ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে আম্পায়ারিং নিয়ে বিতর্ক কমাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মাঠে ড্রোনের মাধ্যমে পুরো ম্যাচের ঘটনা ধারণ করা হবে। পাশাপাশি ক্লাব ও ক্রিকেটারদের চুক্তি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে খেলোয়াড়দের বকেয়া পরিশোধ নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও নিয়েছে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)।
আগামী ১৫ই নভেম্বর শুরু হবে ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লীগ। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি শুরু হওয়ার কথা ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ। এর আগেই এক থেকে দেড় লাখ টাকা দামের কয়েকটি ড্রোন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবি’র। ঢাকা প্রিমিয়ার লীগসহ প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগে
ব্যবহার করা হবে এসব ড্রোন। আগে থেকেই মাঠে ক্যামেরা বসিয়েছে সিসিডিএম। এবার নজরদারি বাড়িয়ে আম্পায়ারদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চায় সংস্থাটি।
তৃতীয় বিভাগ বাছাইয়ে বসুন্ধরা ক্রিকেট একাডেমি’র বিপক্ষে রানআউটের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাঠ ছেড়ে উঠে যায় মিরপুর ওয়ারিয়র্স। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না করলেও আম্পায়ারিং প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছে দলটি। ওই ম্যাচের আম্পায়ারকে পরে আর তৃতীয় বিভাগ বাছাইয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। এসব বিষয়ে সিসিডিএম প্রধান মঈন উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা চাই, মাঠের সব মুহূর্তই যেন ক্যামেরাবন্দি থাকে, যাতে সব ধরনের বিতর্ক এড়ানো যায়। এজন্য আমরা কয়েকটা ড্রোন কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেগুলো পুরো ম্যাচে মাঠে কী কী ঘটনা ঘটে, সেসব ক্যামেরায় ধারণ করবে।’ আম্পায়ার নিয়োগের ক্ষেত্রেও সিসিডিএমের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার উদ্যোগ রয়েছে। মঈন উদ্দিন বলেন, ‘সব আম্পায়ারকে ঢালাওভাবে দোষ দেয়া যায় না। দুই-একটি ভুল হতে পারে। এসব শুধরে নেয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। আমাদের যতজন আম্পায়ারের রিকুইজিশন দেয়া হবে, তাদের কাজের ক্ষেত্রে সিসিডিএমের কাছেও জবাবদিহিতা থাকতে হবে।’ আসন্ন ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে এডিআরএসের মাধ্যমে রিভিউ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে বিসিবি’র। এতে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পাবেন ক্রিকেটাররা। ড্রোন ও ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে অনিচ্ছাকৃত ভুল এবং ইচ্ছাকৃত অনিয়মের মধ্যে পার্থক্য করা সহজ হবে বলে মনে করছে সিসিডিএম। এদিকে, প্রিমিয়ার লীগে দলগুলোর খেলোয়াড়দের বকেয়া নিয়ে প্রতি মৌসুমেই সমস্যা তৈরি হয়।
এ সমস্যা দূর করতে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে
বিসিবি। ক্লাব ও খেলোয়াড়দের চুক্তির বিষয়টিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হচ্ছে। সব ক্লাব এমন করে না। ২০টির মধ্যে দুই-একটি ক্লাবে সমস্যা হয়। চুক্তির কপি থাকলে সিসিডিএম সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবে। তখন কার কতো টাকা পাওনা আছে, সেটির তথ্য সিসিডিএমের কাছে থাকবে। কোনো ক্লাব বকেয়া না মেলালে খেলোয়াড়রাও পরে সেই দলে খেলতে চাইবেন না। এতে দলের পারফরম্যান্স খারাপ
হবে। ফলে ক্লাবটি নিজে থেকেই নিচের দিকে নেমে যাবে। একসময় স্কারটনের ক্ষেত্রে এমনটি দেখা গিয়েছিল।
খেলাধুলায় স্বচ্ছতা আনতে যেসব পদক্ষেপ নেয়া দরকার, সেগুলো নিয়ে সিসিডিএম কাজ করছে। অতীতে কী হয়েছে, তা বিচার করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা তাদের মূল লক্ষ্য। খেলোয়াড়দের বকেয়া চুক্তির বিষয়ে মঈন উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ক্লাব ও ক্রিকেটারদের মধ্যে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে- কোন দল খেলোয়াড়দের সঙ্গে কতো টাকার চুক্তি করলো, সেটির এক কপি সিসিডিএমের কাছে জমা থাকবে। যাতে কেউ কোনো ক্রিকেটারকে টাকা পরিশোধ না করলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি।’
