষ্ট প্রস্তুতি নেই।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) গবেষণা বলছে, দেশের অর্ধেকের বেশি ব্যাংকের সাইবার হামলা ঠেকানোর সক্ষমতা নেই। তথ্য-প্রযুক্তি খাতে ব্যাংকগুলো বছরে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় করলেও এর মাত্র ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে সাইবার নিরাপত্তার জন্য। এমন পরিস্থিতিতে দেশের আর্থিক খাতের সাইবার নিরাপত্তা নতুন করে আলোচনায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামলার আশঙ্কা দেখা দিলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িকভাবে তৎপর হয়। কিন্তু নিয়মিত নিরাপত্তা হালনাগাদ, দক্ষ জনবল তৈরি, সার্বক্ষণিক নজরদারি ও দুর্বলতা পরীক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে। ফলে ডিজিটাল লেনদেনের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও সাইবার নিরাপত্তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় জোরদার হচ্ছে না। এতে আর্থিক খাতে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছেই।
সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে পিএইচপি প্রোগ্রামিংয়ে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলার উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। তিন দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল রবিবার সকালে চালু হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট। কয়েকটি ব্যাংকের ওয়েব সাইটে হামলার আলামতও পাওয়া গেছে। তবে এ সময় ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লেনদেন স্বাভাবিক রয়েছে।
সরকারি সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্টের ২০২৪ সালের প্রতিবেদনেও ঝুঁকির চিত্র উঠে এসেছে। ওই বছর সরকারি খাতের পর আর্থিক খাতেই সবচেয়ে বেশি সাইবার নিরাপত্তার ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আগের বছরের তুলনায় র্যানসমওয়্যার হামলা বেড়েছে প্রায় ১২৫ শতাংশ।
প্রতিদিন শত শত হামলা : বিআইবিএমের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ সালে ব্যাংক খাতে প্রতিদিন ১৪৫ থেকে ৬৩০টি সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার ২৪ শতাংশ এসেছে চীন থেকে, ১৩ শতাংশ উত্তর কোরিয়া এবং ১২ শতাংশ রাশিয়া থেকে। ২৪ শতাংশ ঘটনায় হামলাকারী শনাক্ত করা যায়নি।
গবেষণায় দেখা গেছে, ২৭ শতাংশ ঘটনায় ভেন্ডর বা তথ্য-প্রযুক্তি সেবাদাতাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল। ব্যাংকের নিজস্ব কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে ১৬ শতাংশ ঘটনায়। গবেষণায় সাম্প্রতিক অনলাইন জালিয়াতির ৭২ শতাংশ সুইফট পদ্ধতিতে সংঘটিত হওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিআইবিএমের গবেষণা অনুযায়ী, ব্যাংককর্মীদের মাত্র ৪ শতাংশ সাইবার সচেতনতায় উৎকর্ষ অর্জন করেছেন। ২২ শতাংশের সচেতনতার মান খারাপ এবং ২৮ শতাংশের খুবই নাজুক। গ্রাহকদের মধ্যে ২৩ শতাংশের সচেতনতা খারাপ, আর ৩১ শতাংশের খুবই খারাপ।
ফিনটেক উদ্যোক্তা ড. শাহাদাত খান দেশের ব্যাংক খাতের সাইবার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ‘তথৈবচ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলছেন, হ্যাকাররা কখনো কখনো ব্যাংকের ডেটা বেইস দখল করে অর্থ দাবি করছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সেই অর্থ দেওয়াও হচ্ছে।
নিরাপত্তাত্রুটিতে বন্ধ ওয়েবসাইট: সাইবার হামলার আশঙ্কায় গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অগ্রণী, আইএফআইসি, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ও এসবিএসি ব্যাংকের ওয়েবসাইটও বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে সেগুলো সচল হয়। জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইটেও হামলার আলামত পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওয়েবসাইটে কোনো ত্রুটি আছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী হামলার আশঙ্কায় সাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ঝুঁকি কেটে যাওয়ায় আবার চালু করা হয়েছে। এ সময় ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লেনদেন স্বাভাবিক ছিল।’
গত ২১ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এনিসাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সফটওয়্যারের দুটি গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি নিয়ে সতর্কবার্তা দেয়। এসব ত্রুটি কাজে লাগিয়ে আক্রান্ত সার্ভারে ক্ষতিকর কোড চালানো সম্ভব। দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদ করা না গেলে ঝুঁকিপূর্ণ ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন সাময়িকভাবে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন দেশের সরকার ও প্রতিষ্ঠান ওয়েবসাইট বন্ধ করতে শুরু করে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘শিক্ষার্থীর খরা, তবু নতুন ১১ প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের চেষ্টা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা আরও বাড়ছে। অথচ বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেকটিতেই পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী নেই। