প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ রাজশাহী আসছেন। তার আগমন ঘিরে রাজশাহীতে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় যোগ দেয়ার পাশাপাশি শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মসভায় যাবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন রাজশাহীবাসী। সোমবার দুপুরে সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এমপি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে রাজশাহীবাসী প্রস্তুত। অল্প সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি নিতে হলেও রাজশাহীর মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটিই প্রথম রাজশাহী সফর। তার আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ সফরে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে আখ চাষিদের জন্য প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বার্তা দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের এ আগমন রাজশাহীর মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের মধ্যদিয়ে তারেক রহমান দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ সফরে রাজশাহীর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে।
রাজশাহীবাসীর দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বীজ সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, রাজশাহী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা এবং পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি রাজশাহী নগরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিক্ষা নগরী’ ঘোষণা করা। শিল্পমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের উপস্থিতিতে রাজশাহীর উন্নয়নসংক্রান্ত এসব দাবি উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে নেতাদের পক্ষ থেকে।
এদিকে একইদিন মাদ্রাসা মাঠ পরিদর্শন করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে মহানগর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত ও উচ্ছ্বসিত। মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নগরীতে উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। কিছু প্রকল্প সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে রাজশাহীর উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করছেন তিনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সরকারপ্রধান ঢাকার বাইরে শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রাজশাহীতে আসছেন। রাজশাহী সফরের সিদ্ধান্ত নেয়ায় বিএনপি’র চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে মঞ্চ নির্মাণসহ প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি ও অগ্রগতি পরিদর্শন করেন রাজশাহী-৬ আসনের এমপি আবু সাঈদ চাঁদ। এদিন মাদ্রাসা মাঠ পরিদর্শন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান, আরএমপি কমিশনার ফয়েজুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। তারা প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি ও মাঠের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন।
