পা ফুলে গেলে কি করবেন?

পা ফুলে গেলে কি করবেন?

ফন্ট সাইজ:

দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে কিংবা পা ঝুলিয়ে রাখলে দুটো পা ফুলে যেতে পারে ,বিশ্রাম নিলে ফোলা কমে যায়। বিশ্রামে থাকা অবস্থায় যদি পা ফুলে যায় -সেটাকে ইডিমা বলা হয়।মানবদেহের টিস্যু বা কলায় অতিরিক্ত পানি জমা হলে ইডেমা হয়।বহু জটিল রোগের প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে।

দুটো পা যখন একসাথে ফুলে যায় এবং আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিলে যদি গর্ত হয়ে যায়,তাহলে নিচের রোগ গুলোর কথা চিন্তা করতে হবে।

১) ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া- উচ্চ রক্তচাপের ঔষধ অ্যমলোডিপিন, ব্যথার ওষুধ,স্ট্যারয়েড, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ইত্যাদি কারন হতে পারে।

২) অন্তঃসত্ত্বা নারী তৃতীয় ধাপে- শেষ তিন মাস পা ফোলা খুবই স্বাভাবিক-- তবে এক্ষেত্রে ব্লাড প্রেসার ও প্রস্রাবে এলবুমিন পরীক্ষা করা জরুরী ।

৩) কিডনি রোগের কারণে পা ফোলা - প্রথমে মুখ ফুলে যায় তারপর শরীরে ফুলে- নেফ্রাইটিস রোগ প্রস্রাবের রং ঘন শর্ষের তেলের মতো, কম প্রস্রাব ও উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়। নেফ্রোটিক সিনড্রোম সমস্ত শরীর ফুলে যায় এবং প্রস্রাবে অত্যধিক এলবুমিন বের হয় ফলে প্রসাব ফেনা ফেনা হয়।কিডনি বিকল হলে প্রথমে মুখে, পরে পায়ে ও বুকে পানি আসে। এসব রোগীর রাতে বেশি বেশি প্রস্রাব, বমি বমি লাগা, খাবারে অরুচি দেখা দেয়।

৪) হার্ট ফেইলুর - উচ্চ রক্ত চাপ, হার্টের রক্ত চলাচলের ব্যাঘাত, হৃদযন্ত্রের ভাল্বের সমস্যা হলে, হার্টের মাংসপেশি দুর্বল হলে -হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা কমে যায় ফলে পায়ে, পেটে, বুকে পানি আসে। এসব রোগীর বুকে ব্যথা, উচ্চ রক্ত চাপ, বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ক্লান্তবোধ, শ্বাসকষ্ট
ইত্যাদি লক্ষণ থাকে।

৫) লিভারের অসূখ -- লিভার সিরোসিস হলে প্রথমে পেটে ও পরে পায়ে ও বুকে পানি জমে । হেপাটাইটিস
ভাইরাস বি ও সি, অতিরিক্ত মদ্যপান, লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে লিভার সিরোসিস হয়। এসব রোগীর খাবারে অরুচি, হলুদ প্রস্রাব, রক্ত বমি ইত্যাদি লক্ষণ থাকে।

৬) অপুষ্টি - পরিমিত খাবার না খেলে, হজম না হলে, খাদ্য নালী থেকে আমিষ বের হয়ে যায় রক্তে
এলবুমিন কমে যায় ফলে শরীরে পানি জমে ।

দু পা ফোলা কিন্তু আঙ্গুল দিয়ে চাপ দিলে গর্ত হয় না --অন্যতম কারণ

১) হাইপোথাইরয়েডিজম - থাইরয়েড গ্রন্থির কাজ কমে গেলে মুখ ও পা ফোলা ,দুর্বলতা ,গলার স্বর পরিবর্তন অন্যতম লক্ষণ । অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে গলগণ্ড, শীত শীত লাগা, মোটা হয়ে যাওয়া,
মাসিকের রক্ত বেশী যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া ইত্যাদি ।





এক পা ফুলে গেলে

১) গভীর শিরায় রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাধা (DVT) হঠাৎ ব্যথার সঙ্গে পা ফুলে শক্ত হয়ে যাওয়া ডিভিটির মূল লক্ষণ। দীর্ঘমেয়াদী শয্যাশায়ী রুগী, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী, যে কোন বড় অপারেশন এর পর যেমন হাঁটুপ্রতিস্থাপন,জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন ইত্যাদি প্রধান কারণ।

২) লসিকা নালীতে ব্লক (লিম্ফ ইডিমা) হলে পা ফুলে যায়।

৩) ত্বকের সংক্রমণ- সেলুলাইটিস (Cellulitis) টিস্যুতে সংক্রমণ হলে পা ফুলতে পারে ।আক্রান্ত স্থানের রং লাল হয়ে যাবে এবং হাত দিলে গরম অনুভূত হবে। পা ফুলে যাওয়া কিন্তু বহু জটিল রোগীর
প্রাথমিক লক্ষণ ।

রোগ নির্ণয়

ডাক্তার রোগীর ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষার পর কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করবেন ।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা রক্ত পরীক্ষা ক্রিয়েটিনিন, এলবুমিন ,লিভার ও কিডনির পরীক্ষা ,থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা,প্রস্রাব পরীক্ষা। আলট্রাসনোগ্রাম, ইকো কার্ডিওগ্রাম, ডপলার ইকো ইত্যাদি
পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করতে হবে।

চিকিৎসা :

১) পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে ঘুমানো।
২) খাদ্যে পানি ও লবণের পরিমাণ কম খাওয়া।
৩) অধিক-ওজনের কারণে ফুলে গেলে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও ব্যায়াম করতে হবে।
৪) অল্প পা ফোলা হলে- অল্পমাত্রার মূত্র-বর্ধক ঔষধ সেবন করতে হবে।
৫) লিভার কিডনি ও হার্টের সমস্যা হলে বেশি ডোজে ডাইউরেটিকস দিতে হবে - পানি ও সোডিয়ামের
পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে ।
৬) হাইপোথাইরয়েড হলে হরমোন রিপ্লেস করতে হবে।
৭) গভীর শিরা রক্তনালী ব্লক হলে অ্যন্টিকোগুলেন্ট ঔষধ দিতে হবে।
৮) টিস্যুতে সংক্রমণ হলে- এন্টি বায়োটিক দিতে হবে।

লেখক
অধ্যাপক ডা. এ. কে. এম. মূসা
মেডিসিন বিভাগ
চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার ,মিরপুর -১০ ,ঢাকা
হটলাইন: ১০৬৭২