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা থাকছে। শিক্ষার মান, শিক্ষক সংকট, স্থায়ী ক্যাম্পাস ও গবেষণার পরিবেশ নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। এ পরিস্থিতিতে নতুন করে আরও ১১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এসব আবেদনের সম্ভাব্যতা, প্রয়োজনীয়তা ও আইনি শর্ত পূরণের বিষয় যাচাই বাছাই করছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংকট নিরসন ও মানোন্নয়ন নিশ্চিত না করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের উদ্যোগ কতটা যৌক্তিক? তাদের মতে, উচ্চশিক্ষার চাহিদা, কর্মবাজারে স্নাতকদের প্রয়োজন, আঞ্চলিক বৈষম্য এবং প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও একাডেমিক সক্ষমতা যাচাই না করে অনুমোদন দেওয়া হলে উচ্চশিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ আরও বাড়তে পারে।
দেশে ১১৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিপুল সংখ্যায় কমেছে। কমেছে পাসের হারও। সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের পছন্দের ক্ষেত্রও বিস্তৃত। ফলে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এমন বাস্তবতায় নতুন ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাব উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা ও চাহিদা নিরূপণের প্রশ্নটি সামনে এনেছে।
অনুমোদনের অপেক্ষায় ১১ বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য আবেদন করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজশাহীর আশ্রয় ইউনিভার্সিটি ও ইম্পেরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ইউনিভার্সিটি অব ইন্টিগ্রেটেড থট, গাজীপুরের বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি, ঢাকার যমুনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ব্রিটিশ বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, সাভারের গ্লোরিয়াস ইউনিভার্সিটি, ঝিনাইদহের সৃজনী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনার নৌবাহিনী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব এক্সিলেন্স এবং ভ্যারিটাস ইউনিভার্সিটি।
ইউজিসি সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে গত ছয় মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কমিশনের মতামত চাওয়া হয়েছে। গত ২৭ মার্চ ছয়টি প্রস্তাবের বিষয়ে মতামত চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে আরও পাঁচটি প্রস্তাবের বিষয়ে আলাদা মতামত চাওয়া হয়। যাচাই-বাছাই ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে অনুমোদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যমুনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে যমুনা গ্রুপ। বেঙ্গল ইউনিভার্সিটির জন্য আবেদন করেছেন বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টির সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. সৈয়দ জাভেদ মোহাম্মদ সালেহউদ্দিন। গ্লোরিয়াস ইউনিভার্সিটির জন্য কৃষিবিদ গ্রুপের পক্ষে আবেদন করেছেন ড. মো. আলী আফজাল। ব্রিটিশ বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির জন্য আনোয়ারুল ইসলাম এবং সৃজনী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সৃজনী বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এম হারুন অর রশীদ আবেদন করেন।
ইত্তেফাক
‘প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর: লক্ষ্য বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ’—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে আজ সোমবার টোকিও যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল মঙ্গলবার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব সম্পর্ককে আরো গভীর করতে দুই নেতা আলোচনা করবেন। জাপানি বিনিয়োগ আরো বাড়ানোর পাশাপাশি মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়েও আলোচনা হবে। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পাবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সফরে বিশেষ গুরুত্ব পাবে গত ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (ইপিএ) এর কার্যকর বাস্তবায়ন, জাপানি বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং ব্যাবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করার মতো বিষয়গুলো।
