নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের দেলিয়াই বাজারে এসএ টিভির সাবেক সিনিয়র রিপোর্টার এস কে সৌরভের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১৫-২০ জনের একটি দল তাঁকে মারধর করে এবং তাঁকে ও তাঁর ভাগিনাকে হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দেলিয়াই বাজারের মধ্যবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী এস কে সৌরভ বর্তমানে ঢাকার একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে কর্মরত। তাঁর ভাগিনা মেহেদী হাসান আবেদ ওমানপ্রবাসী।
সৌরভের বর্ণনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে দেলিয়াই বাজারের রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় তাঁর ভাগিনার গায়ে একটি চলন্ত মোটরসাইকেল লেগে যায়। এ নিয়ে মোটরসাইকেল চালক ও মেহেদী হাসানের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তিনি ও স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেল চালক মেহেদী হাসানের মাকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করেন এবং তাঁকে মারতে উদ্যত হন। এতে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের আলাদা করে দেন এবং মেহেদী হাসানকে বাড়িতে চলে যেতে বলেন। এস কে সৌরভ জানান, ঘটনার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তিনি মোটরসাইকেল চালককে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওই ব্যক্তি তাঁর ওপরও চড়াও হন এবং তাঁকে ধাক্কা দেন।
এ সময় তিনি নিজেকে প্রভাবশালী দাবি করে তাঁর ভাগিনাকে হত্যার হুমকি দেয়। কিছুক্ষণ পর মোটরসাইকেল চালক ফোন করে তাঁর সহযোগীদের বাজারে আসতে বলে। অল্প সময়ের মধ্যে কয়েকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে বাজারে এসে মেহেদী হাসানকে খুঁজতে থাকেন। তাঁকে না পেয়ে বাড়ি ফেরার পথে এস কে সৌরভের পথরোধ করেন ১৫-২০ জন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে এবং তাঁকে ও তাঁর ভাগিনাকে হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে চাটখিল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। বুধবার এসকে সৌরভ থানায় গিয়ে ঘটনার তদন্ত, সুষ্ঠু বিচার চেয়ে অভিযোগ করেছে বলে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে চাটখিল থানা বভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ মানবজমিনকে অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
