সৌম্যের ‘সুযোগ’ কি শেষ হবে না?

সৌম্যের ‘সুযোগ’ কি শেষ হবে না?

ফন্ট সাইজ:

জাতীয় দলের জার্সিতে ব্যর্থতার বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছেন সৌম্য সরকার। শেষ ১০ ওয়ানডে ইনিংসের ছয়টিতে দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি বাঁহাতি এ ব্যাটার। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করেছেন ৯ রান। গতকাল আফগানিস্তানের বিপক্ষে তো রানের খাতাই খুলতে পারেননি। ইয়ামিন আহমেদজাইয়ের বলে বোল্ড হয়ে গোল্ডেন ডাক মেরে ফিরেছেন ৩৩ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার। অথচ একের পর এক ব্যর্থতার পরও জাতীয় দলে সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। প্রশ্ন উঠছে, সৌম্যর এই সুযোগের শেষ কোথায়?
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১২ বছরের ক্যারিয়ারে ধারাবাহিকতার অভাব সৌম্যের পুরনো সমস্যা। ৮৮ ওয়ানডেতে নিজেকে নিয়মিত নির্ভরযোগ্য ব্যাটার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।

মাঝেমধ্যে একটি ভালো ইনিংস খেলেই আবার একাদশে জায়গা ধরে রাখেন। ২০২৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ৯১ রান করার পর পরের ছয় ইনিংসে ফিফটির দেখা পাননি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ওয়ানডেতে করেছেন ৮ ও ১৮ রান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। জিম্বাবুয়ে সফরের প্রথম দুই ওয়ানডেতে করেন ১১ রান। তৃতীয় ম্যাচে ৬৯ রানের ইনিংস খেলে আবারো দলে থাকার সুযোগ তৈরি করেন। কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজে ফিরেছেন সেই পুরনো ব্যর্থতায়। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো মিডিয়াম পেস বোলিং করতে পারায় সৌম্যকে অলরাউন্ডার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করেছেন সাবেক কোচ চন্ডিকা হাতুরুসিংহে। টপঅর্ডারে ব্যর্থতার পর তাকে সাত নম্বরে খেলানোর পরীক্ষাও হয়েছে। তবে তাতে প্রত্যাশিত ফল মেলেনি। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ওয়ানডে দলের বাইরে থাকলেও টি-টোয়েন্টি দলে নিয়মিত ছিলেন তিনি। ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০ রানের ইনিংস খেলে জাতীয় দলে জায়গা করে নেন সৌম্য। ২০১৯ বিশ্বকাপে তামিম ইকবালের সঙ্গে তার উদ্বোধনী জুটি বাংলাদেশকে ধারাবাহিক ভালো শুরু এনে দিতে পারেনি।

২০২৩ সালে ৩০ বছর বয়সে উদীয়মান ক্রিকেটারদের ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপেও খেলেছেন তিনি। অথচ এখনো ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় রয়েছেন এই ব্যাটার। ঘরোয়া ক্রিকেটেও তার পারফরম্যান্স স্বস্তিদায়ক নয়। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে (বিপিএল) দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২টি ডাক রয়েছে সৌম্যের। সর্বশেষ মৌসুমে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে সাত ম্যাচে করেছেন ১৫৯ রান। ২০২৩ সালে ১২ ম্যাচে তার সংগ্রহ ছিল ১৭৪ রান, গড় মাত্র ১৫.৫০। এরপরও ২০২৪ সালে ১২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

টেস্ট ক্রিকেটেও ব্যতিক্রম নন সৌম্য। ১৬ টেস্টে রয়েছে একটি সেঞ্চুরি ও দু’টি ফিফটি। পাঁচ বছর পর টেস্ট দলে ফিরেও গত আগস্টে অস্ট্রেলিয়া সফরে মাঠে নামা হয়নি তার। পরে আবুধাবি টেস্টের একাদশেও জায়গা পাননি। কিন্তু ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে গোল্ডেন ডাক যেন আবারো তার ব্যর্থতার ছবিটাই সামনে আনলো।
একটি ভালো ইনিংসের আশায় আর কতোদিন সৌম্যকে সুযোগ দেয়া হবে? তার অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের বিকল্প নেই। জাতীয় দলে জায়গা ধরে রাখার মানদণ্ড যদি হয় পারফরম্যান্স, তাহলে সৌম্য’র ক্ষেত্রে সেই মানদণ্ড কতোটা কঠোরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে- এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।