সূত্রে জানা যায়, সফরের প্রক্কালে ২০২৬-২০৩১ সময়কালে ১২টি অগ্রাধিকার খাতের জন্য প্রায় ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিনিয়োগ প্যাকেজের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু উদ্যোগ ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিআইজি-বি) এর সঙ্গে যুক্ত। প্রস্তাবিত এই প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে- পরিবহন ও নগর সংযোগের জন্য ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, মাতারবাড়িসহ সমন্বিত শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রের জন্য ৩ দশমিক ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, উত্পাদন শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর ও অটোমোবাইল খাতের জন্য ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের জন্য ১ দশমকি ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামোর জন্য ৯৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া কৃষি, ওষুধ শিল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি, পর্যটন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং অন্যান্য খাতের জন্য আরো ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
জানা যায়, দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতায় পাঁচ থেকে আটটি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। এর মধ্যে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের ঋণ ও আর্থিক সহায়তা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। প্রস্তাবিত এই প্যাকেজের আওতায় বাজেট সহায়তা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা অন্তর্ভুুক্ত থাকার কথা রয়েছে। প্রস্তাবিত মোট অর্থের মধ্যে প্রায় ৩০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তার জন্য বরাদ্দ রাখা হতে পারে।
সফরে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার বাইরে উভয়পক্ষের মধ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, জ্বালানি-সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী জাপানের কয়েকটি বড় কোম্পানি ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাত্ ও বিভিন্ন শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন করবেন।
প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি আজ সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন। সফরের প্রথম দিন আজ বিকালে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন। এ সময় লিগের জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিও উপস্থিত থাকবেন। একইদিন জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর পৃথক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সন্ধ্যায় তিনি নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন আগামীকাল মঙ্গলবার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের আগে তাকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। শীর্ষ বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরো জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশেষ করে ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় কমানো এবং জাপান থেকে নেওয়া ঋণের সুদের হার হ্রাসের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। মেট্রোরেল ছাড়াও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করার বিষয়েও আলোচনা হবে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর ‘উন্নয়নে বাজেট বাড়ে, প্রকল্পের গতি কমে!’। প্রতিবেদনে বলা হয়, উন্নয়নের বাজেট প্রতি বছরই বাড়ছে। একের পর এক প্রকল্প নেয়া হচ্ছে; কিন্তু সেই প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ খরচের গতি খুবই ধীর। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) উন্নয়ন ব্যয়ের পরিসংখ্যান সামনে এনেছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তিন মাসে অগ্রগতি মাত্র ৩.৮৯ শতাংশ। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন নিয়ে এক দিকে রয়েছে বরাদ্দের বিপুল অঙ্ক, অন্য দিকে রয়েছে অর্থ ব্যয়ের গতি, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক অগ্রগতি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ। এডিপিতে প্রথম তিন মাসেই ধাক্কা, ১৫ মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ে প্রশ্ন। সেপ্টেম্বরেও কাজে গতি ফেরেনি, শুরু হয়নি ১২ প্রকল্পের কাজ। ১৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ১১টিই নিজস্ব অর্থ খরচে অক্ষম বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ তথ্যে বেরিয়ে এসেছে।
আইএমইডি তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এডিপির আওতাভুক্ত ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য নির্ধারিত এক লাখ ৬৩ হাজার ৪২৯ কোটি ৬৪ লাখ ৯২ হাজার টাকার বিপরীতে ব্যয়ের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৮২৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের মোট এডিপির আকার হলো তিন লাখ আট হাজার ৯২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এখানে জিওবি হলো এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, বিদেশী সহায়তা এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব হলো আট হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। তিন মাসে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ১৮ কোটি টাকা বা ৩.৮৯ শতাংশ।
বরাদ্দের পাহাড়, বাস্তবায়নের গতি কতটা?
