চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মী তারেক হোসেন বাপ্পি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মো. আরিফ হোসেনসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি রিভলবার, একটি পিস্তল ও একটি দেশি এলজি উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সকালে চট্টগ্রাম নগরের নাসিরাবাদ ২ নম্বর গেট এলাকায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তিনি বলেন, ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অন্য ৫ জন হলো- ফখরুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান, মো. ইফতেখার, আরিফুল ইসলাম জাবেদ ও নুর আহাম্মদ রনি।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১৬ই অক্টোবর রাত পৌনে ১১টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর তিন রাস্তার মোড়সংলগ্ন সড়কে বাপ্পি হত্যার ঘটনা ঘটে। রাতে খাবার খেয়ে বন্ধু ইমনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন বাপ্পি। পথে আগে থেকে অস্ত্র নিয়ে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাদের গতিরোধ করে। পরে দু’জনকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত আরিফ হোসেন আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে বাপ্পিকে গুলি করে। অন্যরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় ইমন পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। গুলির শব্দ শুনে বাপ্পিকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন তাফসির আলম শাওন। হামলাকারীরা তাকেও লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে বাপ্পি ও শাওন গুরুতর আহত হন।
পরে বাপ্পির মৃত্যু হয়।
পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাপ্পির সঙ্গে আরিফ ও তার সহযোগীদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তাদের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বাপ্পি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন। এসব বিরোধের জেরেই বাপ্পিকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, এ ঘটনায় আমরা ৬ জনকে আটক করেছি। ঘটনা ঘটার প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে পেরেছি। ঘটনার মূলহোতাদেরও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের গতকাল আদালতে পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।
