টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের ধলাপাড়া ইউনিয়নের গাংগাইর ও দেওপাড়া ইউনিয়নের সরাসাক গ্রামের পাশ দিয়ে বইয়ে যাওয়া বংশাই নদীর উপর সেতু না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে দুই ইউনিয়নের ১০ গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার মানুষ। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখানে স্থায়ী পারাপারের কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। দুই ইউনিয়নের ১০ গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখন ছোট একটি খেয়া নৌকা বা অস্থায়ী ভেলা। একটি সেতুর অনুপস্থিতি শুধু মানুষের যাতায়াতকেই ব্যাহত করছে এমন নয়, বরং থমকে দিয়েছে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে। সরজমিন দেখা যায়, উপজেলার ধলাপাড়া ও দেওপাড়া- এই দুই ইউনিয়নের সরাসাক ও গাংগাইর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বংশাই নদীর পাশে সড়ক থাকলেও নদীর উপর কোনো সেতু নেই। ফলে দুই ইউনিয়নের গাংগাইর, সরাসাক, আমজানি, বাদেআমজানি, গোলাবাড়ি, ধলাপাড়া, মলাজানি, জুগিয়াটেংগর, নয়ারহাট, বর্গাসহ ১০টি গ্রামের মানুষকে ওই খেয়া নৌকার উপর ভরসা করে দৈনন্দিন জীবন যাত্রা চলে।
নৌকার অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা এসব গ্রামের মানুষের অপেক্ষায় বসে থাকা প্রতিদিনের চিত্র। এ ছাড়া ভরা বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকায় প্রায় তিন মাস তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসতে পারে না। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম দারুণভাবে ব্যাহত হয়। স্থানীয়রা জানায়, ভোটের আগে অনেকেই প্রতিশ্রুতি দেন সেতু নির্মাণ করে দেয়ার। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। এ অঞ্চলের মানুষের টাঙ্গাইল জেলা সদরে যাতায়াত করতে হয় বিকল্প সড়কে ৪০ কিলোমিটার ঘুরে ঘাটাইল হয়ে। এতে সময়ের অপচয় হয় প্রায় দেড় ঘণ্টা। সরাসাক গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও বংশাই নদীতে সেতু নির্মিত হয় নাই। অথচ প্রতিদিন ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে এই নদীর উপর দিয়ে পারাপার হয়ে যাতায়াত করতে হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরী তাসমিন উর্মি জানান, বিষয়টি তিনি অবগত নন। তবে সরজমিন পরিদর্শন করে জনগণের ভোগান্তি লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।