এডিপির আকার গত কয়েক বছরে বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এডিপির বরাদ্দ ছিল দুই লাখ ৫৬ হাজার তিন কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ আট হাজার ৯২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকায়। অর্থাৎ, পাঁচ অর্থবছরের ব্যবধানে উন্নয়ন বাজেটের আকার বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এই বৃদ্ধির পরিমাণ হলো ৫২ হাজার ৯২১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা; কিন্তু বরাদ্দ বাড়ার সাথে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কতটা বেড়েছে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। উন্নয়ন বাজেটের মূল উদ্দেশ্য অবকাঠামো নির্মাণ, জনসেবা সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে বরাদ্দের কাক্সিক্ষত সুফলও পিছিয়ে যায়।
আগের অর্থবছরগুলোর প্রথম তিন মাসের ব্যয়ের হার তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই হার ছিল ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য দেয়া হিসাবে হার ৫ দশমিক ০৯ শতাংশ।
১৫ মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ে বৈষম্য
এডিপির আওতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ব্যয়ের অগ্রগতিতেও পার্থক্য রয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্য বরাদ্দ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার ৩৭৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বরাদ্দ ২৬ হাজার ৮৭০ কোটি ৯০ লাখ টাকা। প্রদত্ত তথ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ের হার ২ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা খাতে ১.৭৮ শতাংশ। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ের হার ৪.৬৬ শতাংশ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ। স্থানীয় সরকার বিভাগ থোক বরাদ্দসহ ১২.৪২ শতাংশ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগ ১৩.০৭ শথাংশ বাস্তবায়ন হার।
সেপ্টেম্বরেও ব্যয়ের চাপ
চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বর মাসে এডিপি খাতে ব্যয়ের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ছয় হাজার ৩০৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন বা জিওবি অংশে ব্যয় চার হাজার ৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য খাতে দুই হাজার ১০৪ কোটি ১১ লাখ টাকা। নিজস্ব অর্থায়নে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১৯৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। প্রকল্প সাহায্য ও সরকারি অর্থায়নের অর্থছাড় এবং ব্যয়ের গতি এডিপি বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বিশেষ করে বিদেশী ঋণ ও অনুদাননির্ভর প্রকল্পে অর্থছাড়, ক্রয়প্রক্রিয়া, পরামর্শক নিয়োগ এবং ঠিকাদার নির্বাচনসহ বিভিন্ন ধাপের বিলম্ব প্রকল্প বাস্তবায়নকে প্রভাবিত করতে পারে। আইএমইডির তথ্যের বরাতে দেয়া হিসাবে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে মোট প্রকল্পের সংখ্যা এক হাজার ১৭২টি। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৯৮৬টি, সমীক্ষা প্রকল্প ২৩টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১০৯টি, উন্নয়ন সহায়তা খাতের প্রকল্প ৯টি। নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের সংখ্যা ৪৫টি।
নজর দিতে হবে বাস্তবায়নে-আইএমইডি
আইএমইডির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এডিপির সাফল্য শুধু বরাদ্দের আকার দিয়ে বিচার করা যায় না। প্রকল্প সময়মতো শেষ হচ্ছে কি না, ব্যয়ের বিপরীতে বাস্তব অগ্রগতি কতটা, সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ছে কি না এবং জনগণ নির্ধারিত সময়ে সুফল পাচ্ছে কি না- এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের পরিসংখ্যান তাই শুধু ব্যয়ের হিসাব নয়; উন্নয়ন প্রকল্প ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা মূল্যায়নেরও একটি সুযোগ। কোন মন্ত্রণালয় বরাদ্দের বিপরীতে পিছিয়ে রয়েছে, কোন প্রকল্পে অর্থ ছাড়ে বাধা রয়েছে এবং কোথায় বাস্তবায়ন প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে- এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। বছরের শেষ দিকে ব্যয় বাড়ানোর তাড়াহুড়োর পরিবর্তে শুরু থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা গেলে অর্থের গুণগত ব্যবহার নিশ্চিত করা সহজ হবে। অন্যথায় উন্নয়ন বাজেটের আকার বাড়লেও নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করা এবং জনগণকে তার সুফল পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।
