আগামী সোমবার জাপান সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপানের বিনিয়োগকারীরা। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৭৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা) বেসরকারি বিনিয়োগ করবে দেশটি। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন শীর্ষ বৈঠকে এ বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দেয়া হবে বলে জানায় নিক্কেই এশিয়া। এই বিনিয়োগের অন্যতম লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং দেশের ওপর চীনের প্রভাব কমানো। বর্তমানে বাংলাদেশের আমদানির শীর্ষ উৎস হলো চীন। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর থেকে বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা খুঁজছে। জাপানি এই বিনিয়োগ মূলত অটোমোবাইল, অন্যান্য উৎপাদন শিল্প এবং জ্বালানি স্থাপনা নির্মাণ খাতে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাপানি ট্রেডিং হাউস সুমিতোমো করপোরেশনসহ বিভিন্ন পক্ষের মাধ্যমে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোনে (বিএসইজেড) এই বিনিয়োগ করা হবে। শিগগিরই জাপানি কোম্পানিগুলোর একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে অর্থনীতি ও বিনিয়োগ নিয়ে একটি সংলাপেরও পরিকল্পনা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে জাপানের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। তুলনামূলক সস্তা শ্রম ও উৎপাদনের অনুকূল পরিবেশের পাশাপাশি ১৭ কোটি জনসংখ্যার এ দেশে রয়েছে বিশাল যুবসমাজ, যা একটি বড় ভোক্তাবাজার তৈরি করেছে। সরকারি উন্নয়ন সহায়তার (ওডিএ) মাধ্যমে জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে সহায়তা করে আসছে। এবার সেই সহায়তার পাশাপাশি দেশটিতে সক্রিয়ভাবে বিপুল বিনিয়োগের আগ্রহ দেখাতে যাচ্ছে টোকিও।
