কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার তিনটি ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় সেগুলো কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে করে যানবাহন চলাচল নিয়ে সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। সংশ্লিষ্ট স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অধিক মুনাফার আশায় জ্বালানি তেল মজুত করছে, এমন অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার তিনটি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে তারাগুনিয়ার মেসার্স সাগর ফিলিং স্টেশন, আল্লারদর্গার মেসার্স রফিক ফিলিং স্টেশন এবং খলিশাকুণ্ডির মেসার্স হাফিজ ফিলিং স্টেশন বর্তমানে জ্বালানি তেলশূন্য হয়ে পড়েছে। প্রতিটি তেল পাম্পেই নোটিশ টানিয়ে জানানো হয়েছে, ‘তেল নাই, প্রাপ্তি সাপেক্ষে বিতরণ করা হবে’। এদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও পাঁচটি জ্বালানি এজেন্সি রয়েছে। এরমধ্যে, মথুরাপুরে হাসিব, হোসেনাবাদের রিপেল, দৌলতপুর সেন্টার মোড়ে মজনু ও মিরাজ এবং আল্লারদর্গায় কামাল উল্লেখযোগ্য। তবে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে শুধুমাত্র দৌলতপুর সেন্টার মোড়ের মিরাজের এজেন্সি থেকে নির্ধারিত মূল্যে গ্রাহকদের লাইন দিয়ে তেল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। বাকিগুলো তেল না থাকার অজুহাত দেখিয়ে বন্ধ রাখতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব এজেন্সির কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। তবে তারা তা খোলা বাজারে সরবরাহ না করে বেশি দামে বিক্রি করছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি লিটার পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এদিকে অবৈধভাবে মজুত করা তেল পাচারকালে বিজিবি’র তল্লাশিতে প্রায় ২০০ লিটার তেল জব্দ করা হয়। এ বিষয়ে তারাগুনিয়ার সাগর ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী মো. নজরুল ইসলামের বড় ছেলে শাওন বিশ্বাস জানান, গত ৮ই মার্চ সন্ধ্যার দিকে আমাদের পাম্পে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যায়। এর আগে গত ৪ঠা মার্চ বুধবার খুলনার মেঘনা ডিপো থেকে আমরা ৯ হাজার লিটার ডিজেল এবং ৪ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন পেয়েছিলাম। তা এখন সব শেষ। অপরদিকে খলিশাকুণ্ডির হাফিজ ফিলিং স্টেশনের কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে কথা বললে তারাও একই ধরনের তথ্য দেন। এদিকে সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি তেলের পাচার রোধে কঠোর নজরদারিতে রয়েছে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, কিছু এজেন্সির কাছে তেল মজুত রয়েছে, এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। কেউ যদি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দৌলতপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, বন্ধ ফিলিং স্টেশন
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