বণিক বার্তা
‘সাইবার হামলার ঝুঁকিতে দেশের সরকারি-বেসরকারি শতাধিক প্রতিষ্ঠান’—এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিএইচপি একটি বহুল ব্যবহৃত ওয়েব প্রোগ্রামিং ভাষা। বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়। এ ভাষার পুরনো সংস্করণে নিরাপত্তা দুর্বলতা থাকলে তা কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা সংশ্লিষ্ট সার্ভার ও তথ্য ব্যবস্থায় প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে।
দেশের সরকারি-বেসরকারি শতাধিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন পিএইচপির পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ সংস্করণ ব্যবহারের কারণে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। পিএইচপি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে নিরাপত্তা ত্রুটি দেখা দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দুর্বলতা শনাক্ত করে সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। তবে অনেক প্রতিষ্ঠান সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে অননুমোদিত প্রবেশ, তথ্য চুরি এবং সেবা অচল করে দেয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারের সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট। ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক। এ পরিস্থিতিতে গত ২২ অক্টোবর সাইবার হামলার সতর্কতা জারির পর গতকাল আবারো সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছে বিজিডি ই-গভ সার্ট।
‘আনরিজলভড পিএইচপি সিকিউরিটি এক্সপোজারস ইন গভর্নমেন্ট, পাবলিক অ্যান্ড প্রাইভেট-সেক্টর অর্গানাইজেশনস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সতর্কবার্তায় ঝুঁকিপূর্ণ পিএইচপি সংস্করণ শনাক্ত, নিরাপত্তা প্যাচ প্রয়োগ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সংস্করণ হালনাগাদের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। সার্টের সাইবার থ্রেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণে এসব দুর্বলতা শনাক্ত হয়েছে। আগের সতর্কবার্তার পরও অনেক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঝুঁকি নিরসনের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ও সার্ভারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, পুরনো পিএইচপি সংস্করণ ব্যবহারের কারণে ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। দুর্বলতা ও সিস্টেমের কনফিগারেশনের ওপর নির্ভর করে আক্রান্ত সার্ভারে দূর থেকে অননুমোদিত কোড চালানো, সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ এবং সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ বেহাত হওয়ার মতো ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব তথ্যপ্রযুক্তি সম্পদের তালিকা, ব্যবস্থাপনা ঘাটতি নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত ও নিরসনে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করেন বিজিডি ই-গভ সার্টের প্রকল্প পরিচালক মো. নাজমুল হক। তিনি এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল ব্যবস্থায় পিএইচপির পুরনো সংস্করণ ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট বা তথ্যপ্রযুক্তি সম্পদের সঠিক তালিকা নেই। ফলে কোন সার্ভার বা ওয়েবসাইটে পুরনো সংস্করণ চালু রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অজানা থেকে যাচ্ছে। এ ঝুঁকি এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সফটওয়্যার ও সিস্টেম হালনাগাদ করতে হবে।’
