স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ শহিদুল ইসলাম। পাশাপাশি তিনটি কবরে দাফন করা হয়েছে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে। প্রভাষক শহিদুল ইসলামের স্ত্রী লিপি বেগম (২৬), ছেলে রিশাদ মিয়া (১২) ও মেয়ে তুবা (৭) শ্বশুরবাড়ি থেকে অটোরিকশায় ফেরার পথে ধানবোঝাই ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হন। রোববার সকালে উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের চতলাকান্দা গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সড়ক দুর্ঘটনায় শনিবার দুপুরে পাঁচ আরোহী নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন শহিদুল ইসলামের স্ত্রী লিপি বেগম, ছেলে রিশাদ মিয়া ও মেয়ে তুবা। এ ছাড়া যাদুরচর ইউনিয়নের কর্তিমারী বাজার এলাকার বাদল মিয়ার স্ত্রী শরিফা বেগম (৪২) এবং রাজীবপুর উপজেলার মণ্ডলপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম (৪২) নিহত হন। রোববার সকালে নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দুইজনকে দাফন করা হয়েছে।
জানা গেছে, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের পান্তামারী গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন শহিদুল ইসলামের স্ত্রী-সন্তানেরা। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে শনিবার দুপুর ৩টার দিকে বিপরীত দিক থেকে আসা ধানবোঝাই একটি ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান আরও দু’জন। রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের সায়েদাবাদ বাজারের শিবেরডাঙ্গি এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। দুর্ঘটনায় বৃষ্টি খাতুন (২৫) নামে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় কলেজ শিক্ষক একরামুল হক বলেন, শহিদুল ইসলামের দুই সন্তান তার সন্তানের সঙ্গে পড়াশোনা করতো। রিশাদ এবার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল। ক্যাডেট কলেজে ভর্তির জন্য কোচিং করছিল। কিন্তু দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেল। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন শহিদুল ইসলাম। সহকারী পুলিশ সুপার (রৌমারী সার্কেল) রাসেল কবির বলেন, এ ঘটনায় ট্রাক ও অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।
