ভোলাহাটে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে সার ডিলার নিয়োগ

ভোলাহাটে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে সার ডিলার নিয়োগ

ফন্ট সাইজ:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটের জামবাড়ীয়ায় অস্তিত্বহীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে সার ডিলারশিপ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, যে প্রতিষ্ঠানের নামে ডিলারশিপ দেয়া হয়েছে, এলাকায় সেই প্রতিষ্ঠানের কোনো দৃশ্যমান দোকান বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম নেই। অথচ সরকারি সার ডিলার নিয়োগের জন্য উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি থেকে পাঠানো জেলা কমিটির সুপারিশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তালিকায় স্থান পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘জারা-ফারা এগ্রো’। এর মালিক জামবাড়ীয়া ইউনিয়নের হেলাচী গ্রামের মো. টুটুল মিয়া। স্থানীয়দের দাবি, তার এলাকায় কোনো দৃশ্যমান ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই। এ ছাড়া, তিনি রাজশাহীতে বসবাস করেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করেই তাকে ডিলারশিপ দেয়া হয়েছে।

সরজমিন দেখা যায়, জারা-ফারা এগ্রো নামে কোনো দৃশ্যমান সাইনবোর্ড বা কৃষি উপকরণ বিক্রির কার্যক্রম চোখে পড়েনি। সার সংরক্ষণের গুদাম হিসেবে উল্লেখ করা বড়গাছী বাজারের ঠিকানায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ‘মেসার্স মা ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. আরিফুল ইসলাম লাল্টু। আরিফুল ইসলাম লাল্টুু বলেন, ছয় বছর ধরে টুটুল মিয়ার বাবার কাছ থেকে দোকান ভাড়া নিয়ে আমি ব্যবসা করছি। মান্নু মোড়ের ‘মেসার্স মাহী এন্টারপ্রাইজ’র মালিক মো. মেহেদী হাসান অভিযোগ করে বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে সার ও কীটনাশক বিক্রি করে আসছি। ডিলারশিপের জন্য আবেদন করলে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যরা আমার দোকানে আসেন এবং গুদামঘর মাপজোখ করেন। সবকিছু ঠিক থাকার পরও তালিকায় আমার নাম নেই। জামবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বলেন, আমাদের জানা মতে, তার এলাকায় কোনো দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই। তিনি রাজশাহীতে বসবাস করেন এবং মাঝে মধ্যে এলাকায় আসেন।

জারা-ফারা এগ্রোর ট্রেড লাইসেন্স ও প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা সম্পর্কে জানতে মো. টুটুল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স করে সার ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছি। সার্কুলারে উল্লেখিত নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করেই ডিলারশিপ পেয়েছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখন বাইরে আছি। ফোনে কথা না বলে সামনাসামনি কথা বলবো। উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সুলতান আলী বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে ওই ইউনিয়নের তিনজনের নাম পাঠিয়েছিলাম। মন্ত্রণালয় টুটুল মিয়াকে চূড়ান্ত নিয়োগ দিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ ছাড়া, হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।