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিএইচপি একটি বহুল ব্যবহৃত ওয়েব প্রোগ্রামিং ভাষা। বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়। এ ভাষার পুরনো সংস্করণে নিরাপত্তা দুর্বলতা থাকলে তা কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা সংশ্লিষ্ট সার্ভার ও তথ্য ব্যবস্থায় প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। এ ঝুঁকি মোকাবেলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। বাংলাদেশেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ একাধিক ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে।
তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি শনাক্ত হলে কেবল ওয়েবসাইট বন্ধ রেখে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রযুক্তিবিদ ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিজিটাল ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর হাসান জোহা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পিএইচপির এ দুর্বলতা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড ছাড়াই সরাসরি ডেটাবেজে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অনেক প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক ব্যবস্থা হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখছে, যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়।’
দেশ রূপান্তর
‘পুলিশের ৬৪% গাড়ির আয়ু শেষ’—এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, পুরনো ও জরাজীর্ণ যানবাহনে ব্যাহত হচ্ছে পুলিশের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম। অনেক গাড়ির ফিটনেস, যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। অপরাধ সংঘঠনের আগে বা পরে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে কিংবা জরুরি অভিযানের সময় মাঝপথে থেমে যাচ্ছে গাড়ি। সময় মতো পুলিশ ঘটনাস্থলে যেতে পারলে অনেক অপরাধ সংঘটিত হতো না। যানবাহন সমস্যা একদিকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের অন্তরায়, অন্যদিকে ফসকে যায় অপরাধী। পুলিশের তথ্য বলছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ও মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে প্রায় ৬৪ শতাংশ যানবাহন এখন জরাজীর্ণ। তারপরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে নতুন যানবাহন ক্রয় করতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় প্রস্তাব উপস্থাপনে কথা রয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানে পটপরিবর্তনের পর পুলিশের সবকটি ইউনিটে প্রকট আকার ধারণ করে যানবাহন ব্যবস্থাপনা। থানা ও ফাঁড়িগুলোতে যানবাহন নেই বললেই চলে। গাড়ির অভাবে ঠিকমতো অপারেশন কার্যক্রম চালাতে পারছে না পুলিশ। ইতিমধ্যে পুলিশের জন্য অতিরিক্ত যানবাহন চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, দ্রুত যানবাহন ক্রয় করতেই হবে। আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করতে যানবাহন ক্রয় করা ছাড়া উপায় নেই। অন্তর্বর্তী সময় সরকারের সময় যানবাহন ক্রয় করার কথা থাকলেও রহস্যজনক কারণে কেনা হয়নি। অবশেষে সপ্তাহখানেক আগে ৬ হাজার ৬০৯ কোটি টাকার পাঁচ হাজার ৮৩০টি নতুন যানবাহন ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তারপরও যানবাহনের ঘাটতি থাকবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। নতুন যানবাহন আসতে তিন বছরের বেশি সময় লেগে যাবে।
পুলিশসংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানায়, ৫ আগস্টের আগে ও পরে পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা এবং অগ্নিসংযোগের অনেক ঘটনা ঘটেছে। থানা ও ফাঁড়িসহ একাধিক স্থানে হামলা চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র লুটের পাশাপাশি ৪৪ পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। এখনো লুট হওয়া সব আগ্নেয়াস্ত্র হয়নি উদ্ধার। হামলা-অগ্নিসংযোগে সহস্রাধিক যানবাহন অকেজো হয়ে পড়ে।
