সুনামগঞ্জের হাওরবেষ্টিত শাল্লা উপজেলায় অন্যান্য বছরের তুলনায় আগাম পানি নেমে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। বাংলা আশ্বিন মাসেই হাওরের পানি নেমে যাওয়ায় বোরো আবাদের জমি শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও মাটিতে ফাটল দেখা দেয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে আসন্ন বোরো মৌসুমে চাষাবাদ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণত প্রতি বছর কার্তিক মাসের শুরুতে হাওরের পানি কমতে থাকে। কার্তিকের ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে বীজতলা তৈরির উপযোগী হয়ে ওঠে জমি। এরপর কৃষকরা বীজতলা প্রস্তুত করে ধানের বীজ বপন শুরু করেন। কিন্তু চলতি বছর প্রকৃতির সেই চিরচেনা চিত্র পাল্টে গেছে। আশ্বিন মাসেই হাওরের পানি নেমে যাওয়ায় বীজতলার জমির পাশাপাশি মূল বোরো আবাদের জমিও শুকিয়ে যাচ্ছে।
কৃষকদের ভাষ্য, প্রচলিত কৃষিপঞ্জি ও স্থানীয় অভিজ্ঞতা অনুযায়ী কার্তিক মাসের নির্দিষ্ট সময়ের আগে তারা সাধারণত বীজতলায় ধান বপন করেন না। ফলে জমি প্রস্তুত হয়ে গেলেও বীজ বপনের জন্য আরও প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। এরই মধ্যে জমির প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা হারিয়ে মাটি শক্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, বীজতলা তৈরির আগেই জমি অতিরিক্ত শুকিয়ে গেলে চাষাবাদে বাড়তি সেচের প্রয়োজন হতে পারে।
এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সময়মতো বোরো আবাদ শুরু করাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। হাওরের কৃষিনির্ভর এই উপজেলায় আগাম পানি নেমে যাওয়ার বিষয়টি এখন কৃষকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন তারা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শুভজিৎ রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বছর হাওরের পানি তুলনামূলক আগাম নেমে যাওয়ায় কিছু জমিতে আর্দ্রতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে জমি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে বোরো আবাদে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করে বলা যাবে। কৃষকদের স্থানীয় আবহাওয়া, জমির অবস্থা ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
