অবরোধকারীদের বাধা পেরিয়ে খাগড়াছড়িতে ফেরা সাজেকে পর্যটকের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা

অবরোধকারীদের বাধা পেরিয়ে খাগড়াছড়িতে ফেরা সাজেকে পর্যটকের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা

ফন্ট সাইজ:

পাহাড়ের মেঘ-পাহাড়ের দেশ সাজেক ভ্রমণ শেষে ফেরার পথটি যে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্কের অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়াবে, তা কল্পনাও করেননি ঘুরতে আসা হাজার হাজার পর্যটক। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি অভিমুখে ফেরার পথে উজোবাজার এলাকায় পৌঁছামাত্রই অবরোধকারীদের অতর্কিত ইটপাটকেল ও পাথরের বৃষ্টির মুখে পড়েন তারা। আকস্মিক এ হামলায় নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন পর্যটক আহত হন। তবে শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সাহসিকতাপূর্ণ প্রটোকলে নিরাপদে খাগড়াছড়িতে ফিরেছেন আটকা পড়া প্রায় ৪ হাজার পর্যটক। বৃহস্পতিবার সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি অভিমুখী পর্যটকবাহী চাঁন্দের গাড়ি (জিপ), সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসের বিশাল বহরটি পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়কের উজোবাজার এলাকা অতিক্রম করার সময় এ ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পর্যটকরা জানান, হঠাৎ করেই রাস্তার দুই পাশ থেকে উগ্র মেজাজে ইটপাটকেল ও পাথর ছুড়তে শুরু করে অবরোধকারীরা।

চোখের পলকে একের পর এক গাড়ির কাঁচ চুরমার হয়ে যায় এবং পর্যটকদের চিৎকারে পুরো এলাকা থমথমে হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক তানভীর আহমেদ তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, সাজেক থেকে বেশ আনন্দ নিয়েই ফিরছিলাম। কিন্তু উজোবাজার এলাকায় পৌঁছামাত্রই পাহাড়ি ঢাল থেকে হঠাৎ ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। মুহূর্তে শুরু হয় গোলাগুলি। এর মধ্যে আমাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, আমরা শিশুদের বাঁচাতে গাড়ির মেঝেতে শুইয়ে দেই। কিন্তু সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিক এসে আমাদের চারপাশ ঘিরে নিরাপত্তা না দিলে আজ হয়তো আমরা সুস্থ থাকতাম না। সিলেট থেকে বন্ধুদের সঙ্গে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সানজিদা পারভীন বলেন, দীর্ঘক্ষণ আতঙ্কের মধ্যে অবরুদ্ধ থাকার পর যখন সেনাবাহিনীর টহল দল এসে আমাদের সামনে-পেছনে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে, তখন আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি। সেনাসদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে চার হাজার পর্যটককে নিরাপদে খাগড়াছড়ি পৌঁছে দিয়েছেন।

গাজীপুর থেকে আসা চাকরিজীবী মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ভ্রমণে এসে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবো তা কখনো ভাবিনি। উজোবাজারে এসে উত্তেজিত পরিস্থিতি দেখে এবং গুলির শব্দে সবাই দিগ্বিদিক হারিয়ে ফেলেছিলাম। এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জিপ মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, উজোবাজারের এ হামলায় পর্যটক এবং চালকদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছিল। ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়। বাঘাইছড়ি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেনাবাহিনী সাহসিকতার সঙ্গে সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করে এবং পর্যটককের নিরাপত্তা দিয়ে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেয়। এ হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ সুপার মো. মোরতোজা আলী খান বলেন, বর্তমানে নিরাপত্তার স্বার্থে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িক বন্ধ রেখেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন। সাজেক সড়কের নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে কাজ চলছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভবিষ্যতে খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে নিরাপত্তা বাহিনীর স্কর্ট নিশ্চিত করা হবে।