‘এলিট ক্লাব’ বলে খ্যাত সিলেট স্টেশন ক্লাবের শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সংঘবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে তারা কঠোর হওয়ার পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আইনি লড়াইয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে আইনজীবীদের পরামর্শের পর। ক্লাবের বর্তমান পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন, ১ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিও ক্লিপটি ক্লাবের মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করেছে। একটি পক্ষ এটি ভাইরাল করে ক্লাবের সুনাম নষ্ট করেছেন। ফলে ভবিষ্যতে ক্লাবের মর্যাদা রক্ষায় তারা এখনই দৃষ্টান্ত গড়ে যেতে চান। সিলেটের এলিট শ্রেণির ব্যক্তিরা এ ক্লাবের সদস্য। স্টেশন ক্লাবকে বলা হয় সিলেটের ঐতিহ্যের স্মারকও। এটি সিলেটে নানা ঘটনার কালের সাক্ষী। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকে এ ক্লাবে নানা ঘটনা ঘটছে। দ্বন্দ্ব কেবল ব্যক্তি স্বার্থ নিয়ে নয়।
কর্তৃত্ব নিয়েও। ক্রমেই সে দ্বন্দ্ব ক্লাবের চার দেয়ালের সীমানা পাড়ি দিয়ে বাইরে এসেছে। আর বাইরে বের হওয়ার একমাত্র কারণ হিসেবে ভাইরাল হওয়া ভিডিওকে দায়ী করা হচ্ছে। গত বছরের নভেম্বরে ক্লাব সদস্য সায়েক খান ও আব্দুল্লাহ আহমদের বাকবিতণ্ডা, হাতাহাতি ও চেয়ার দিয়ে আক্রমণ করার ঘটনা ধারণ করা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আর ভিডিও’র কারণে সিলেট জুড়ে ক্লাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। ইতিমধ্যে ক্লাবের আগের সভাপতি এডভোকেট শাহ মোশাহিদ আলী একটি বিচার করে সায়েক খানকে সাসপেন্ড করেছিলেন। ওই বিচার ক্লাবের গঠনতান্ত্রিক নিয়ম না মেনে করার কারণে বর্তমান কমিটির সভাপতি সায়েকুর রহমান সাক্কুর পরিষদ তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্বিতীয় দফা বিচার করেছেন। এই বিচারে সায়েক খান ও ভিডিও ধারণকারী জাকির আহমদকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। শাস্তি ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়া আব্দুল্লাহ আহমদও। স্টেশন ক্লাবের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, ক্লাবের সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে বর্তমান কমিটি জরুরি সভা করেছে। সভায় ক্লাব সদস্য আব্দুল্লাহ আহমদকে দোষী স্বাব্যস্ত করা হয়েছে। এখনো তার শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। তার একাধিক ভুল রয়েছে। একটি হচ্ছে ক্লাব সদস্য সায়েক খানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। এর আগে তিনি ক্লাবের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা করেছিলেন। গত ৯ই সেপ্টেম্বর আদালত তার মামলা খারিজ করে দেন।
একইসঙ্গে মামলা দায়েরকারী সদস্য আব্দুল্লাহকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এজন্য বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আব্দুল্লাহকে ক্লাবের গঠনতন্ত্র মোতাবেক শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, ভিডিও ধারণকারী ক্লাব সদস্য জাকির আহমদ ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত বক্তব্য দিয়ে নিজের দায় স্বীকার করেছেন। তবে ক্লাবের স্বার্থে তিনি ভিডিও ধারণ করেছেন বলে তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেন। তার কাছে থাকা ভিডিও ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় ক্লাবের মান-সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে কমিটি মনে করে। এ কারণে জাকির আহমদকে ইতিমধ্যে ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এখন ভিডিও ভাইরাল করার বিষয়ে আইনি লড়াইয়ে নামার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য ক্লাবের বর্তমান পরিষদের নেতারা আইনজীবীদের পরামর্শ নিচ্ছেন। তারা জানিয়েছেন, যদি আইনজীবীরা পরামর্শ দেন তাহলে আদালতে ফৌজদারি আইনে মামলা করা হতে পারে। এ ব্যাপারে সিলেট স্টেশন ক্লাবের পরিচালক (অর্থ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, আমরা চাই ক্লাব যেন সংঘবিধিবদ্ধ অনুযায়ী চলে। এতদিন সুনামের সঙ্গে ক্লাব চলেছিল।
বৃহস্পতিবার এ নিয়ে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে। পলিসি গাইডলাইন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভিডিও’র বিষয়ে আইনি পরামর্শ করা হচ্ছে। আর ক্লাব সদস্য আব্দুল্লাহ আহমদ সংঘর্ষে জড়ানোসহ নানা কারণে দোষী স্বাব্যস্ত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শাস্তির বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। সিলেট স্টেশন ক্লাবের সাবেক সভাপতি এডভোকেট শাহ মোশাহিদ আলী জানিয়েছেন, জাকির আহমদ ভিডিও ধারণ করলেও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আইডি থেকে সেটি প্রকাশ পায়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিলে সেটি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, আমি এখন দায়িত্বে নেই। এ কারণে ক্লাবের সব বিষয় নিয়ে এখন আমার কথা বলা ঠিক হবে না। এদিকে সিলেট স্টেশন ক্লাবের বর্তমান সভাপতি সায়েকুর রহমান সাক্কু গত বুধবার মানবজমিনের সঙ্গে ক্লাব বিষয়ে কথা বলার সময় জানিয়েছিলেন, ক্লাবের সম্মানহানিসহ নানা বিষয় নিয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে। ক্লাবের স্বার্থে আরও কঠোর হতে হয় তাহলে তার পরিষদ কঠোর হবে।
