এনসিপি’র পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি প্রকাশ, নতুন দায়িত্বে হাসনাত-সারজিসরা

ফন্ট সাইজ:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ১৯৫ সদস্যের পুনর্গঠিত কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে। কমিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহকে পদোন্নতি দিয়ে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। আর সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে পদোন্নতি দিয়ে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে। অন্যদিকে আগের কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ নতুন কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সারোয়ার নিভা হয়েছেন যুগ্ম সদস্যসচিব। গতকাল দলের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিটির বিষয়ে জানানো হয়েছে। এই পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে এনসিপি’র সাংগঠনিক কাঠামো থেকে সাতটি পদ কার্যত বিলুপ্ত হলো। এগুলো হলো মুখ্য সমন্বয়ক, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক, মুখপাত্র, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক, সংগঠক ও যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক। তবে পুনর্গঠিত কমিটিতেও আগের মতো দু’জন করে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব থাকছেন। আগের কমিটিতে মুখ্য সমন্বয়ক পদে নাসীরুদ্দীন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক পদে সারজিস, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক পদে হাসনাত, মুখপাত্র পদে আসিফ ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক পদে হান্নান দায়িত্ব পালন করেছেন। আর উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক পদে ৪২ জন এবং যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক পদে ২৩ জন দায়িত্ব পালন করেন।

কমিটিতে ২৪ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক ও ছয়জনকে যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে। আগের কমিটিতে কোনো সম্পাদকীয় পদ ছিল না, তবে পুনর্গঠিত কমিটিতে ৩২টি সম্পাদকীয় পদে ৩২ জনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এর বাইরেও কমিটিতে ১৯ জন সহসম্পাদক রয়েছেন। ৫৮ জনকে কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে। এ ছাড়া কমিটিতে ১১ জনকে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২১৭ সদস্যের কমিটি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল এনসিপি। পরে কমিটিতে কিছু সংযোজন-বিয়োজন হয়েছে। এখন এনসিপি’র কেন্দ্রীয় কমিটিতে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন গত এপ্রিলে দলটিতে যোগ দেয়া অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি এ কে ফ্লোরা ও বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার (তিনি এনসিপি’র ঢাকা মহানগর দক্ষিণেরও আহ্বায়ক)। দু’জনই যুগ্ম আহ্বায়কের পদ পেয়েছেন।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির সাবেক উপদেষ্টা তারেক এ আদেলকেও এনসিপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। তবে কমিটি পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে মূলত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে দলে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান দিলো এনসিপি। দল গঠনের পর, গত জাতীয় নির্বাচনে এবং সামপ্রতিক নানা রাজনৈতিক ইস্যুতে এই নেতাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কমিটি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নেতাদের দক্ষতা (পারফরম্যান্স) বিবেচনায় নেয়া হয়েছে বলে এনসিপি’র দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন। পুনর্গঠিত কমিটিতে শীর্ষ ছয়ে এনসিপি’র আটজন সংসদ সদস্যের মধ্যে তিনজন রয়েছেন। তারা হলেন- আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। দলের অন্য পাঁচ সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, আতিকুর রহমান মোজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ, মাহমুদা আলম মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন।

এনসিপি’র এর আগের কমিটির ১১টি শীর্ষ পদ দলটির নেতৃত্বের ‘সুপার ইলেভেন’ হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে এনসিপি’র পক্ষ থেকে দলটির রাজনৈতিক পর্ষদের ১৬ জন সদস্যকে দলটির নেতৃত্বের ‘সুপার সিক্সটিন’ বলা হচ্ছে। দলটির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদে দলের শীর্ষ নেতৃত্বরা হলেন- মো. নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আব্দুল্লাহ, মো. সারজিস আলম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আবদুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আতিকুর রহমান মোজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, মাহমুদা আলম মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম।