টিকটক ও ফ্রি ফায়ারের টানে ঘরছাড়া কক্সবাজারে উদ্ধার মুন্সীগঞ্জের ৩ শিক্ষার্থী

ফন্ট সাইজ:

টিকটক ও ফ্রি ফায়ারের টানে ঘরছাড়া মুন্সীগঞ্জের তিন শিক্ষার্থীকে কক্সবাজার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার গ্র্যান্ড তাজ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া তিন শিক্ষার্থীর বয়স ১৪ বছর। তারা টিকটক ও ফ্রি ফায়ার গেমের মাধ্যমে পরিচয় ও যোগাযোগের সূত্র ধরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়। তিনজনই শ্রীনগর উপজেলার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে দু’জন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী এবং একজন সপ্তম শ্রেণির মাদ্রাসাছাত্রী। গতকাল রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম। তিনি বলেন, তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও কিছু টাকা নিয়ে যায়।

অন্য একজন বাড়িতে রাখা ৫২ হাজার টাকা, সোনার কানের দুল ও গলার চেইন নিয়ে যায়। মাদ্রাসাছাত্রীটি তার মায়ের চিকিৎসার জন্য রাখা ২৪ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে বাড়ি ছাড়ে। পুলিশ সুপার জানান, গত ১৪ই অক্টোবর ভোরে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ওই তিন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে দু’জন শ্রীনগর উপজেলার উত্তর বালাসুর এলাকার হরেন্দ্রনাথ স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী এবং অন্যজন ভাগ্যকূল এলাকার দারুল উলুম মহিলা মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। নিখোঁজের পরদিন তাদের একজনের মা শ্রীনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুলিশ সুপার আরও জানান, টিকটক ও ফ্রি ফায়ার গেমের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়। ওই কিশোরের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পরে ওই কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, তিন শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারে গেছে। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার গ্র্যান্ড তাজ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। সেখানে তারা নিজেদের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে এবং মিরপুরের ঠিকানা ব্যবহার করে তিনদিনের জন্য ২০ হাজার টাকায় একটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিল। কক্ষ ভাড়া নিতে স্থানীয় এক অটোরিকশাচালক তাদের সহযোগিতা করেন বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষার্থীরা পারিবারিক অশান্তি, বাবা-মায়ের মধ্যে মনোমালিন্য, কঠোর অনুশাসন, নিয়মিত অপমান, তুচ্ছতাচ্ছিল্য এবং স্বাধীনতাহীন জীবনযাপনের অভিযোগ তুলে ধরে। এসব কারণে তারা মানসিকভাবে অতিষ্ঠ হয়ে বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানায়। পুলিশ সুপার আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি আসক্তি ও সেখান থেকে তৈরি হওয়া ফ্যান্টাসিও তাদের এ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের পরিকল্পনা ছিল সীমান্ত পেরিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়ে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা। উদ্ধারের পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।