নাম্বার নাইনের খোঁজে দলে রোনান-মাহি

জাতীয় দলের সাফ প্রস্তুতি শুরু আজ

নাম্বার নাইনের খোঁজে দলে রোনান-মাহি

ফন্ট সাইজ:

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ৫ই নভেম্বর, ভুটানের বিপক্ষে। কিন্তু টুর্নামেন্টের শুরুতে দলের সঙ্গে থাকছেন না হামজা চৌধুরী। ইংল্যান্ডের ক্লাব ফুটবলের ব্যস্ত সূচির কারণে এই মিডফিল্ডারকে ছাড়াই প্রথম ম্যাচের পরিকল্পনা সাজাতে হচ্ছে কোচ টমাস ডুলিকে। হামজা ঢাকায় পৌঁছাতে পারেন ৮ বা ৯ই নভেম্বর। সব ঠিক থাকলে সাফে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে খেলতে পারবেন তিনি। গতকাল ঢাকার একটি হোটেলে প্রাথমিক দলের ২২ ফুটবলার রিপোর্ট করেছেন। আজ বিকালে জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হবে অনুশীলন।

২৮ সদস্যের প্রাথমিক দলে থাকা বাকি সাত প্রবাসী ফুটবলারও ধাপে ধাপে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। তারিক কাজী ও শমিত সোমের যোগ দেয়ার কথা ২৮শে অক্টোবর থেকে ৩রা নভেম্বরের মধ্যে। হামজার সঙ্গে শেষ দিকে আসবেন ফারহান আলী ওয়াহিদ। হামজাদের শুরু থেকে না পাওয়ার কারণ হিসেবে ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতির নিয়মের কথা বলেছেন ডুলি। ক্লাবের খেলা চলায় নির্ধারিত সময়ের আগে খেলোয়াড়দের ছাড়তে রাজি নয় সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলো। কোচ বলেন, ‘লীগ ম্যাচ থাকায় ক্লাবগুলো তাদের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের আগেভাগে ছাড়তে চায় না। ফিফা উইন্ডোর নির্দিষ্ট নিয়মের কারণে ৮ তারিখের আগে তাদের ছাড়ার সুযোগ নেই। তাই হামজাদের ৯ তারিখের দিকে এসে পৌঁছানোর কথা এবং দ্বিতীয় ম্যাচ থেকেই তারা দলের সঙ্গে থাকবে।’

হামজার অনুপস্থিতি সামলানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ গোলের সমস্যা কাটানো। জাতীয় দলে একজন কার্যকর স্ট্রাইকারের অভাব দীর্ঘদিনের। সেই ঘাটতি পূরণে এবারের প্রাথমিক দলে নতুন মুখ হিসেবে জায়গা পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা রোনান সুলিভান ও ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ফুটবলে খেলা মাহি খান। কেন এই দুই স্ট্রাইকারকে দলে নেয়া হয়েছে, সেটির ব্যাখ্যায় ডুলি বলেন, ‘সবাই জানে আমরা একজন নম্বর নাইন খুঁজছি। পেনাল্টি বক্সে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ও গোলকিপারের সামনে গিয়ে প্রথম বলে পৌঁছানোর মতো সাহসী স্ট্রাইকার দলে প্রয়োজন।

রোনান ও খান- উভয়েই খাঁটি নম্বর নাইন এবং এই ঘাটতি পূরণ করতেই তাদের ডাকা হয়েছে।’ ঘরোয়া ফুটবলের ফরোয়ার্ডদের বাদ দেয়ার বিষয়ে কোচের অবস্থানও স্পষ্ট। তার মতে, অনুশীলন ও ম্যাচে যিনি গোল করতে পারবেন, দলে জায়গা পাওয়ার যোগ্যতা তারই বেশি। সাফের শিরোপা জয়ের জন্য খেলোয়াড়দের পারস্পরিক বোঝাপড়াকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ডুলি। স্থানীয় ও প্রবাসী ফুটবলারদের মধ্যে দূরত্বের অভিযোগ নিয়েও তার বক্তব্য, মাঠে সবাইকে এক হয়ে খেলতে হবে। কোচ বলেন, ‘খাবার টেবিলে সবাই একসঙ্গে বসবে এমন কোনো নিয়ম নেই। তবে মাঠে যখন নামবো, তখন মাঠ কিন্তু একটাই। সেখানে আমাদের একে অপরের পরিপূরক হয়ে লড়তে হবে।’ সাফের জন্য ঘোষিত ২৮ সদস্যের প্রাথমিক দলের বাইরে ইসহাক আকান্দো ও মো. আসিফকে শুধু অনুশীলনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। তবে প্রস্তুতির সময় কম পাওয়া এবং খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ডুলি।

সাফ কর্তৃপক্ষের কাছে গত ১৮ই অক্টোবরের মধ্যে ২৮ সদস্যের তালিকা জমা দিতে হয়েছে। ফলে শেষ মুহূর্তে কেউ চোটে পড়লে বিকল্প খুঁজে নেয়ার সুযোগও সীমিত। বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘কেউ আগের দিন ম্যাচ খেলে আজ এসে যদি হাঁটুতে সমস্যা নিয়ে হাজির হয়, তাহলে আমাদের কী করার আছে? কিছুই করার নেই। তাকে খেলার উপযোগী করে তুলতে হবে।’ ডুলি জানিয়েছেন, অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণও কিছুটা ফিটনেস সমস্যা নিয়ে ক্যাম্পে ফিরেছেন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে খেলোয়াড়দের পুরোপুরি প্রস্তুত করে তোলাই এখন কোচিং স্টাফের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। প্রস্তুতি শুরুর আগেই কোচিং স্টাফে পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশের। চার বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর সহকারী কোচের পদ ছেড়েছেন হাসান আল-মামুন। তার পদত্যাগে সাফের প্রস্তুতিতে স্থানীয় সহকারী কোচ ছাড়াই কাজ শুরু করতে হচ্ছে ডুলিকে।