হাম ও উপসর্গে মৃত্যু পৌঁছালো ২০০ জনে

সিলেটে দ্বিগুণ রোগী ভর্তি

হাম ও উপসর্গে মৃত্যু পৌঁছালো ২০০ জনে

ফন্ট সাইজ:

সিলেটে হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিলে মারা গেছেন ২০০ জন। এটি কেবল একটি সংখ্যা নয়। ২০০ পরিবারের কান্না। হাসপাতালে এসে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীরা মারা যায়। এর মধ্যে কেবল শিশুরাই নয়, সব বয়সী মানুষও রয়েছেন। হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে নার্সেরও। তবু সিলেটে হাম ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে দ্বিতীয় দফা হামের টিকাদান কর্মসূচি শেষের পথে রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সিলেট অঞ্চলে মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। হাতে গোনা কয়েকজন রয়েছেন বয়স্ক রোগী। ক্রিটিক্যাল পর্যায়ে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসার কারণে রোগী মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। হাম রোগীদের জন্য বিশেষায়িত শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল। এ হাসপাতালে হাম রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী হাসপাতালে ভর্তি। একটি বেডে একাধিক শিশু রোগী।

এ হাসপাতালটি হচ্ছে ১০০ শয্যার। অথচ এখানে গতকাল দুপুরে রোগী ভর্তি ছিল ১৬৬ জন। একইভাবে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ার্ড বাড়ানো হয়েছে। দু’টি ওয়ার্ডে ১৭৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। সবমিলিয়ে ৩০টির মধ্যে এসডিইউ ও পিআইসিইউ রয়েছে। গুরুতর রোগী বেশি ভর্তি হওয়ার কারণে আইসিইউ পাওয়া যায় না। গতকাল দুপুরে শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের অভিভাবকদের অভিযোগের অন্ত ছিল না। মানবজমিনকে একাধিক অভিভাবক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোররাত পর্যন্ত রোগী সেবা মিলে না। হাসপাতালের চিকিৎসকদের সংকট থাকে। ডাকলে পাওয়া যায় না। নানা সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তারা। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে হাম উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালকের দপ্তর থেকে এসব তথ্য জানানো হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকালের মধ্যে ওসমানী হাসপাতালে এই তিন শিশুর মৃত্যু হয় বলে সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে এক বছর বয়সী আব্দুল্লাহ আল সাফওয়ান সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার বাসিন্দা শহীদুল ইসলামের ছেলে।

৯ মাস বয়সী জিসান আহমেদ একই জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মকবুল হোসাইনের ছেলে। অপরজন তিন মাস ২৪ দিন বয়সী জায়ান হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা মিজানুর রহমানের ছেলে। চিকিৎসকরা জানান, তারা অপুষ্টিসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল। এদিকে, হাম পরিস্থিতি নিয়ে সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৩২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ৯৪ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে জানান হয়, সিলেটে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারানো ২০০ জনের মধ্যে ১০ জনের ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছিল। বাকিদের হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া, চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় সিলেট বিভাগের ১ হাজার ১১৫ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, হাম উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া শিশুদের বেশির ভাগেরই টিকা দেয়া হয়নি। পাশাপাশি পুষ্টিহীনতা, হৃদ্‌রোগ, নিউমোনিয়া, জন্ডিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল তারা।