আন্দোলনের সময় বেশি যানবাহনে আগুন : পুলিশের তথ্যানুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকা মহনগর পুলিশের (ডিএমপি) ৫০টি থানার ২১টিসহ পুলিশের ২১৬টি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। আগুনে পুড়ে যায় ১৩টি থানা। পুড়িয়ে দেওয়া হয় পুলিশের বেশ কিছু টহল গাড়িও। বেশি ক্ষতি হয়েছে যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, ভাটারা, মোহাম্মদপুর, আদাবর, মিরপুর ও উত্তরা পূর্ব থানা। ঢাকার বাইরে টাঙ্গাইলের গোড়াই হাইওয়ে থানা, বগুড়ার সদর, দুপচাঁচিয়া ও শেরপুর থানা এবং নারুলী পুলিশ ফাঁড়ি, জয়পুরহাট সদর থানা, কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানা, রংপুরের গঙ্গাচড়া, মিঠাপুকুর, পীরগাছা, পীরগঞ্জ, বদরগঞ্জ ও গঙ্গাচড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও আশুগঞ্জ থানা, সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর থানা, হবিগঞ্জের মাধবপুর ফাঁড়ি, ময়মনসিংহ রেঞ্জ অফিস, নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়, দিনাজপুর সদর থানাসহ অসংখ্য স্থাপনায় হামলা ও আগুন দেওয়া হয়। এসব থানায় প্রায় সব ধরনের যানবাহন ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়। ওই সময় ৫২৬টি সরকারি গাড়ি আগুন দেওয়ার পাশাপাশি ৫৩৩টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৫৯টি যানবাহন সম্পূর্ণ ভস্মীভূত ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহনেও কাবু হয়ে পড়েছে পুলিশ। অনেক যানবাহনের নেই ফিটনেস।
৫৮৩০টি গাড়ি কেনার উদ্যোগ : পুলিশ সূত্র জানায়, পুুলিশের পরিবহন ব্যবস্থা সমৃদ্ধ করতে দুটি প্রকল্পে ৫ হাজার ৮৩০টি গাড়ি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারি অর্থায়নে দুই প্রকল্পে ৬৬০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব গাড়ি কেনা হবে। এর মধ্যে ‘পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অপারেশনাল যানবাহন ক্রয়’ প্রকল্পে ৪৩২৮ কোটি ৯২ লাখ ৪৭ হাজার টাকায় সাধারণ কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী ৪৮২৯টি গাড়ি কেনা হবে এবং অন্য প্রকল্পে ১০০১টি বিশেষায়িত গাড়ি কেনা হবে। গতকাল রবিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের কারণে সভাটি স্থগিত করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ পুলিশ। দুটি প্রকল্পই ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করার কথা। এ ছাড়া গাড়ি মেরামতের সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ৬৫০ জন হালকা যানবাহন চালক ও ৩০০ জন ভারী যানবাহনচালককে গাড়ি চালানো ও যান্ত্রিক বিষয়ে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া আরও ৫০ জনকে আলাদাভাবে মেকানিকের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘১২৪৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি অর্থ লুটপাটের অভিযোগের বড় উদাহরণ পিরোজপুরে ভান্ডারিয়া উপজেলার সড়কগুলো। আর অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে সরকারি কর্মকর্তা, ঠিকাদার ও প্রভাবশালী রাজনীতিকদের একটি গোষ্ঠী। এদের মধ্যে জেলার সাবেক দুই এমপি মহিউদ্দিন মহারাজ ও শ ম রেজাউল করিম রয়েছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পিরোজপুর জেলা কার্যালয় ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নেওয়া ১৭টি প্রকল্পের তদন্ত করে। এতে অন্তত আটটি প্রকল্পে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের তথ্য পাওয়া যায়। এই আট প্রকল্পের মোট চুক্তিমূল্য ছিল ২ হাজার ১৪১ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ছাড় করা হয়েছে ২ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তবে সম্পন্ন কাজের মূল্য মাত্র ৮২৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ সম্পন্ন কাজের মূল্যের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা বেশি পরিশোধ করা হয়েছে।
