সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ১৩ যুবক ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি ছেড়ে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে মাফিয়া চক্রের হাতে গত ২০ দিন ধরে জিম্মি থাকার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারগুলো তাদের শেষসম্বল জমি-জমা বিক্রি ও ঋণ করে মানবপাচারকারীদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল জনপ্রতি ১৩ থেকে ১৪ লাখ টাকা। কিন্তু ইউরোপে পৌঁছানো তো দূরের কথা, তারা এখন লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন। সেখানে গত ২০ দিন ধরে তাদের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিওকলে সেই নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে জনপ্রতি ২৬ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। পরে অনেক অনুনয়-বিনয়ের পর জিম্মিকারীরা ১২ লাখ টাকা করে দিলে তাদের ছেড়ে দেয়ার কথা জানিয়েছে। বাড়ি বিক্রি, জমি বন্ধক ও ঋণ করে টাকা জোগাড় করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে অসহায় পরিবারগুলো। জিম্মিদশায় থাকা যুবকেরা হলো-সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাক ইউনিয়নের নাজিমনগর গ্রামের নূরু মিয়ার ছেলে জীবন মিয়া (২৫), টুনু মিয়ার ছেলে আব্দুল কাইয়ুম (২৬), ফয়জুন নূরের ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৪), শহীদ মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া (২৭), রাশিদ মিয়ার ছেলে আতাউর রহমান (২৮), বাচ্চু মিয়ার ছেলে এনামুল হক (২৬), জলিল মিয়ার ছেলে আতাউর রহমান (২৯), এখলাছ মিয়ার ছেলে আমিনুল ইসলাম (২৫), রাশিদ আলীর ছেলে সফিকুল ইসলাম (৩২) ও আবুল কাশেমের ছেলে নিলয় মিয়া (২২), নুরু মিয়ার বড় ছেলে ইয়াছিন মিয়া (৩০)। এছাড়া উপজেলা সদরের তেলিয়াপাড়ার আবুল হামজা ও সাচনা গ্রামের আবুল কালাম এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া গ্রামের সোহেল মিয়াও একই চক্রের মাধ্যমে লিবিয়ায় গিয়ে জিম্মি হয়েছেন। স্বজনদের অভিযোগ, নাজিমনগর গ্রামের শহীদ মিয়ার স্ত্রী দিলোয়ারা বেগম, তার ছেলে হুমায়ুন কবির এবং তার জামাতা একই উপজেলার কলকতখা গ্রামের নজরুল ইসলামের সঙ্গে ১৩-১৪ লাখ টাকায় প্রতিজনকে ইতালি পাঠানোর মৌখিক চুক্তি হয়েছিল। সব টাকাই পরিশোধ করা হলেও কেউই ইতালিতে পৌঁছাতে পারেনি। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৮শে জানুয়ারি যুবকেরা ইতালির উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন।
প্রথমে আবুধাবি, পরে কুয়েত হয়ে মিসর এবং সেখান থেকে লিবিয়ায় নেয়া হয় তাদের। গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি লিবিয়া থেকে ইঞ্জিনচালিত ছোট নৌকায় করে সাগরপথে ইতালি পাঠানোর আগে একটি চক্র তাদের জিম্মি করে ফেলে। এরপর থেকে প্রতিদিনই ভিডিওকলে নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে।
সফিকুল ইসলামের বাবা রাশিদ আলী বলেন, দ্বিতীয় রোজার দিন ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছিল। এরপর আর কোনো খবর নেই। যাদের স্মার্টফোন আছে, তাদের কাছে ভিডিওকলে দেখিয়ে টাকা চাইছে। জীবন মিয়ার বাবা নুরু মিয়া বলেন, গ্রামের দিলোয়ারা, তার ছেলে ও মেয়ের জামাইকে বিশ্বাস করে টাকা দিয়েছিলাম। এখন ছেলেদের জীবন বিপদের মধ্যে। টাকা নেয়ার পরও তারা ঠিকমতো দালালদের দেয়নি বলেই হয়তো এই বিপদ হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত দিলোয়ারা বেগম বলেন, কয়েকজনকে বিদেশে পাঠানোর কথা স্বীকার করে বলেন, গত রোববার ১২ লাখ টাকা করে দিয়ে সবাইকে ছাড়ানোর কথা ছিল, কিন্তু এখনো ছাড়েনি। জামালগঞ্জ থানার ওসি বন্দে আলী মানবজমিনকে বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি, তবে লোক মুখে শুনেছি এমন একটি ঘটনা ঘটেছে।
ইতালি যাওয়ার স্বপ্নে লিবিয়ায় জিম্মি ১৩ যুবক, পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
