মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সশস্ত্র সংঘাত এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে ইউরোপীয় বাজারে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রভাব ইউরোপীয় অর্থনীতির ওপর পড়তে শুরু করেছে, যা নতুন করে মূল্যস্ফীতি বাড়ার সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করেছে।
বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন এবং বাজার বিশ্লেষণের ভিত্তিতে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং জ্বালানি রপ্তানিতে বাধার আশঙ্কায় কাঁচা তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব ইউরোপীয় শেয়ারবাজারেও প্রতিফলিত হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি খাতে এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে ইউরোপে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির নতুন চাপ তৈরি হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে।
অর্থনীতির ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশ্লেষক ম্যাথিউ ড্রেসটিয়ার বলেন, “জ্বালানির দাম বাড়লে সরাসরি পরিবহন খরচ এবং উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। এর ফলে খাবার, বিদ্যুৎ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পাবে। এতে ইউরোপীয় ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি হবে এবং ঘরে ঘরে ব্যয় বাড়বে।”
অন্য বিশ্লেষক লুসি বারথোলোমিউ মন্তব্য করেছেন, “যদি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পায়, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মুদ্রানীতি সংশোধন করতে হতে পারে। এর ফলে সুদের হার বাড়ানো হতে পারে, যা ঋণের ব্যয়ও বাড়িয়ে দেবে।”
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, যদিও বর্তমানে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় জ্বালানি মূল্যস্ফীতি দেখা দিচ্ছে না, চাহিদা ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থাগুলো জানাচ্ছে, ইউরোপে মূল্যস্ফীতি ২০২৬ সালের শেষদিক পর্যন্ত ৩ শতাংশের উপরে চলে যেতে পারে যদি বর্তমান দাম ওঠানামা অব্যাহত থাকে।
মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী—যা বিশ্বজুড়ে তেলের প্রধান পরিবহন পথ—এ উত্তেজনা এখনও কাটেনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অঞ্চলে যদি কোনো বড় ধরনের নিরাপত্তা সমস্যা দেখা দেয়, তা তেলের সরবরাহকেও আরও জটিল করবে।
ইউরোপীয় শেয়ারবাজারেও ইতিমধ্যেই জ্বালানি খাতের মূল্যস্ফীতির প্রভাব দেখা যাচ্ছে। কিছু বড় কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে এবং বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদী হয়, তাহলে স্ট্যাগফ্লেশনের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে, অর্থাৎ উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ক্রমহ্রাসমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি একই সময়ে দেখা দিতে পারে।
জ্বালানি ও অর্থনৈতিক খাতে আন্তর্জাতিক এই নতুন বিশ্লেষণ ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে অর্থ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ইউরোপে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা, নতুন মূল্যস্ফীতির চাপ
আব্দুল মোমিত (রোমেল) প্যারিস, ফ্রান্স
অনলাইন
৩ মাস আগে
১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ৯ঃ৩১ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