এ আটটি প্রকল্পের সব কাজ পেয়েছিল একই পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। ওই পরিবারের সদস্যরা হলেন পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক স্বতন্ত্র এমপি মহিউদ্দিন মহারাজ, তার তিন ভাই ও এক ভাইয়ের স্ত্রী। নথিপত্রে দেখা যায়, কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল পরিশোধ, একই কাজের জন্য একাধিকবার অর্থ পরিশোধ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নথিপত্র সংরক্ষণে গুরুতর অবহেলার ঘটনা ঘটেছে। কিছু সরকারি নথি পুরোপুরি গায়েব হয়ে গেছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করা মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রায় ২০০টি টেন্ডারে একজন করে দরদাতা অংশ নিয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে যে দুটি প্রতিষ্ঠান দরদাতা হিসেবে অংশ নিয়ে সেসব প্রতিষ্ঠানের মালিক মহিউদ্দিন মহারাজ। অর্থাৎ অন্য ঠিকাদারদের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগই দেওয়া হয়নি। সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে এমনভাবে সিস্টেম তৈরি করেছে যেন অংশ কেউই অংশ নিতে না পারেন।
এলজিইডির হিসাব অনুযায়ী, আটটি প্রকল্পেই সম্পন্ন কাজের মূল্য অপেক্ষা বেশি অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। বরিশাল ডিভিশন ইমপরট্যান্ট উপজেলা অ্যান্ড ইউনিয়ন রোড ওয়াইডেনিং অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং প্রজেক্টের কাজ হয়েছে ১৫ শতাংশ, আর অর্থ পরিশোধ ৯০ শতাংশ। ক্লাইমেট-অ্যাডাপটিভ ফার্মিং ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রজেক্টের কাজ হয়েছে ৪১ শতাংশ, আর অর্থ পরিশোধ ৮৫ শতাংশ। ইমপরট্যান্ট ব্রিজ রি-কনস্ট্রাকশন প্রজেক্টের কাজ হয়েছে ৫০ শতাংশ, আর অর্থ পরিশোধ ১০৬ শতাংশ। অর্থাৎ কাজ অর্ধেক শেষ হলেও চুক্তিমূল্যের চেয়েও বেশি অর্থ দেওয়া হয়েছে। আরবান হেলথ ব্রিজেস প্রজেক্টের কাজ হয়েছে ৫০ শতাংশ, অর্থ পরিশোধ ১০০ শতাংশ। আপগ্রেডিং টু মডার্ন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের কাজ হয়েছে ৬৫ শতাংশ, অর্থ পরিশোধ ৮৬ শতাংশ। ভিলেজ রোড রিহ্যাবিলিটেশন প্রজেক্টের কাজ হয়েছে ৬৬ শতাংশ, অর্থ পরিশোধ ৭৭ শতাংশ। ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট মডার্ন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের কাজ হয়েছে ৭০ শতাংশ, অর্থ পরিশোধ ৭১ শতাংশ। ফ্লাড ড্যামেজড রুরাল রোড ইনফ্রাস্ট্রাকচার রিহ্যাবিলিটেশন প্রজেক্টের কাজ হয়েছে ৯১ শতাংশ, অর্থ পরিশোধ ১০০ শতাংশ। এসব প্রকল্প নিয়ে এলজিইডি চলতি বছরের আগস্টে একটি পরিবীক্ষণ প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনটি দুদকের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংগ্রহ করেছেন। ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, একটি প্রকল্পে অনুমোদিত ৯৩৬ কোটি টাকার বিপরীতে ঠিকাদারকে ৯৯৬ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ চুক্তিমূল্যের চেয়ে ৬০ কোটি টাকা বেশি পরিশোধ করা হয়েছে। বরিশাল বিভাগের ৪২টি উপজেলায় যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে নেওয়া সাউদার্ন কান্ট্রি আয়রন ব্রিজ রি-কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন প্রকল্পটি চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তখন পর্যন্ত কাজের মাত্র অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছিল। নথিপত্র অনুযায়ী, চুক্তিমূল্যের প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থাৎ ৬২৪ কোটি টাকা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আটটি প্রকল্পের সম্মিলিত চুক্তিমূল্য ২ হাজার ১৪১ কোটি টাকা। সম্পন্ন কাজের পরিমাণ বিবেচনায় নেওয়া হলে মাত্র ৮২৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা পরিশোধ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে ছাড় করা হয়েছে ২ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ সম্পন্ন কাজের মূল্য বিবেচনায় প্রায় ১ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা বেশি পরিশোধ করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার প্রস্তাবিত মালিয়ার হাট-কৈখালী হাট সড়কটির কয়েকটি অংশের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। ওই এলাকার বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক মাসে এসব সড়কে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে।
