আইনি জটিলতার অবসান, খুলনা চেম্বার নির্বাচন নভেম্বরে

ফন্ট সাইজ:

একের পর এক মামলার কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসায়ীদের বৃহত্তর প্ল্যাটফরম খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালনা পরিষদ নির্বাচন আটকে ছিল। দীর্ঘ আইনি জটিলতার অবসান হয়ে চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিগত আওয়ামী লীগের আমলে ব্যবসায়ীদের বৃহত্তর এ প্রতিষ্ঠানে কোনো নির্বাচন হয়নি। রাজ পরিবারখ্যাত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল ও শেখ জুয়েলের আশীর্বাদপুষ্ট মনোনীতদের দ্বারা পরিচালিত হতো।

ভোটার তালিকায় নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট পিটিশনটি খারিজ করে দেয়ার পর নির্বাচন বোর্ড এ সিদ্ধান্ত নেয়। আজকালকের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে তারিখ ঘোষণা করা হবে। এর আগে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং যাচাই-বাছাই শেষে গত ১২ই অক্টোবর মামলার চূড়ান্ত রায় ও এর পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করে হাইকোর্ট। গত বৃহস্পতিবার ডাকযোগে কপি খুলনায় এসে পৌঁছায়।

চেম্বার অব কমার্স থেকে জানা গেছে, চলতি বছর ২২শে মে খুলনা চেম্বারের প্রথম দফার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়। প্রথম দফায় ভোটগ্রহণের নির্ধারিত তারিখ ছিল ২২শে আগস্ট। পরবর্তীতে মামলার কারণে তফসিল সংশোধন করে ভোটগ্রহণের পরিবর্তিত নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ই সেপ্টেম্বর। কিন্তু নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করায় গত ২০শে আগস্ট নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচনী বোর্ড।

গত ১২ই অক্টোবর পূর্ণাঙ্গ রায়ে হাইকোর্টের বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী এবং বিচারপতি এএফএম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ উল্লেখ করেন, ‘আবেদনের বিষয় বস্তু ছিল ৮৯৮ জন সদস্যের অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে এবং বিষয়টি ইতিমধ্যে আপিল বোর্ড কর্তৃক নিষ্পত্তি হয়েছে। যেখানে কেসিসিআই-এর ভোটার তালিকা থেকে ৬৯৭ জন সদস্যকে বাদ দেয়া হয়েছে। এর অর্থ হলো, তারা আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। সুতরাং, আবেদনকারীর ক্ষোভের বিষয়টি ইতিমধ্যে নিরসন করা হয়েছে।’ নির্বাচনী আপিল বোর্ড বিতর্কিত ৬৯৭ জন নতুন সদস্যকে বাদ দিয়ে ১ হাজার ৭০৫ জনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করায় আদালত রিটটি খারিজ করে দেন।

খুলনা চেম্বারের বর্তমান প্রশাসক ও খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সাঈদ মো. মনজুর আলম বলেন, উচ্চ আদালত কর্তৃক রিটটি খারিজ হয়ে যাওয়ায় কেসিসিআই নির্বাচন আয়োজনে আর কোনো আইনি বাধা রইলো না। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনী বোর্ডের সঙ্গে বসে ভোটের নতুন তারিখ পুনঃনির্ধারণ করবো। আগামী নভেম্বর মাসে নির্বাচন সম্পন্ন করার সম্ভাবনা রয়েছে।