নামে অভিজাত, সুবিধায় নয়

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা

নামে অভিজাত, সুবিধায় নয়

ফন্ট সাইজ:

১৯০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা। ১৯৮৫ সালে অভিজাত বা প্রথম শ্রেণির মর্যাদা লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি। ১২৩ বছরের পুরনো এই শহরে জনঘনত্ব কয়েকগুণ বেড়েছে, কিন্তু সে অনুযায়ী বাড়েনি সেবার মান। নাগরিক সেবার প্রায় সব সূচক নিম্নমুখী। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাসযোগ্যতায়। প্রথম শ্রেণির মান অনুযায়ী-প্রশস্ত সড়ক, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়কবাতি, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের সুব্যবস্থা থাকার কথা। তবে, অব্যবস্থাপনা আর সঠিক পরিকল্পনার অভাবে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হয়নি। পৌর শহরে যত্রতত্র পড়ে থাকে ময়লা-আবর্জনা। সড়কের পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নাজুক। প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভায় নাগরিকসেবা ও অবকাঠামো ‘তৃতীয় শ্রেণির’। ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সামর্থ্যবান অধিকাংশ মানুষই ‘সেকেন্ড হোম’ গড়ছেন বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে। জানা গেছে, মহানন্দা নদীর তীরে ১২৩ বছর আগে গড়ে উঠেছিল এ শহর।

ধীরে ধীরে জনসংখ্যা বাড়তে থাকায় বড় হতে থাকে শহরের কলেবর। শহরটির আয়তন এখন ২৪ দশমিক ৬০ বর্গ কিলোমিটার। যেখানে সাড়ে ৩ লাখ মানুষের বসবাস। প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১০ হাজার ৩৪৬ জন মানুষ বাস করে। শহরের ২, ৩, ৬, ১৪ ও ১৫ নং ওয়ার্ড এই পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র। সামান্য বৃষ্টিতে ডুবে যায় এসব এলাকার রাস্তাঘাট। ফলে দুর্ভোগে পড়ে পৌরবাসী। পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পরিকল্পিত নগরায়ণের লক্ষ্যে ২০১৭ সালে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে। ৩০৩ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান। এ প্রকল্পে অধীন নতুন সড়ক নির্মাণ, পুরনো সড়ক প্রশস্তকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও পানি সরবরাহ লাইন স্থাপন করা হচ্ছে। পৌরবাসীর অভিযোগ, চার দশক আগে এই পৌরসভা প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পেলেও বাড়েনি সেবার মান। প্রাচীন এই শহর বাসযোগ্যতার একেবারে তলানিতে। ফলে দুর্ভোগ এই পৌরসভার নাগরিকদের নিত্যসঙ্গী। পৌর এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল সড়ক দখল করে কাঁচা পণ্যের বাজার বসানো হচ্ছে। এতে সড়কটিতে যানজট লেগেই থাকছে। শহরের পিটিআই এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাকিব বলেন, পৌরবাসী নিয়মিত কর পরিশোধ করলেও কোনো সুবিধাই পাচ্ছেন না।

পৌরসভা থেকে যে পানি সরবরাহ করা হয় সেটিও লবণাক্ত, ব্যবহার উপযোগী নয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ১২৩ বছরের পুরনো একটি পৌরসভার সড়কের পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নাজুক। পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হলেও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত হয়নি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ মো. ইমরাম হোসাইন বলেন, পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরায়ণের উদ্দেশ্যে ২০১৭ সালে মাস্টারপ্ল্যান’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে বিদ্যমান নাগরিক সমস্যার সমাধানে নানা পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৪০ সালের মধ্যে এ মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে গড়ে উঠবে আধুনিক নগর কাঠামো। অন্য প্রশ্নে এই শহর পরিকল্পনাবিদ বলেন, বিদ্যমান বাস্তবতায় যে পরিকল্পনা করা হয়, সেটি যথেষ্ট নয়। সময়ের সঙ্গে নতুন নতুন চাহিদার জন্ম নেয়। পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন অর রশিদ বলেন, শহরের দীর্ঘদিনের যানজট ও জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে সড়ক প্রশস্তকরণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলতে কাজ করছে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এছাড়া মশার উপদ্রব কমাতে নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে মশকনিধন কার্যক্রম। তবে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলতে জনসচেতনতাও প্রয়োজন।