৩১শে অক্টোবর লংমার্চ

ঠাকুরগাঁও নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং হলে মাগুরার পরিণতি ভোগ করতে হবে: ১১ দল

ফন্ট সাইজ:

আসন্ন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট কারচুপি বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার চেষ্টা হলে সরকারকে মাগুরা নির্বাচনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে ১১-দলীয় ঐক্য। একইসঙ্গে দুর্নীতি বন্ধ, প্রশাসনে দলীয়করণ রোধ, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ-পদোন্নতি এবং গুম-খুন ও হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে জোটটি। গতকাল রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১-দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন- কমিটির সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

তিনি বলেন, আগামী ২৯ তারিখ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন। সে নির্বাচনে জনগণ ভোট দেয়ার জন্য, পছন্দের প্রার্থী নির্বাচনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। সেখানে আজকে ১১দলীয় যে প্রার্থী দেলোয়ার হোসাইনের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, এটা আমরা জানি। আগামীকাল সেখানে জনসভা আছে, সেখানে আমরা জনসমুদ্র লক্ষ্য করবো। জনগণ ভোট দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমাদের কাছে নানা ধরনের সংবাদ আছে। আবার সেই ১২ই ফেব্রুয়ারির ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করার পরিকল্পনা হচ্ছে। এ ধরনের যদি কিছু হয়, তাহলে মাগুরা থেকে শিক্ষা নেয়ার জন্য সরকারকে আমরা আহ্বান জানাবো। সরকারের উদ্দেশ্যে ১১দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক বলেন, সরকার যদি ক্ষমতায় থাকতে না চায়, তাহলে আমরা জোর করে তো ক্ষমতায় রাখতে পারবো না। উনাদের প্রতিটি আচরণ মনে হচ্ছে, ছেড়ে দেয়ার অজুহাত তৈরি করে একটু পালিয়ে যায়। এ রকম পরিস্থিতি আপনারাই তৈরি করে দেন, জনগণের কিছু বলার নাই। সে জন্য মাগুরার পুনরাবৃত্তি ঠাকুরগাঁওয়ে এটা আমরা চাই না। এজন্য সাবধান হন, সতর্ক হন। এ ধরনের অসৎ পরিকল্পনা থাকলে ধুয়ে-মুছে ফেলে দেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণ আজ সজাগ এবং জনগণও প্রস্তুত হচ্ছে কীভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ঠেকানো যায়। সেই পথেই আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামবো।

জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ১১ দল আছে, থাকবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত, গণভোটের রাস্তা না হওয়া পর্যন্ত যে ঐক্য হয়েছে, ওই ঐক্য অটুট রেখে আমরা এগিয়ে যাবো। আগামী ৩১শে অক্টোবর লংমার্চ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে জোটের পক্ষ থেকে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে জমায়েত শুরু হবে। সকাল ৮টায় সমাবেশ শেষে যাত্রা শুরু হবে। ঢাকা থেকে শুরু হয়ে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়ায় গিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।
লংমার্চের পথে ছয়টি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে- মাদারীপুর-শরীয়তপুরের নাওডোবা, বাগেরহাটের কাটাখালী, খুলনার বাবরী চত্বর, খুলনার ফুলতলার স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মণিরামপুর মোড় এবং চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড। কর্মসূচির সমাপনী সভা হবে কুষ্টিয়া জেলা হাইস্কুল মাঠে।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, আমাদের এই লংমার্চ হবে শান্তিপূর্ণ, অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং জনবান্ধব। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এটি হবে। এর মধ্য দিয়ে আমরা বার্তা দিতে চাই, সরকার যেন অনতিবিলম্বে জনগণের ভাষা বুঝতে পারেন, দেয়ালের লিখন পড়েন, শিক্ষা নেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- এনসিপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মুয়ায্‌যম হোসাইন হেলাল, এলডিপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী; নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর আব্দুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা; বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান; জাগপা’র মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন; বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।