মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় নিজের ১৩ বছরের মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে পিতার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) তেহসিন ইফতেখার এ রায় ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে হাজির ছিল পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. শাহরিয়ার।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটির মা আশুলিয়া এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং সেখানে বসবাস করতেন। এ সুযোগে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার দক্ষিণ চারিগাঁও আশ্রয়ণ কেন্দ্রে নিজেদের বাড়িতে মেয়েকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করছে পিতা।
২০১৫ সালের ১৯শে জানুয়ারি নিজ বাড়িতে মেয়েকে ধর্ষণের সময় এলাকাবাসী তাকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। ওইদিনই প্রতিবেশী ইউনুস ফরাজী বাদী হয়ে লৌহজং থানায় মামলা করেন। মামলায় আসামির বক্তব্য এবং সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ রায় দেন।
এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আসামি তার নিজ মেয়েকে ধর্ষণ করেছে এবং স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পরে পুলিশে সোপর্দ করেন। এই ঘটনায় আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন। আদালতের রায়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।
