৩৪ গোলের হার ভুলে ভারতের সামনে বাংলাদেশ

৩৪ গোলের হার ভুলে ভারতের সামনে বাংলাদেশ

ফন্ট সাইজ:

লীগ পর্বে ভারতের কাছে ৩৪ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। স্কোরলাইন ছিল ৪৭-১৩। সেই ভারতের বিপক্ষেই আজ আবার মাঠে নামছে স্বাগতিকরা, তবে এবার লড়াইটা শিরোপার। বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফির ফাইনালে আগের ম্যাচের ভুল শুধরে ভালো খেলাই বাংলাদেশের লক্ষ্য। আজ দুপুর ৩টায় শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভারত।

ফাইনালের আগে গতকাল অনুশীলনে ভারতের দ্রুত আক্রমণ সামলানো এবং বলের দখল ধরে রাখার কৌশল নিয়ে কাজ করেছে বাংলাদেশ। স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার মতে, ভারতের ফাস্ট ব্রেক বা দ্রুত পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে পারলেই ম্যাচে লড়াইয়ের সুযোগ তৈরি হবে। আলোনসো বলেন, ‘আমার চোখে ভারত পুরো ৬০ মিনিট দ্রুত গতিতে খেলার মতো সক্ষম ছিল। আর ফাস্ট ব্রেকে যখন ওরা ছুটে আসছিল, আমরা ওদের আক্রমণ থামাতে পারিনি। তাই আমার কাছে মূল বিষয় হলো ভারতকে যেন ফাস্ট ব্রেকে যাওয়ার সুযোগ না দেয়া হয়।’ ভারতকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল মানলেও আগের ম্যাচের চেয়ে ভালো খেলার আশা ছাড়ছেন না বাংলাদেশের কোচ।

খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে ভারতের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করা সম্ভব বলে বিশ্বাস তার। আলোনসো বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার বিশ্বাস আগের ম্যাচের চেয়ে আমরা আরও ভালো করতে পারবো। আর আমরা ভারতের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করতে পারবো বলেই মনে করি। তাই সেটাই আমার লক্ষ্য- আরও ভালো খেলা এবং নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেয়া।’ ভারতের সঙ্গে ব্যবধান কমাতে রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণেও ভুল কমাতে হবে বাংলাদেশকে। পুরো ৬০ মিনিট মনোযোগ ধরে রেখে খেলার ওপর জোর দিয়েছেন কোচ। এ ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে আরও অনুশীলন ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। আগের ম্যাচের ভুল শুধরে ফাইনালে ভালো খেলার প্রত্যাশা বাংলাদেশের খেলোয়াড় মাসুদা আক্তারেরও।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এই ভুলগুলো সংশোধন করতে পারি, অবশ্যই কালকে ভালো একটা ম্যাচ খেলতে পারবো।’ ভারতকে হারানোর নিশ্চয়তা না দিলেও নিজেদের সেরাটা দিয়ে ভালো ফলের আশা করছেন মাসুদা। তার ভাষায়, ‘আমরা সবাই যদি সবার বেস্টটাতে ট্রাই করি, অবশ্যই একটা ভালো রেজাল্ট করবো। সেকেন্ড ম্যাচে যেমন গোল খেয়েছিলাম আমরা, হয়তোবা তার থেকে একটু কম, কম গোলের ব্যবধানে হয়তোবা কোনো একটা কিছু করা যায়।’ দলের আরেক খেলোয়াড় আছিয়া আক্তারও দলীয় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে সবাই মিলে নিজেদের সেরাটা দিতে চান তারা। ভারতের শক্তিশালী আক্রমণ সামলে রক্ষণে শৃঙ্খলা রাখা এবং আক্রমণে কার্যকর হওয়াই হবে ফাইনালে বাংলাদেশের বড় পরীক্ষা।